থার্টি ফার্স্ট নাইট: ইসলাম কি বলে? আজ আলোচনা করব থার্টিফার্স্ট নাইটে কি করনীয় ও বর্জনীয়। থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করা, উদযাপন করা সম্পূর্ণ হারাম, যা আমরা সকলেই জানি। কারণ এটি একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি এবং ঈমান বিধ্বংসী সংস্কৃতি; যা ইহুদী-খ্রিস্টানদের থেকে পাওয়া। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামের দিবসগুলো সুনির্দিষ্ট। কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী থেকে কোন দিবস ইসলামে ঢুকানোর কোন সুযোগ নেই।
থার্টি ফার্স্ট নাইট: ইসলাম কি বলে?
হয়তো আপনি রাত বারোটা এক মিনিটের অপেক্ষায় রয়েছেন। মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু একজন মুসলিম। একজন মুসলিমের সন্তান । আপনার দ্বারা এ সকল কাজ শোভা পায় না। বরং আপনিতো কুরআন এবং সুন্নাহর অনুসরণ করবেন। আপনি তো বিধর্মীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন না । আপনি তো অন্য জাতির সংস্কৃতি পালন করবেন না।
এক নম্বর করণীয় হলো, বেশি বেশি করে দোয়া করা। যখন নতুন মাস অথবা নতুন বছর আগমন করত তখন সাহাবা একরাম একটি দোয়া পড়তেন এবং এই দোয়া কে কুরআনুল কারীম শিখার মত গুরুত্ব দিতেন। দোয়াটি হলো,
اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ، وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ، وَالْإِسْلَامِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ، وَجَوَازٍ مِنَ الشَّيْطَانِ
দুই নম্বর করণীয় হলো, আমরা বিগত বছরে যে এবাদত করেছি তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করেছেন কিনা আমরা নিশ্চিত নই। তাই পেছনের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের নিকট কায়মনোবাক্যে দোয়া করা। যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের পেছনের আমলগুলো কবুল করেন।

তৃতীয়তঃ আমরা পিছনে যে নেক আমল গুলো করতে পেরেছি, ভালো কাজ করতে পেরেছি, আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতে পেরেছি। সেজন্য আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা । কারণ কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আল্লাহ তাআলা 2026 এবং সামনের বছরগুলোতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হায়াত দারাজ করলে এর থেকে বেশী নেক আমল করার তৌফিক দান করবেন। তাই আমরা আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করব । আরো পড়ুন: ইসলামীক পদ্ধতিতে বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম
চতুর্থতঃ আমরা বিগত বছরগুলোতে আল্লাহ তায়ালার যে নাফরমানী করেছি, গুনা করেছি সেই ভুলগুলো থেকে আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তেগফার করব, ক্ষমা প্রার্থনা করব। যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের গুনাহ গুলো মাফ করে দেন এবং যদি আমরা অন্যের হক নষ্ট করে থাকি তাহলে অতি দ্রুত আমরা তাদের হক গুলো আদায় করে দেবো।
পঞ্চম নাম্বার হলো, পেছনে যা করেছি তা তো গেল। এবার 2022 সহ সামনে যেদিন গুলো আমরা পাব সেই দিনগুলোতে বেশি বেশি করে নেক কাজ করব। তার নিয়ত করব। কারণ আমরা সকলেই জানি কোন ভাল কাজেরনিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা তখন থেকেই সওয়াব লিখতে থাকেন। পক্ষান্তরে কোন গুনাহের কাজের নিয়ত করলে ওই গুনাহ না করা পর্যন্ত আল্লাহতালা গুনাহ লেখেন না। এজন্য আমরা সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটাবো তার প্রত্যয় আমরা এখনই করে নেব ইনশাআল্লাহ। আরো পড়ুন: টেলিগ্রাম থেকে ইনকাম করুন 5 টি উপায়ে
ছষ্ঠ নম্বর হলো, আমরা সকলেই মুহাসাবা করব। আমরা পিছনের দিনগুলোতে কতগুলো নেকীর কাজ করেছি আর কতগুলো গুনাহের কাজ করেছি। কত ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করেছি। কত আক্ত নামাজ কাজা করেছি। অন্যের হক নষ্ট করেছে কিনা? বেপর্দায় চলেছি কিনা? কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি কিনা ? নেকি এবং বদি হিসাব নিব। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার খুতবার মধ্যে বলেছিলেন, তোমাদের থেকে হিসাব য়োর পূর্বে তোমরা নিজেরা নিজেদের হিসাব নাও; এবং তোমাদের আমল ওজন করার পূর্বেই তোমরা নিজেরা নিজেদের আমল ওজন করো ।
সপ্তম হল, এ রাত্রে সমস্ত অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনা থেকে বিরত থাকব। আতশবাজি বা অন্য যেকোনো বাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকব। গান-বাদ্য করবো না। গান-বাদ্য শুনবো না । থার্টিফার্স্ট নাইটে কি করনীয় ও বর্জনীয়؟ এই হলো তার উত্তর। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বোঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।
পরিশেষে বলা যায়,
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। ইসলামে আনন্দ প্রকাশের নিজস্ব উৎস ও সংস্কৃতি রয়েছে, যা বিজাতীয় সংস্কৃতি বা ‘তাশাব্বুহ’ (অন্য জাতির সাদৃশ্য) থেকে মুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”
এই রাতে সাধারণত আতশবাজি, গান-বাজনা, অশ্লীলতা ও অপচয়ের মতো এমন সব কাজ হয়, যা শরিয়তে হারাম বা নিষিদ্ধ। মুমিনের জন্য সময়ের বিদায় কোনো নিছক উৎসবের বিষয় নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও ‘মুহাসাবা’ (আত্মপর্যালোচনা) করার সময়। তাই গুনাহের কাজে লিপ্ত না হয়ে, বিগত জীবনের ভুলের জন্য তওবা করা এবং আগামীর জন্য নেক আমলের প্রস্তুতি নেওয়াই হলো ইসলামের শিক্ষা।



