মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে গমন নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে। এবার আসুন কুরআন সুন্নাহের আলোকে জেনে নেই।
মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে গমন
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নারী ও পুরুষ করে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিগত ভাবে নারীকে করেছেন কোমল ও সুন্দর। দৈহিক শক্তির দিক থেকে সাধারণত পুরুষ থেকে করেছেন দুর্বল। আর যেহেতু আল্লাহ তায়ালা কারো শক্তি ও সামর্থের বাহিরে কোন বিধান চাপিয়ে দেন না। তাই নারী ও পুরুষের বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে ও তাদের সৃষ্টিগত পার্থক্য থাকায় তাদের শক্তি, সামর্থ, জান, মাল ও স্বতীত্বের নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে নারী ও পুরুষের বিধানে পার্থক্য করেছেন। নারীর স্থান ঘর বা পর্দা বেষ্টিত স্থানে নির্ধারণ করেছেন। আর বাহিরের কোন বিধান দিলে তার জন্য মাহরাম পুরুষ বা স্বামীর উপুস্থিতি শর্ত করেছেন। কারন একজন মহিলা বাড়ির বাহিরে একজন দুষ্ট পুরুষের হাত থেকে তার স্বতীত্ব হেফাজত করার ক্ষমতা রাখেনা। আর কোন নারীর জান, মাল বা স্বতীত্ব অন্যের হাতে লুন্ঠিত হোক এটা মহান আল্লাহ চান না।
তাই নারীর জন্য বাড়ির বাহিরের কোন কাজ সাধারনত ওয়াজিব বা ফরজ করেন নি। আবার সরাসরি হারাম না করলে ও যেটা আল্লাহ ও তার রসুল অপছন্দ করতেন তা কথা ও কাজের মাঝে ইশারা-ইংগিতে অথবা সে কাজের বিপরীত কাজের ফজিলত বর্ণনা করার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যেমন- ঈদ, জুম্মা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মসজিদ বা ঈদগাহে হাজির হওয়াকে ওয়াজিব করা হয়নি; বরং বিপরীত আমলের ফজিলত বলার মাধ্যমে জামাতে হাযির হওয়া আল্লাহ ও তার রসুলের অপছন্দ তা প্রকাশ করেছেন। আর মহিলা সাহাবীগন যারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন তারা নিষেধ করার অপেক্ষা না করে আল্লাহ ও তার রসুলের পছন্দনীয় কাজ কে বেছে নিয়েছেন। আর যারা তখনও গ্রহন করেন নি পুরুষ সাহাবাগন উক্ত কাজে মহিলদেরকে বাধ্য করে আল্লাহ ও তার রসুলের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক যুগে লোক সমাগম বেশি দেখানোর জন্য মহিলাদের কে বাহিরে আসার নির্দেশ দিলেও পরে তা নিষেধ করেছেন বা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নিচের আলোচনা গুলো লক্ষ্য করলে সেটা স্পষ্ট বুঝে আসবে।

হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম প্রথমে মহিলাদের কে ঈদের জামাতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এমন কি মাসিক গ্রস্ত মহিলাকেও ঈদের জামাতে হাজির হওয়ার নির্দেষ দেন।
দলীল নং-১ঃ- হযরত উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আমাদের কে কুমারী ও পর্দানশীন মহিলাদের কে দুই ঈদের নামাজে যেতে আদেশ করেছেন। বর্ণনা কারী বলেন, এমন কি মাসিক গ্রস্ত মহিলারাও বের হবে, তবে তারা পুরুষদের পিছনে দাড়াবে এবং সকলের সাথে দোয়ায় শরিক হবে। (মুসলিম শরীফ, ঈদের নামাজ , হাদিস নং-১৯২৭)
প্রথমে মাসিক গ্রস্ত মহিলাদেরকে আসা ও পিছনে অংশ গ্রহনের নির্দেশ দিলেও পরে নিষেধ করেন।
দলীল নং-২ ঃ- হযরত উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বালেগ ও পর্দানশীন মহিলাগন কে দুই ঈদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হত। আর মাসিক গ্রস্ত মহিলাদের কে মুসলিমদের ঈদগাহ থেকে দুরে থাকতে বলা হত।
