Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

ইসলামীক পদ্ধতিতে বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

আপনি যদি কোন স্কুল অথবা মাদরাসার শিক্ষক হয়ে থাকেন।তাহলে আপনার জন্য বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম জানা আবশ্যক। বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম না জানা থাকার কারণে অনেক সময় বাচ্চাদের শাসন করতে গিয়ে তাদের উপর জুলুম করে থাকেন।

আপনি যদি মনোযেগ সহকারে এ প্রবন্ধটি পড়েন তাহলে বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম জানতে পারবেন। তাহলে চলুন প্রবন্ধটি পড়া শুরু করি।

বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম নেইশরীয়ত এটা আপনাকে অনুমতি দেয়নি।  হাত দিয়ে মৃদুভাবে শাসন করা যায়। কিন্তু তা-ও একসাথে তিনবারের বেশী জায়িয নয়।

এ ব্যাপারে হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে–

 

قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني

 

হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন) উদ্দেশ্য করে বলেন–“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)

আরও পড়ুনঃ নারী পুরুষের নামাজের পার্থক্য কি কি

তেমনি ফাতওয়ার কিতাবে এরকমই বলা হয়েছে। দেখুন, হাশিয়া-ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতারের ইবারত–

 

قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)

 

“দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–” بید“ (শিষ্টাচারের জন্য মা-বাবা সন্তানদেরকে হাত দ্বারা মামুলীভাবে প্রহার করতে পারেন,) এক্ষেত্রে উল্লেখ্য হলো– সেটা তিনের বেশী হতে পারবে না। তেমনি শিক্ষকের জন্য জায়িয হবে না তিনবারকে অতিক্রম করা। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–

 

“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” এ হাদীসটি ইসমাঈল (রহ.) আল্লামা আস্তুরুশনী (রহ.)-এর “আহকামুস সিগার” কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এ হাদীসের বাহ্যত নির্দেশনা হলো–নামায ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রেও বেত বা লাঠি দ্বারা প্রহার করা যাবে না।

বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম
            বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

এভাবে দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–”لا بخشبة“ (লাঠির দ্বারা নয়।) এখানে লাঠি বলতে ব্যাপক মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তাই লাঠি বা দোররা ইত্যাদি যে কোন জিনিস দ্বারা প্রহার করা নিষিদ্ধ হবে। (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা)

সেই সাথে এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া রয়েছে। তার লিঙ্ক নিম্নে প্রদত্ত হলো–

দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া

 

দেওবন্দের উক্ত ফাতওয়ার অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হলো-

 

শিরোনাম : ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়?

প্রশ্ন-১ :

তালিবে ইলমীর যমানায় দেখতাম, আমাদের শিক্ষক মহোদয় ছাত্রদেরকে খুব পেটাতেন। চামড়ার বেল্ট, হিটারের তার ও বেত দ্বারা প্রহার করতেন। আর এ ব্যাপারে বলতেন–শরীরের যেখানে উস্তাযের আঘাত লাগে, সেই স্থানে দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। এ কথা কতটুকু সঠিক?

প্রশ্ন-২ :

ছাত্রদেরকে এভাবে যবরদস্তি করে পিটিয়ে অথবা জিঞ্জিরে বেঁধে শাস্তি দেয়া (ঐ ইলম শেখানোর জন্য যা ফরজে কিফায়াহ)–এটা কি জায়িয হবে?

উল্লিখিত প্রশ্ন দু’টির দলীল-প্রমাণ ও বিচার-বিবেচনাভিত্তিক জবাব প্রদান করে বাধিত করে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন। এটা বড় ইহসান হবে।

বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম
বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

দারুল উলূম দেওবন্দের উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআন, হাদীস ও নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে আমরা এ কথা পাইনি যে, ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। বরংহযরত নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন)

উদ্দেশ্য করে বলেন–

إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک

“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড,  ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)

ফিকাশাস্ত্রবিদগণ এই হাদীসের আলোকে বলেছেন, শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য উস্তাদ হাত দ্বারা হালকা-মোলায়েমভাবে বাচ্চাদেরকে মারতে পারবেন। কিন্তু এক‌ সময়ে তিনবারের বেশি মারবেন না এবং বেত, লাঠি, ডান্ডা, কোড়া ও চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে কখনো মারবেন না। শরীয়তে তার অনুমতি নেই।

আরও পড়ুনঃ  ওয়াইফাই ও ব্রডব্যান্ড এর ব্যবসা করা কি জায়েয?

চাই সেটা ফরজে আইনের ইলম হোক বা ফরজে কিফায়াহ পর্যায়ের ইলম হোক। তেমনিভাবে মা-বাবাও শিষ্টাচারিতার জন্য সন্তানদেরকে শুধু হাত দ্বারা হালকা-পাতলা শাসন করতে পারেন। কিন্তু বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে মারতে পারবেন না।

সুতরাং মক্তব ও মাদরাসাসমূহের কিছু উস্তায যে, ছাত্রদেরকে জিঞ্জিরে বেঁধে নির্দয়ভাবে মারেন, অথবা বেত, লাঠি, চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে মারা কিছুতেই জায়িয হবে না।

উস্তাযগণের জন্য এত্থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র স্নেহ ও মহব্বতের মাধ্যমে তা‘লীম দেয়া কর্তব্য। অথবা হালকা-পাতলা-মামুলী প্রহার বা শাসনের উপর ক্ষান্ত করা উচিত।

قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔

প্রিয় পাঠক, আশারছি

বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম

সম্পর্কে  ইসলামীক ধারনা পেয়ে গেছেন। সুতরাং অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে পাঠদান করুন। এবং ইসলামীক বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম জেনে তাদের শাসন করুন। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

👁️ পড়া হয়েছে: ১৬ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আরাফাহ দিবস কী? আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আমরা কেন আরাফাহ দিবসে রোজা রাখি?

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার সময় বলা যায়: কোরবানি করার আদবসমূহ কোরবানি করার

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম: Mufti Rejaul Karim

সূচিপত্র লুকান কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম কুরবানীর গোস্ত তিন ভাগ করে বন্টন করা কী জরুরী? প্রশ্ন: আমার স্বামী বিদেশে আছেন এবং তাঁর মা আমার সাথেই

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম: একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

সূচিপত্র লুকান বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে ৫ই মে ২০১৩ একটি অবিস্মরণীয় এবং একইসাথে বেদনাবিধুর দিন। শাপলা চত্বরের ইতিহাস বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার

সূচিপত্র লুকান মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার এবার আসুন মুফতি রেজাউল করিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। মুফতি রেজাউল করিম

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

সূচিপত্র লুকান পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র কেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করবেন? পুঁজি ছাড়া ব্যবসার ৩টি মূলমন্ত্র

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।