Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

জানাজা নামাজের নিয়ম ও সূরা ফাতিহা পড়া

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জানাজা নামাজের নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। মৃত ব্যক্তিকে সম্মানের সাথে শেষ বিদায় জানাতে সঠিক জানাজা নামাজের নিয়ম মেনে চলা ফরজে কিফায়া। অনেকেই আছেন যারা পূর্ণাঙ্গ

জানাজা নামাজের নিয়ম

সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না, অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশুদ্ধ জানাজা নামাজের নিয়ম শিখে তা আমল করলে মৃত ব্যক্তি ও মুসল্লি উভয়েই উপকৃত হন। তাই আমাদের এই আলোচনায় সহজ ও সাবলীলভাবে জানাজা নামাজের নিয়ম তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে নির্ভুলভাবে নামাজ আদায়ে সাহায্য করবে।

জানাজা নামাজের নিয়ম ও সূরা ফাতিহা পড়া

ইমামের পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে এবং নিয়ত করার পর নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন:

প্রথম তাকবির প্রথম তাকবিরের পর ‘ছানা’ পাঠ করুন।

দ্বিতীয় তাকবির দ্বিতীয় তাকবিরের পর ‘দুরুদে ইব্রাহিম’ পাঠ করুন।

তৃতীয় তাকবির তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া পাঠ করুন: “আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মায়্যিতিনা…” শেষ পর্যন্ত। এবং “রাব্বানা আতি না ফিদ-দুনিয়া হাসানা…” শেষ পর্যন্ত পাঠ করুন।

চতুর্থ তাকবির চতুর্থ তাকবিরের পর হাত নামিয়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করুন। এভাবেই জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়।

তাকবিরের সংখ্যা

জানাযার নামাজ চারটি তাকবিরের সাথে আদায় করা হয়।

  • ঈদের নামাজে প্রতিটি তাকবিরের সময় হাত তোলা হয়।

  • কিন্তু জানাযার নামাজে (প্রথম তাকবির ছাড়া) অন্য কোনো তাকবিরে হাত তোলার প্রয়োজন নেই।

জানাযার নামাজের নিয়ত

আরবি নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُؤَدِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ تَكْبِيْرَاتِ صَلَوةِ الْجَنَا زَةِ فَرْضَ الْكِفَايَةِ وَالثَّنَا ءُ لِلَّهِ تَعَا لَى وَالصَّلَوةُ عَلَى النَّبِىِّ وَالدُّعَا ءُلِهَذَا الْمَيِّتِ اِقْتِدَتُ بِهَذَا الاِْمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উয়াদ্দিয়া লিল্লাহে তাআলা আরবাআ তাকবিরাতি সালাতিল জানাজাতি ফারদিল কিফায়াতে, ওয়াস সানাউ লিল্লাহে তাআলা, ওয়াস সালাতু আলান নাবিইয়ে, ওয়াদ দুআউ লিহাযাল মায়্যিতি (মৃত নারী হলে: লিহাযিহিল মায়্যিতি), ইকতেদাইতু বিহাযাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

  • মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে: “লিহাযাল মায়্যিতি” বলুন।

  • মৃত ব্যক্তি নারী হলে: “লিহাযিহিল মায়্যিতি” বলুন।

বাংলায় নিয়ত (যদি আরবিতে সম্ভব না হয়): “আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য, কিবলামুখী হয়ে, এই ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে, চার তাকবিরের সাথে ফরজে কিফায়া জানাযার নামাজ আদায়ের এবং মৃত ব্যক্তির (পুরুষ/মহিলা) জন্য দোয়ার নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।”

নিয়ত মনে মনে করা যায় অথবা নিজের ভাষায় উচ্চারণ করেও করা যায়।

জানাযার নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পর দুই হাত একবার উঠিয়ে (কান পর্যন্ত) সাধারণ নামাজের মতো হাত বেঁধে নিন।

ছানা (আরবি) سُبْحَا نَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ

অনুবাদ: “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তোমারই। তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা সুউচ্চ, তোমার প্রশংসা মহিমান্বিত এবং তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।”

দুরুদ (দ্বিতীয় তাকবিরের পর) (সাধারণ নামাজের তাশাহহুদের পর যেমন দুরুদে ইব্রাহিম পড়া হয়, তেমনটি পড়ুন।)

অনুবাদ (সারাংশ): “হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করো, যেমন তুমি ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করো, যেমন তুমি ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।”

জানাযার দোয়া (তৃতীয় তাকবিরের পর)

আরবি:

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَانَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيْمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

অনুবাদ: “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারীদের ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখো, তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখো এবং যাকে মৃত্যু দান করো, তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করো। হে দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু! তোমার রহমত কামনা করছি।”

নাবালক ছেলের জন্য দোয়া: অনুবাদ: “হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রিম প্রতিদান ও পুরস্কারের উৎস বানাও এবং তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী ও কবুলযোগ্য সুপারিশকারী বানাও।”

