মাহরাম ব্যতীত কোন নারীর একাকী দূরে সফরে কিংবা বিদেশে গমন করা নিষিদ্ধ। নারীর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান ও ফেৎনা থেকে প্রতিরক্ষার জন্যই ইসলামের এই নীতি। তাই আজ আলোচনা করব,
মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্জ ও সফর
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমদের কে আশরাফুল মাখলুকাত হিসাবে সৃষ্টি করেছেন এবং সমস্ত মাখলুকের উপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন সমস্ত মাখলুককে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন । ঠিক তেমনিভাবে মানুষের মধ্যেও পুরুষ মহিলা, জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। এবং প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিধান দান করেছেন।
পুরুষ আর মহিলা যেমন এক নয় তেমন তাদের বিধান ও এক নয়। সুতরাং পুরুষের নামায আর মহিলাদের নামাযে ও ভিন্নতা আছে।অনুরুপ পুরুষ ও মহিলার পর্দার ব্যাপারে ও ভিন্নতা আছে।আর পুরুষ মহিলার হজ্ব ও শরয়ী সফরে ও বিভিন্ন রকম পার্থক্য আছে। আর পুরুষ যেমন ৭৭ কিঃমিঃ বা তার থেকে বেশি সফর একাকি করতে সক্ষম।মহিলারা এ সফর একাকি করতে সক্ষম নয়।বরং ৭৭ কিঃমিঃ বা তার থেকে বেশি সফর কোন মহিলার জন্য একাকি করা জায়েজ নেই।এবং এটা করা হারাম।ঠিক তেমনি হজ্বের ক্ষেত্রে ও একই বিধান।এ ব্যাপারে ও হাদীসে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
عن ابن عباس قال قال رسو ل الله صلي الله عليه وسلم لايخلون رجل بامرأة ولاتسافرون امرأة الا و معها محرم فقال رجل يا رسول الله اكتتبت في غزوة كذا و كذا وخرجت امرأتي حاجة قال اذهب فاحجج مع امرأتك(مشكوة صـــ۳۲۱)
অর্থ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনে একত্রিত না হয় এবং কোন মহিলা যেন তার কোন মাহরাম পুরুষ সাথী ব্যতীত এককী সফর না করে তখন এক ব্যক্তি বলল ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লিখিয়ে দিয়েছি।আর আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বললেন যাও তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব কর।

এই হাদিসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা হল যে, কোন পরপুরুষ এবং কোন পরনারী যেন কোন জায়গায় একাকী মিলিত না হয় । এই নিষেধের মধ্যে সমস্ত গায়রে মাহরাম নারী পুরুষ অন্তর্ভূক্ত । চাই সে পীর বা ওস্তাদ , খালু বা ফুফা, দেবর বা ভাসুর বা ভগ্নিপতি, চাচাত ভাই,মামাত ভাই, খালাত ভাই হোক না কেন সবাই এই হুকুমের মধ্যে শামিল।
আরও পড়ুনঃ আহলে হাদিস বনাম হানাফী মাযহাব
সুতরাং যে পীর তার মহিলা মুরীদের সামনে চলে আসে বা মহিলাদেরকে তার সামনে আসতে বলে সে কোন পীর হতে পারে না তার জন্যই কোন কবি বলেন ঃ-
كار شيطان نامش ولي + گرولي اين ست لعنت بر ولي
অর্থাৎ কাজ করে শয়তানের নাম তার ওলী, ওলী যদি এমন হয় ওলীর উপর অভিশাপ।
মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্জ ও সফর
বর্তমান সময়ে আমাদের সরলমনা মুসলমানরা ইহুদী নাসারাদের চক্রান্তে পড়ে তাদের মেয়েদের একাকী রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছে এর কারণে সমাজে অনেক ফেৎনা সৃষ্টি হচ্ছে, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই না মহিলাদের সফরের খুব গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয় হল মাহরাম ব্যতীত হজ্বের সফর করা। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন
ولاتسافرن امرأة الاومعها محرم ( مشكوة صـــ۳۲۱)
অর্থ মহিলারা যেন তাদের মাহরাম ব্যতীত একাকী সফর না করে।
এখানে মাহরাম দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঐ সকল ব্যক্তি যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম,চাই আত্মীয়তার সূত্রে হোক, তবে শর্ত হল মাহরাম পুরুষ বোধ সম্পন্ন ও বালেগ হতে হবে। শিশু ,পাগল, ফাসিক, অগ্নিপূজক ব্যক্তি যথেষ্ট হবে না। আল্লামা শামী (রঃ) বলেন স্বামী বা মাহরাম ব্যতিত মহিলাদের একদিনের দূরত্বে গমন করাও মাকরুহ। যেমন বুখারি ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আাছে ঃ لايحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الاخر تسافر مسيرة يوم وليلة الامع ذي محرم عليها (رواه مسلم رقم الحديث١٣٣٩)
অর্থ ঃ মহিলারা যেন তাদের মাহরাম পুরুষ ব্যতিত একদিনের দূরত্বে ও সফর না করে।
হজ্বে মহিলাদের অসাবধানতা
অনেক হাজী সাহেব মুস্তাহাব ও নফল বিষয় গুলো কে হজ্বের সময় অনেক গুরুত্ব দেন কিন্তু ফরজ ও ওয়াজীবের ক্ষেত্রে অলসতা করেন।মহিলাদের পর্দা ফরজ।কিন্ত হারামাইন শরীফাইনে পৌছে অধিকাংশ মহিলারা বরং শতকরা ৯৯জন বোরকাধারী মহিলা বোরকা ফেলে বেপর্দা হয়ে যায়।কিন্ত দুঃখের বিষয় হলো তাদের স্বামী বা মাহরাম ব্যক্তিরা এদিকে কোন খেয়াল রাখেনা।সুতরাং মাহরামদের উচিৎ মহিলাদের পর্দার প্রতি গুরুত্ব দেয়া। হজ্বে মহিলাদের জন্য মাহরাম এর শর্ত থাকার কারণ মাহরাম পুরুষ ব্যাতিত মহিলাদের জন্য ৭৭ কি:মি: এর অধিক দুরের সফর করতে রাসুল(সাঃ)নিষেধ করেছেন।
কারণ এ দীর্ঘ সফরে নিজের সম্মান ও সত্বীত্ব রক্ষা করা তার নৈতিক দায়িত্ব । আর এ দীর্ঘ সফরে মহিলাদের যদি মাহরাম না থাকে তাহলে কোন দূর্ঘটনার সম্মুখিন হতে পারে।অতএব মাহরাম থাকলে মহিলারা অনেক দূর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাবে।আর যেহেতু হজ্বের সফর অনেক দীর্ঘ তাই হজ্ব পালন করা মহিলাদের জন্য মাহরামব্যাতিত কখনো যায়েজ নাই। আর যদি কেউ গায়রে মাহরাম কে মাহরাম বলে প্রকাশ করে তাহলে দ্বিগুন গুনাহ হবে।
তবে হজ্বে গেলে হজ্ব হবে কিন্ত একাকি সফরের গুনাহ হবে ।মহিলা যত বৃদ্ধাই হোক না কেন তার জন্য মাহরাম ছাড়া হজ্বের সফর জায়েজ নাই।যদি মৃত্যু পর্যন্ত মাহরাম পাওয়া না যায় তাহলে বদলি হজ্বের অসিয়াত করা ফরজ । তেমনি বৃদ্ধা ও বয়স্ক নারীরা ও স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ব্যতীত সফর করতে পারবে না।

আর নারীদের সফরের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহিলাদের তাবলীগে যাওয়া সংক্রান্ত।
তাবলিগের মূল উদ্দেশ্য হল নিজে দ্বীন শিখা ও ইমান আক্বীদা মজবুত করা। এবং অপরকে দ্বীন শিখানো এবং দ্বীন মজবুত করানো যেমন পুরুষ নিজে দ্বীন শিখা ও ইমান আকীদা মজবুত করার মুক্ষাপেক্ষী তদ্রুপ নারীরাও দ্বীন শিখা ও ইমান মজবুত করার মুখাপেক্ষী। নিজেদের বাড়িতে নারীরা সাধারণত এ সুযোগ পায় না তাই তারা যদি স্বামী বা মাহরাম সহ শরঈ বিধানের পূর্ণ পাবন্দির সাথে দুর দুরান্তে সফর করে, তাহলে তাদের জন্য শরীয়তে এসফরের অনুমতি আছে, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এটি অতি গুরুত্বপুর্ণ ও উপকারী। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীন বুঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন ছুম্মা আমীন।
আরও পড়ুনঃ নারীর চেহারা সতরের অংশ কি না



