Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

الحمد لله وكفى وسلام على عباده الذين اصطفى أما بعد!

فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم ، بسم الله الرحمن الرحيم

لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ [المائدة: ۸۲

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: وَعَدَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أُدْرِكْهَا أُنْفِدُ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أَقْتَلُ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ السنن الكبرى للنسائي ٣٠٢/٤

শুরুর কথা: মুসলমানরা আজ চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের শিকার। যেখানেই মুসলমান সেখানেই নির্যাতন। আরাকানে বৌদ্ধরা মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। কাশ্মীরে হিন্দুরা, গাজায় ইহুদীরা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। আমাদের সোনার বাংলাদেশেও শকুনের নযর পড়েছে। হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জঙ্গিবাদি সংগঠন ইসকন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা সরকার প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছে না। এমন অবস্থায় মুসলমানদের কর্মপন্থা ঠিক করার সময় এসেছে। সর্বদিক দিয়ে নিজেদের ইদাদ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করার সময় এসেছে। আজকের বয়ানে আমরা জঙ্গি সংগঠন ইসকনের অপতৎপরতা ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

ইসকনের পরিচয় ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনা মৃত সংঘ। মূলত এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠন। ১৯৬৬ সালে নিউইর্য়কে এটি আত্মপ্রকাশ করে। শ্রীল প্রভুপাদ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। আধ্যাত্মিক সমাজে এটি ‘হরেকৃষ্ণ আন্দোলন’ নামেও ব্যাপক পরিচিত। সাধারন সনাতনী হিন্দুদের সাথে ধর্মীয়ভাবে এদের অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইসকনের অপতৎপরতা শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে তারা মূলত হিন্দুত্ববাদ ও অখন্ড ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে।

এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বংলাদেশে নানান অপতৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক। নিম্নে আমরা তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু অপতৎপরতার কথা তুলে ধরছি,

১. ধর্মপ্রচারের নামে ধর্মান্তকরণ: দেশের পাহাড়ী অঞ্চলের আলাভোলা মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগীতার নামে বে-নামে চাপে ফেলে সরলমনা মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করে থাকে। এধরণের বহু ঘটনা পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। যুগান্তর ২৪ নভেম্বর ২৪ইং

২. প্রতারনা ও হয়রানি: প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুসলিম নারীকে ব্ল‍্যাক মেইল করে নির্যাতন করে থাকে। অনেক সময় চাপে ফেলে বিয়ে করে অন্তরঙ্গ ভিডিও করে তালাক দিয়ে দেয়। অত:পর ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তালাকপ্রাপ্তা নারীকে হয়রানি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চাক্রান্ত করে। আবার অনেক সময় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে মুসলিম নারীদের শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরূপ ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয় বরং তারা পরিকল্পনা করে এসব কাজ করে থাকে। (দৈনিক ইত্তেফাক ২৪ এপ্রিল ২০২৪

৩. মুসলিম সেজে বিয়ে করা: অনেক সময় মুসলিম সেজে মুসলিম নারীদের বিয়ে করার তৎপরতা চালিয়ে থাকে। এধরণের বহু ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেছে। যেমন, রাজশাহীতে ধর্মপরিচয় গোপন করে বিয়ে করেছে হিন্দু চিকিৎসক অর্জুন চন্দ্র চৌধুরী। বিয়ের সাত বছর আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। (ইত্তেফাক ২১ জুলাই ২০২০)

৪. মানবপাচার: অনেক সময় মুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে ভুলভাল বুঝিয়ে কোনভাবে ভারতে নিয়ে যায়। অতপর তাদেরকে যৌন পল্লীতে চড়া দামে বিক্রি করে দেয়। সেইভ আওয়ার সিস্টার ৮৫