নাবালিকা মেয়ের জন্য দোয়া: অনুবাদ: “হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রিম প্রতিদান ও পুরস্কারের উৎস বানাও এবং তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী ও কবুলযোগ্য সুপারিশকারী বানাও।”

নামাজ শেষ করা চতুর্থ তাকবিরের পর কিছুক্ষণ স্থির থেকে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে জানাযার নামাজ শেষ করুন।

কেউ যদি দেরিতে যোগ দেয়

  • অবিলম্বে ইমামের অনুসরণ করুন।

  • সম্ভব হলে চারটি তাকবিরই পূর্ণ করার চেষ্টা করুন।

  • যদি সম্ভব না হয়, তবে ইমামের সাথে নামাজ শেষ করুন।

  • জানাযার নামাজের কোনো কাজা নেই, কারণ এটি জামাতে আদায় করতে হয়।

জামায়াতের গোপন ছক ফাঁস! কেন ভেস্তে গেল ইসলামী ঐক্য?

জানাজা নামাজে সূরা ফাতিহা পড়া

জানাযা নামাজে সূরা ফাতিহা পড়া না-পড়া বিষয়টি বরাবরের মতোই তাইমী ও লা-মাযহাবীরা প্রান্তিকতার শিকার। এক তাইমী তো জানাযায় সূরা ফাতিহা না পড়ার বিষয়টিকে প্রতারণা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। তাই খতিয়ে দেখতেই হয় যে, আসলে প্রতারণা কে করছে? আর দেখতে হয় যে, আদৌ জানাযায় সূরা ফাতিহা না পড়াটা কি প্রতারণা?

তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়ে সহজে বোঝার জন্য নিম্নে সাহাবা ও সালাফের বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি তুলে ধরছি। যাতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রতারণার অপবাদ কত জঘন্য।

১. ইসলামের প্রথম রাজধানী মদীনার আমল

মদীনার আমলের সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানকারী ইমাম মালেক রহ. (১৭৯হি.) বলেন,

إنما هو الدعاء وإنما فاتحة الكتاب ليس بمعمول بها في بلدنا

জানাযা হলো দুআ। আমাদের শহর মাদীনায় জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার আমল প্রচলিত নয়। (আলইসতিযকার ৩/৪০)

২. ইসলামের দ্বিতীয় রাজধানী কুফার আমল

কুফা নগরীতে জানাযার নাামাযে সূরা ফাতিহা না পড়ার আমলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. (২৭৯হি.) বলেন,

وهو قول الثوري وأهل الكوفة.

“এটাই সুফিয়ান সাওরী ও আহলে কুফার আমল।” (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং- ১০৪৮))

লা মাযহাবীদের ইমাম কাযী শাওকানী এটিকে সকল কুফাবাসীর আমল বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি বলেন,

وهو قول مالك وأبي حنيفة وأصحابه وسائر الكوفيين

“এটিই ইমাম মালিক ও ইমাম আবু হানীফা এবং তাঁদের অনুসারীসহ কুফার সকল ফকীহদের অভিমত।”(নায়লুল আওতার ৪/৭৫।)

আরো পড়ুন: ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা

৩. ইসলামের কিবলা মক্কার আমল

এমনিভাবে মক্কাবাসীর আমলের সর্বাধিক গুরুত্বপ্রদানকারী আতা ইবনে রাবাহ রহ. জানাযায় কিরাআত পড়তেন না। যেমনটি ইমাম ইবনে বাত্তাল রহ. (৪৪৯হি.)-সহ অনকেই উল্লেখ করেছেন:

وممن كان لا يقرأ في الصلاة على الجنازة وينكر: عمر بن الخطاب … ومن التابعين: عطاء وطاووس …

“যাঁরা জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তেন না এবং এটি পড়া অপছন্দ করতেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উমর বিন খাত্তাব রা….। আর তাবেয়ীদের মধ্যে রয়েছেন: আতা, তাউস রহ….।” (উমদাতুল কারী ৭/৫৭।)

৪. সাহাবা ও তাবেঈনদের আমল

খুলাফা রাশেদীনসহ অধিকাংশ সাহাবা রা. ও তাবেয়ীন জানাযায় কিরাআত পড়তেন না।
ইমাম সাহনূন রহ. (২৪০হি.) বলেন,

قال ابن وهب عن رجال من أهل العلم عن عمر بن الخطاب وعلى بن أبي طالب وعبد الله ابن عمر وعبيد بن فضالة وأبي هريرة وجابر بن عبد الله وواثلة بن الاسقع … أنهم لم يكونوا يقرؤن في الصلاة على الميت

ইবনে ওয়াহাব রহ. কতিপয় আহলে ইলম তথা উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী বিন আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, উবাইদ বিন ফাদালাহ, আবু হুরায়রা, জাবির বিন আবদুল্লাহ, ওয়াসিলা বিন আসক্বাহ, … (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে বলেন, তাঁরা জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তেন না। (আলমুদাওয়ানাতুল কুবরা ১/২৫১, )