(মুসলিম শরীফ, ঈদের নামাজ , হাদিস নং-১৯২৬)
জুম্মার নামাজ মহিলাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
দলীল নং-৩ ঃ- হযরত তারিক ইবনে শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, জুম্মার নামাজ চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মোসলমানের জন্য জামাতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। আর সেই চার প্রকার মাানুষ হচ্ছে-১.ক্রীতদাস, ২.নারী, ৩.শিশু ও ৪.অসুস্থ ব্যাক্তি।
(আবু দাউদ শরীফ, জুম্মার নামাজ, হাদিস নং-১০৬৭। হাদিসটি সহীহ। এমন কি কথিত লা-মাজহাবীদেরস্বস্বীকৃত ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী ও হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন সহীহ জয়ীফ আবু দাউদ, ১০৬৭ নং হাদিস।)
ঈদের নামাজ মহিলাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
দলীল নং-৪ ঃ-হযরত নাফে (রঃ) থেকে বর্ণিত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) তার স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে বের হতে দিতেন ন।
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং-৫৮৪৫। এই হাদিসের সকল বর্ননা কারী নির্ভরযোগ্য।অতএব হাদিসটি সহীহ।) এ ছাড়া আরও হাদিস রয়েছে মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক, হাদিস নং-৫৭২৪।
দলীল নং-৫ ঃ- হযরত হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে বর্ণিত। হযরত উরওয়া ইবনে যুবায়ের ( দশজন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবাগনের অন্যতম সাহাবী হযরত যুবায়ের রাঃ এর ছেলে) পরিবারের মহিলাদের কে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজে যেতে দিতেন না।
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২/৫৫০, হাদিস নং-৫৮৪৬। এই হাদিসের সকল বর্ণনা কারী উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য। অতএব হাদিসটি সহীহ।)
দলীল নং-৬ ঃ-প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইবরাহীম নাখঈ (রঃ) থেকে বর্ণিত। সে সময় নারীদের ঈদগাহে যাওয়াকে অপছন্দ করা হত। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২/৫৫০, হাদিস নং-৫৮৪৬। এই হাদিসের সকল বর্ণনা কারী উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য। অতএব হাদিসটি সহীহ।)
সম্মানীত পাঠক! ৪, ৫ ও ৬ নম্বর দলীল দেখা যাচ্ছে যে, সাহাবা ও তাবেয়ীগন মলিাদের ঈদগাহে যেতে দিতেন না এবং তারা এটা পছন্দ করতেন না। আর ঈদের নামাজ মহিলাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব হলে সাহাবা ও তাবেয়ীগন কখনই বাধা দিতেন না এবং অপছন্দ করতেন না।
আরও পড়ুনঃ নারী পুরুষের নামাজের পার্থক্য কি কি
মহিলা যাতে স্বেচ্ছায় মসজিদ ত্যাগ করে বাড়িতে নামাজ আদায় করে নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এমন টা চাইতেন।
দলীল নং- ৭ ঃ-হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মহিলাদের মসজিদে আসতে বাধা দিও না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।
(আবু দাউদ শরীফ, নামাজ অধ্যয়, হাদিস নং-৫৬৭। এ হাদিসের সকল বর্ণনা কারী নির্ভরযোগ্য। অতএব হাদিসটি সহীহ।। এমন কি কথিত লা-মাজহাবীদেরস্বস্বীকৃত ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী ও হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন দেখুন সহীহ জয়ীফ আবু দাউদ, ৫৬৭ নং হাদিস।)