আরো পড়ুনঃ ওরাল সেক্স কি? ওরাল সেক্স কি হারাম

 ৫. আত্মসাৎ: অনেক সময় ভুয়া পরিচয় দিয়ে ছলে বলে, কলে কৌশলে মানুষের থেকে টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। ২ মার্চ ২৪ইং খুলনায় ভূয়া বিসিএস ক্যাডার সেজে প্রায় অর্ধশত নারীর সাথে প্রতারণা করে তাদের গহণা ও অর্থ হাতিয়ে নেয়। সেইভ আওয়ার সিস্টার ৯৮

৬. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি অনেক সময় ছদ্মনামে আইডি খোলে নারীদের সাথে সম্পর্ক করে তাদের ব্ল‍্যাক মেইল করে থাকে। এমনকি তারা এসব প্রতারণার ক্ষেত্রে মাদরাসার ছাত্রীদের টার্গেট করে কাজ শুরু করেছে। সেইভ আওয়ার সিস্টার ৯৯

৭. কৃত্রিমভাবে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা: অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের মন্দিরে হামলা করে মুসলিমদের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে। এমন অনেক ঘটনা তারা সাজিয়ে থাকে। )যুগান্তর ৬ ফেব্রুয়ারী ২০(

যেসব দেশে ইসকন নিষিদ্ধ

মুহতারাম হাযিরীন! তাদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের অনেক দেশে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক দেশে তাদের কার্যক্রম নজরদারীতে রয়েছে। যেমন, সিঙ্গাপুরে দেশ গঠনের শুরুতেই উগ্রবাদী ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হয়। এখনো সেখানে ইসকন নিষিদ্ধ। এছাড়া ইসকন চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া নিষিদ্ধ। তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানে ইসকনের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জারি রয়েছে।)উইকিপিডিয়া (

বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম

মুহতারাম হাযিরীন! বাংলাদেশে এই উগ্রবাদি সংগঠন এত এত অপকর্ম করে যাচ্ছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের যোগসাজশে তাদের ভীত যথেষ্ট মুজবুত করে ফেলেছে শাহজালালের এই পূণ্য ভূমিতে। যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। মুসলমানদের উপর গায়ে পড়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মুসলমানগণ তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে না। কিন্তু ইদানিং ইসকনের জঙ্গিবাদী আচরণের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আমাদের দেশে পরিচালিত তাদের ভয়ঙ্কর কিছু কার্যক্রমের কথা তুলে ধরছি,

১. মসজিদে হামলা ও আদালত প্রাঙ্গণে হত্যাকাণ্ড: এই উগ্রপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠি কিছু দিন আগে আমাদের জাতীয় পতাকার উপর গেরুয়া পতাকা টানিয়ে জাতীয় পতাকাকে অপমানিত করেছে যা রাষ্টদ্রোহের শামিল। এই অপরাধে ইসকনের প্রধান চরিত্রহীন চিন্ময়কে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রামের আদালতে তাকে হাজির করা হবে জেনে ইসকনের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে সেখানে হাযির হয়। প্রসাশনের হাত থেকে চিন্ময়কে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তারা মসজিদে হামলা ও ভাংচুর চালায়। তাদেরকে একদল আইনজীবি বাঁধা দিলে সাইফুল ইসলাম আলিফকে সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে জবাই করে হত্যা করে।

২. আয়শমণিকে অপরহণ করে ধর্ষণ: এই জঙ্গিবাদি সংগঠন মাদরাসার দীনদার ছাত্রীদের টার্গেট করে একেরপর এক মুসলিম মেয়েদের ইজ্জত নষ্ট করার নানান চক্রান্ত করছে। বিভিন্নস্থানে গোপন আস্তানা গেড়ে মুসলিম মেয়েদের জোরপূর্বক সেখানে নিয়ে ধর্ষণ করছে। কিছু দিন আগে যাত্রাবাড়ীর এক গোপন আস্তানা থেকে ৩০জন মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি গাজিপুরের ঘটনা আমাদের সবার জানা। মাদরাসা শিক্ষার্থী আয়শামণিকে অপহরণ করে নিয়ে গণধর্ষণ করে এই জঙ্গিবাদি সংগঠনের সদস্য বিজয় দাশের নেতৃত্বে। প্রশাসন দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলা নিতে তালবাহানা করে। শেষপর্যন্ত ঘটনাটি সবার জানাজানি হয়ে পড়লে মামলা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই প্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও আমাদের বোন আয়শামণি এখানো বিছানায় কাতরাচ্ছে।

৩. মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজিকে গুম করে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন: আয়শামনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর টিএনটি বাজার মসজিদের মিম্বর থেকে অপরাধীর শাস্তি দাবি করায় বয়োবৃদ্ধ আলেমেদীন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজিকে চিঠি দিয়ে গুম করার হুমকি দেয় ইসকনের জঙ্গিরা। শেষ পর্যন্ত তাকে ইসকনের পাঁচজন সদস্য টঙ্গী থেকে গুম করে। মাথা, পেট, পিঠসহ সারা শরীরে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। পঞ্চগর সীমান্তে নিয়ে হাতে, পায়ে শিকল পড়িয়ে ২৪ ঘন্টা যাবৎ চালায় তার উপর চরম নির্যানত ও নিপীড়ন। অবশেষে বিবস্ত্র অবস্থায় সীমান্তের কাছে ফেলে রাখে।

৪. বুয়েটে ধর্ষণ: বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি শ্রীশান্ত রায় নামের এক জঙ্গি কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রসাশন শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অন্দোলনের মুখে অপরাধীকে গ্রেফতার করে।

৫. কুরআন অবমাননা: কিছুদিন আগে নর্থ সাউথ ইউনিভর্সিটিতে অপূর্ব পাল নামক এক জঙ্গি পবিত্র কুরআনকে অবমনানা করেছে, কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে পদদলিত করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। এভাবে একের পর এক এই জঙ্গিগোষ্ঠী মুসলমান ও দীনদার, দেশপ্রেমীদের টার্গেট করে তাদের মিশন-ভিশন তথা হিন্দুত্ববাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছে। এরা আমামের দেশ, জাতি ও সার্বভৌত্বের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি।

আমাদের করণীয় আমাদের করণীয় কিছু দিক নির্দেশনা নিম্নে তুলে ধরা হলো,

১. মুসলিম নারীর সম্ভ্রমহানির বদলা নিতে নবিজির সিরাত: কোন মুসলিম নারীকে কোন অমুসলিম যদি শ্লীলতাহানি করে, বা ধর্ষণ করে বা অন্যায়ভাবে ভিন্ন ধর্মের কেউ যদি কোন মুসলিমকে হত্যা করে তাহলে এর পরিণাম বা বিচার কি হবে তা স্পষ্ট আমরা নবিজির সিরাত থেকে নিতে পারি।

 এ সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি,

ক. মুসলিম নারীর ইজ্জত রক্ষায় নবিজির যুদ্ধের ঘোষণা: হিজরতের পর মদীনার এক ইহুদী গোত্র বনু কায়নুকার কয়েকজন মিলে একজন মুসলিম নারীকে বিবস্ত্র করে তাকে শ্লীলতাহানি করে। একদিকে প্রতিবাদে একজন মুসলিম এগিয়ে আসায় তাঁকে হত্যা করেছিল এই ইহুদীরা। এ ঘটনায় রাসূল মুসলিম বাহিনী নিয়ে পুরো বনু কায়নুকা গোত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্মসমর্পণ করে। অবশেষে নবীজি তাদেরকে মদীনা থেকে বের করে দেন।

খ. মুসলিম হত্যার বদলা নিতে নবিজির সিরাত: হুদাইবিয়ার সন্ধির আগে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, أن عثمان قتل “উসমানকে হত্যা করা হয়েছে”। শুধু একজন মুসলিমের রক্তের প্রতিশোধ নিতে রাসূলুল্লাহ তখন তাঁর সাহাবী (রাযিআল্লাহু আনহুম)-দের কাছ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করার শপথ নেন।

ইতিহাসে এ ঘটনা বাইআতুর রিদ্বওয়ান নামে প্রসিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাযিল করে যে বাইআতের কথা জানিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

{لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا} [الفتح: ١٨] “নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি খুশি হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে তোমার কাছে বায়আত হয়েছে। তাদের অন্তরে যা ছিল সে সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন। তাই তিনি তাদের উপর অবতীর্ণ করলেন প্রশান্তি এবং পুরস্কার স্বরুপ তাদেরকে দান করলেন আসন্ন বিজয়” সুরা ফাতহ, ১৮।

গ. মু’তার যুদ্ধের আগে গাসসান গোত্র যখন বসরায় পাঠানো রাসূলুল্লাহ-এর দূতকে হত্যা করে, তখন তিনি এক সেনাবাহিনী পাঠান। তিনি জানতেন যে, এ এক অসম যুদ্ধ হবে। কাফিরদের সংখ্যা ছিল অনেক অনেক বেশি। রাসূলুলুল্লাহ তবুও মুসলিম বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন। কারণ, একজন মুসলিমের জীবনের গুরুত্ব এবং একজম মুসলিম আক্রান্ত হলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, তার দৃষ্টান্ত পুরো পৃথিবী এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্যে তিনি রেখে গেছেন।

ঘ. মা’আন অঞ্চলের গর্ভনর ফারওয়া বিন আমর আল জুদানী খ্রিষ্ট ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তাঁকে হত্যা করে রোমানরা। এই হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মৃত্যুর আগে রাসূলুল্লাহ উসামা বিন যায়েদ রাযি-এর নেতৃত্বে বাহিনী প্রস্তুত করে রেখে যান। একই ধবারাহিকতায় মুহাম্মদ বিন কাসিম সুদূর হেজাজ থেকে শত শত মাইল পেরিয়ে এক মুসলিম বোনের ইজ্জতের হিফাজত করার জন্য সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। একই দাবি নিয়ে শাহজালাল মুজাররাদে ইয়ামানি সেই ইয়ামান থেকে গৌরগোবিন্দের নির্যাতনের কবল থেকে মুসলমানদের উদ্ধার করতে সিলেটে এসেছিলেন। এধরণের আরো বহু নযীর ইতিহাসে পাওয়া যায়।

এখনও পর্যন্ত আমরা আইন হাতে তুলে নিচ্ছিনা। আমরা চাই, অল্প সময়ের মধ্যে আয়শমনির ধর্ষক ও আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হোক। এবং মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজিকে যে চক্র গুম করে অমানবিক নির্যাতন করেছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের আইনের আওয়াতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠন ইসকনকে বাংলাদেশে স্থায়িভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। অন্যথায় দেশে চরম অস্থিরতা তৈরি হবে। তাই অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে বলবো অতি দ্রুত ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করুন এবং গেরুয়া এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করুন। তা নাহলে দেশে যেকোন ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

10 Best Gemini prompts template

আমাদের নিজেদের মধ্যে ছোট বড় সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য গড়া: নিজেদের অধিকার এবং শক্তিমত্তা প্রতিষ্টিত করতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। এজন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلَا تَفَرَّقُوا

“তোমরা আল্লাহর রশিকে (তাঁর দীন ও কিতাবকে) দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো এবং পরস্পরে বিভেদ করো না।” সূরা আল ইমরান ১০৩

وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ

 “তোমরা তাদের (ইহুদী নাসারার) মতো হয়ো না, যাদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশনাবলী আসার পরও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ও আপসে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল।” সূরা আল ইমরান ১০৫

وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ 2 وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ}

 করবে না অন্যথায় তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।” সূরা আনফাল ৪৬। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إِنَّ الْمُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشْدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا

“একজন মুমিন আরেকজন মুমিনের জন্য ইমারত স্বরূপ। যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে”। সহীহ বুখারী ৪৮১ ৩.