দলীল নং-৮ ঃ- হযরত উম্মে হুমাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম! আমি আপনার পিছনে নামাজ পড়তে ভালবাসি। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বললেন, তুমি যে, আমার পিছনে নামাজ পড়তে ভালবাসো এটা আমি জানি।তবে তোমার খাস কামরায় নামাজ পড়া তোমার হুজরায় নামাজ পড়া থেকে উত্তম। আর তোমার হুজরায় নামাজ পড়া তোমার বাড়িতে নামাজ পড়া থেকে উত্তম। আর তোমার বাড়িতে নামাজ পড়া মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়া থেকে উত্তম। আর তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়া আমার মসজিদে নামাজ পড়া থেকে উত্তম। বর্ণনা কারী বলেন, অতপর তার নির্দেশে তার জন্য ঘরের একেবারে এক কোনে এবং অন্ধকারে একটি নামাজের জায়গা তৈরি করা হলো। আর তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই নামাজ পড়তেন।
(মুসনাদে আহমাদ,১৪/৪২১ হাদিস নং-২৬৯৬৯ হাদিসটি সহীহ লি গয়রিহী দেখুন মিশরীয় ছাপার ১৪/৪২১ পৃষ্টার নিচে উক্ত নম্বরের টিকায় সহীহ উল্লেখ করা হয়েছে।)
আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম সরাসরি কঠোর ভাষায় নিষেধ না করলেও তিনি যে পছন্দ করতেন না এটা সাহাবাগনের নিকট স্পষ্ট জানা ছিল। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর বাড়িতে নামাজ পড়ার ফজিলত শুনার পরও যারা মসজিদে আসতো তাদের কে অন্য সাহাবী দেখলে তিরষ্কার করতেন।
পরবর্তিতে কোন কোন সাহাবী মহিলাদের কে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন। নিচের হাদিস দুইটি লক্ষ্য করূন।-
দলীল নং-৯ ঃ- প্রখ্যাত তাবেয়ী আবু আমর আশ শায়বানি (রঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) জুম্মার দিন মহিলাদের কে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন। (মুজামুল কাবীর লিততাবরানী , হাদিস নং-৯৪৭৫। অনুচ্ছেদ-ইবনে মাসউদের খুতবা এবং তার কথা, মাজমাউঝ ঝাওয়ায়েদ, হাঃ-২১১৯, সেখানে বলা হয়েছে “রিজালুহু মুছিকুনা” অর্থাৎ সকল বর্ণনা কারী নির্ভরযোগ্য।)
দলীল নং-১০ ঃ-হযরত ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হযরত উমর (রাঃ) এর এক স্ত্রী ছিলেন। তিনি ফজর ও ইশার নামাজে জামাতে হাজির হতেন। তাকে বলা হলো আপনি কেন মসজিদে যান? অথচ আপনি জানেন যে, হজরত উমর এটা অপছন্দ করেন এবং
আত্ম মর্যাদাহানিকর মনে করেন। তিনি বলেন, আমাকে নিষেধ করে দিতে তাকে কিসে বারন করেছে? হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, “আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিও না” রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর এই বাণী তাকে বাধা দিয়েছে। ( বুখারী শরীফ, হাদিস নম্বর-৮৫৪)
মহিলাদের মসজিদে আসার ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ অনুমতি ছিল। প্রমান নিচের হাদিস।
দলীল নং- ১১ঃ-হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হযরত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের স্ত্রীগন তোমাদের কাছে মসজিদে আসার জন্য অনুমতি চায়, তবে তাদের কে আসতে বাধা দেবে না।
(বুখারী শরীফ , আযান অধ্যয়, হাদিস নং-৮২৬ ই.ফা.২/২০৪)
পরবর্তিতে দিনের অনুমতির বিধান করে শুধু মাত্র রাতের ক্ষেত্রে বাকি থাকে। প্রমান নিচের হাদিস
দলীল নং- ১২ ঃ-হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হযরত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের স্ত্রীগন তোমাদের কাছে রাতে মসজিদে আসার জন্য অনুমতি চায়, তবে তাদের কে অনুমতি দেবে।
(বুখারী শরীফ , আযান অধ্যয়, হাদিস নং-৮১৮ ই.ফা.)
আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নারীগন এর পরিবেশ যতোটা সুন্দর ছিল নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর বিদায়ের পর তার মধ্যে কিছূটা ভাটা পড়েছিল। তবে তা বর্তমান যুগ থেকে লক্ষ-কোটি গুনে ভালো ছিল। নিচের হাদিসটি তার সত্যতা প্রমান বহন করে।-
দলীল নং-১৩ ঃ- হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহিলারা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা যদি আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম জানতেন, তাহলে বনি ইসরাইলের মহিলাদের মত তাদেরকে ও মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন। রাবি বলেন, আমি হযরত আমরাহ (রঃ) কে জিঙ্গাসা করলাম: তাদেরকে কি মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বলেন: হ্যা। (বুখারী শরীফ, আযান অধ্যয়, হাদিস নম্বর-৮২২ ই.ফা.২/২০২)
লক্ষ্যনীয় ঃ- একজন সত্যিকার মুসলিম মহিলা নিম্ন লিখিত কারন পেলে মসজিদে বা ঈদগাহে যাবে। অন্যথায় যাবে না।
১) যদি কাজটি তার জন্য ফরজ বা ওয়াজিব হয় এবং সেটা পালনের জন্য জামাতের গুরুত্ব অরোপ করা হয়।
২) যদি আল্লাহ তায়ালা অথবা রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নির্দেষ থাকে।
৩) অথবা আল্লাহ তায়ালা বা তার রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম কাজটি পছন্দ করেন কিন্তু উম্মতের উপর কঠিন হবে তাই তিনি ছাড় দিচ্ছেন। আর সেটা করলে বেশি খুশি হবেন।
৪) অথবা কাজটি ফরজ বা ওয়াজিব না হলেও সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব যা, করলে অধিক সওয়াব হবে। আল্লাহ তায়ালা ও তার রসুল বেশি খুশি হবেন।
৫) অথবা হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে কোন বর্ণনা না থাকলে ও তার প্রিয় সাহাবাগন সেটাকে পছন্দ করতেন।

এখন লক্ষ্য করা যাক যে, একজন মহিলাকে বাড়ির বাহিরে কোন জামাতে গিয়ে নামাজ পড়া উপরে উল্লেখিত কোন কারনের মধ্যে পড়ে? মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে গমন পড়ছেন। সামনে এগিয়ে চলুন।
মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে গমন
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নারী ও পুরুষ করে সৃষ্টি করেছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে (১)জুম্মার নামাজ মহিলার জন্য ফরজ বা ওয়াজিব কোনটিই নয়। প্রমান উপরের ৫নম্বর দলীল। আর মহিলাদের জন্য ঈদের নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব কোনটিই নয়। প্রমান উপরের ৪ নম্বর দলীল। আর ৪ নম্বর হাদিসে দেখা যাচ্ছে যে সাহাবা পরিবারের মহিলাদের কে ঈদের জামাতে যেতে দেওয়া হতো না। আর জামাত ছাড়া ঈদের নামাজ পড়ার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং ঈদের নামাজ মহিলাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব হলে তার থেকে বাধা দেওয়ার মত সাহস কোন ক্রমেই সাহাবাগন করতেন না।
(২) প্রাথমিক যুগে ঈদের জামাতে মহিলাদের হাজির হওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রমান উপরের ১ ও ২ নম্বর দলীল। কিন্তু পরে বাড়িতে নামাজ আদায় করার ফজিলত বলার দ্বারা সাহাবাদের কাছে ঈদের জামাতে ও জুম্মার জামাতে বা বাহিরের অন্য কোন জামাতে মহিলাদের হাজির হওয়ার আর কোন গুরুত্ব থাকল না। তাই তো সাহাবা পরিবারের মহিলাদের কে ঈদের জামাতে হাজির হতে দেওয়া হত না। প্রমান উপরের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর দলীল। বরং জুম্মার দিনে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হত। প্রমান উপরের ৯ নম্বর দলীল।