শক্তিশালী ইসলামী মিডিয়া গড়ে তোলা: ইসলামী শক্তিশালী কোন মিডিয়া না থাকার কারণে তিলকে তাল বানিয়ে, নিজেদের অপরাধ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে ভুলভাল সংবাদ প্রচার করছে। আপনারা শুনে আবাক হবেন শহিদ আলিফ হত্যার বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রতিবেদন লিখে ছিল ‘চিন্ময়ের পক্ষের আইনজীবিকে আদালত প্রাঙ্গণে জবাই করে হত্যা’। ইদানিং আয়মণিকে ধর্ষণের ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে কোন কোন মিডিয়া প্রেমের মিথ্যা কাহিনী সাজিয়ে ভিক্টিমকে অবরাধী বানানোর চেষ্ট করছে। এমন নির্জলা মিথ্যা কথা বিশ্ব ব্যাপী তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী মিডিয়া থাকলে তারা ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পেত না।

গজওয়াতুল হিন্দদের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা: আল্লাহর নবিজির সেই ভবিষ্যতবাণী তথা গাজওয়াতুল হিন্দের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «وَعَدَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أُدْرِكْهَا أُنْفِدُ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلُ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ. السنن الكبرى للنسائي ٤ / ٣٠٢

“আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গাযওয়াতুল হিন্দের ওয়াদা করেছেন। আমি তা পেলে তাতে আমার জান ও মাল উৎসর্গ করে দিব।

যদি শহিদ হয়ে যাই তবে আমি উত্তম শহিদ হব। আর যদি ফিরে আসি তবে আমি আবু হুরায়রা (জাহান্নাম) থেকে মুক্ত”। আস-সুনানুল কুবরা লিননাসায়ী ৪৩৮২

অন্য হাদিসে এসেছে আবু হুরাইরা রাযি. বলেন,

حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: “

يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْثُ إِلَى السَّنْدِ وَالْهِنْدِ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ، وَإِنْ أَنَا فَذَكَرَ كَلِمَةً رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النار “

 “ আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, এ উম্মাহর একটি দল সিন্দ ও হিন্দের দিকে যাবে। আমি তা পেয়ে শাহাদাত বরণ করলে সেটিই কাম্য। আর আমি যদি (তারপর কিছু শব্দ উল্লেখ করলেন) ফিরে আসি তো আমি আবু হুরায়রা মুক্ত। আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন”। মুসনাদে আহমাদ ২২৪৪৯।

ইসলাম ও মুসলামানদের শত্রুদের সাথে কোন সম্পর্ক না রাখা: দেশ, জাতি, দীন- ইমান রক্ষার জন্য আমাদের কর্তব্য হলো, ইসলামের শত্রুদের সাথে গোপন বন্ধুত্ব বর্জন করা। ইসলাম এ বিষয়টিতে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি নিজের পিতা-মাতাও যদি ইসলামের শত্রু হয়ে যায় তাহলে তাদের সাথেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করা যাবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ } [التوبة: ٢٣

“হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইয়েরা যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, তবে তাদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিও না।” সূরা তাওবা ২৩ ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু কারা, তাদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো, ইহুদী ও মুশরিক সম্প্রদায়। এর পরের স্তরের শত্রু হলো, নাসারা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

{ لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى}

“তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইহুদীদেরকে এবং মুশরিকদেকে আর বন্ধুত্বের নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে” সূরা মায়োদা ৮২

মুহতারাম হাযিরীন! আমাদের এই দেশে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজমান। শান্তি প্রিয় মুসলিম জাতি কোন সময় আগে বেড়ে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করেছে এর কোন নযির নেই। অনেক সময় হিন্দুত্ববাদ কায়েমের লক্ষে তারা গায়ে পড়ে মুসলমানদের সাথে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু মুসলমানরা কোন সময়ই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি।

শেষকথা: আমাদের উচিত সব ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। সাধ্যমত ইদাদ গ্রহণ করে নিজেদের প্রশিক্ষিত জনশক্তি রূপে গড়ে তোলা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শেষ যামানার ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। ইসকনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার দাওফিক দান করুন। আমিন।

👁️ পড়া হয়েছে: ১৬ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।