(৩) আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর ইচ্ছা হচ্ছে মহিলারা বাহিরে না এসে বাড়িতে নামাজ আদায় করুক। প্রমান উপরের ৮ নম্বর দলীল। এই হাদিসে একজন মহিলা সাহাবী হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর কাছে এসে ঘর ছেড়ে তার পিছনে নামাজ পড়ার আকুল বাসনা পেশ করলেন। কিন্তু আল্লার নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন“তোমার জন্য তোমার ঘরের কোনে নামাজ পড়া বেশি উত্তম” বলে নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম নিজের ইচ্ছা ও পছন্দের কথা পরিস্কার করে দিলেন। আর উক্ত মহিলা সাহাবী ও আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে নিজ ঘরের কোনে নামাজের স্থান বানিয়ে সারা জীবন সেখানেই নামাজ পড়েছেন। প্রমান উপরের ৮ নম্বর দলীল।
(৪) মহিলাদের জন্য বাহিরে কোন জামাতে বেশি সওয়াব নেই। বরং বাড়িতে নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব : এমনকি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর পিছনে নামাজ পড়া থেকেও বাড়িতে নামাজ পড়া বেশি সওয়াব। প্রমান- উপরের ৮ নম্বর দলীল।
(৫) মহিলাদের বাড়ির বাহিরে গিয়ে ঈদগাহে বা মসজিদে যাওয়া সাহাবাগনের নিকট পছন্দ তো ছিলই না: বরং সাহাবাগন অসন্তুষ্ট হতেন। কেহ এমন ছিলেন যে রাগে মহিলাদের কে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন। প্রমান- উপরের ৯ ও ১০ নম্বর দলীল।
আরও পড়ুনঃ আহলে হাদিস কাকে বলে ও আহলে হাদিস কারা
সুতরাং নিম্ন লিখিত কারনে মুসলিম মহিলাগন মসজিদে বা ঈদগাহে যাবেন না।
ক) মহিলাদের জন্য মসজিদ বা ঈদগাহে যাওয়া আল্লাহ ও তার রসুলের পছন্দ নয়।
খ) মহিলাদের জন্য মসজিদ বা ঈদগাহে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ পড়াই হল রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পছন্দ। আর রাসুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পছন্দই মুলতআল্লাহ তায়ালার পছন্দ।
গ) যেহেতু মহিলাদের জন্য বাড়িতে নামাজ পড়া বেশি সওয়াব, এটা জানার পরও মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়া ও অন্যকে উৎসাহিত কারার পিছনে থাকে অন্য কোন কারন।
ঘ) মহিলাদের মসজিদে যাওয়া সোনালী যুগের সোনালী মানুষ সাহাবাগন পছন্দ করতেন না।
ঙ) নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ থেকে সাহাবাগনের যুগে মহিলাদের আমলে যতটুকু ঘাটতি এসেছিল, যার কারনে হযরত আয়েশা (রাঃ) মহিলাদের মসজিদে না আসা কে সমর্থন করেন, বর্তমানের মহিলাদের আমল লক্ষ গুনে খারাপ হয়ে গিয়েছে।
চ) যে যুগে বাড়ি থেকে বের হলে একজন পুরুষের জন্য সুস্থ শরিরে ফিরে আসার নিরাপত্তা দেওয়া যায় না: সেই যুগে একজন নারীর বাহিরে গিয়ে জীবন ও স্বতীত্ব অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসার নিরাপত্তা কে দিতে পারবে?
প্রিয় পাঠক, পূর্ণ প্রবন্ধটি যদি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে,
মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে গমন
ঠিক হবে কি না? আল্লাহ তায়ালা যেন সকল মুসলিম মা-বোনদের কে ইসলামের শত্রু, নোংড়া সার্থান্বেশী ও ইহুদী খ্রীস্টান তথা ইসলামের শত্রুদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকারীদের চক্রান্তের হাত থেকে বেচে থাকার তাওফিক দান করুন।
আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পছন্দ মতে এবং সাহাবা আজমায়ীনদের আমলের সাথে মিল রেখে বাড়িতে ও পর্দাবেষ্টিত স্থানে নামাজ পড়ার তাওফিক দান করেন। আমীন।