৫. ফাতিহার হাদীসের রাবীর আমল

জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহ. (দ্র. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১০২৭)।
তিনি নিজেই এই হাদীস অনুযায়ী আমল করতেন না। তিনি জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়তেন না। যেমনটি ইমাম ইবনুল মুনযির রহ. বলেন:

وقالت طائفة: ليس في الصلاة على الجنائز قراءة هذا قول ابن سيرين، وطاوس، … وسفيان الثوري

“আহলে ইলমের এক জামাত বলেছেন: জানাযার সালাতে কোনো কিরাত (সূরা ফাতিহা) নেই। এটি ইবনে সীরীন, তাউস, … সুফিয়ান সাওরী এর অভিমত”(আলআওসাত ৫/৪৮৩)

৬. ফাতিহার হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর ফতোয়া

জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার হাদীসটি এসেছে হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে। অথচ তিনি নিজেই জানাযা নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন—সেখানে সূরা ফাতিহার উল্লেখ নেই। যেমন:

عن أبي حمزة عن ابن عباس قال: قلت له : كيف أصلي في الكعبة؟ قال: كما يصلى في الجنازة، تسبح وتكبر ولا تركع ولا تسجد. (رواه عمر بن شبة في أخبار مكة، وذكره الحافظ ابن حجر في الفتح 3/469) وقال سنده صحيح

“”আবু হামযাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস রা.-কে বললেন: আমি কাবায় কীভাবে সালাত আদায় করব? তিনি উত্তরে বললেন: যেভাবে জানাযার সালাত আদায় করা হয় সেভাবে; তুমি তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাকবীর দেবে, কিন্তু কোনো রুকু বা সিজদা করবেন না। (উমর বিন শাব্বাহ এটি ‘আখবারে মক্কা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে (৩/৪৬৯) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এর সনদ সহীহ)।”

৭. ফাতিহা পড়ার পর অন্যদের মন্তব্য

সূরা ফাতিহা পড়ার পক্ষে জোরালোভাবে যে হাদীসটি উপস্থাপন করা হয়, সেই হাদীসটি হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর একবার জানাযা পড়ানোকে কেন্দ্র করে বর্ণিত হয়েছে। তিনি সূরা ফাতিহা পড়ে জানাযা নামায পড়ান। নামায শেষে মদীনার কাযী ও বিচারক, বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত তালহা বিন আবদুল্লাহ রহ. প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তাঁর প্রশ্ন উত্থাপনের বিষয়টি একাধিক শব্দে বর্ণিত হয়েছে। যেমন—

عند النسائي : فلما فرغ أخذت بيده فسألته. وفي رواية له : فقلتُ: تقرأ؟ وفي رواية ابن حبان : فلما انصرف قلتُ له: أتقرأ بفاتحة الكتاب؟ وفي رواية الطيالسي : فلما صليتُ جئتُ، فأخذتُ بيده، فقلتُ: يا أبا العباس، ما هذا؟

হাত ধরে প্রশ্ন করা—আপনি এটি কী করলেন? আপনি সূরা ফাতিহা পড়লেন?—এই প্রশ্ন থেকেই প্রতিভাত হয় যে, তৎকালীন সাহাবা ও তাবেঈন জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়তেন না।

৮. শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য
তাইমীদের ইমাম শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রহ. ফতোয়া দিয়েছেন যে, সূরা ফাতিহা না পড়লেও সমস্যা নেই; নামায সহীহ হবে। যেমন: তিনি বলেন:

وإن لم يقرأ ‌بل ‌دعا بلا قراءة جاز (الفتاوى الكبرى 2/121)

সালাফের এই বাস্তব চিত্র দেখুন, আর তাইমীদের বক্তব্যগুলো দেখুন। তারা আদৌ সালাফী কি না—এ প্রশ্ন ওঠে। তারা কি আদৌ শায়েখ ইবনে তাইমিয়াকে শ্রদ্ধা করে? শায়েখ ইবনে তাইমিয়া সহ সাহাবা, তাবেঈন ও সালাফের ইমামগণ—সকলেই কি প্রতারণা করেছেন?

সর্বোপরি, যে সাহাবী সূরা ফাতিহা পাঠের কথা বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিজের ফতোয়াতেই সূরা ফাতিহা পাঠের কোনো উল্লেখ নেই। বরং সেই হাদীসের রাবী নিজেও এই হাদীস অনুযায়ী আমল করতেন না; তিনি না-পড়ার হাদীসকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমনটি অসংখ্য সালাফ না-পড়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া বহু স্পষ্ট বর্ণনায় এসেছে যে, জানাযার নামাযে কোনো কিরাত নেই। বলাই বাহুল্য যে, সাহাবায়ে কেরাম এ ধরনের কথা ইজতিহাদের ভিত্তিতে বলেন না; বরং যা বলেছেন, প্রিয় নবীজী ﷺ-এর নিকট থেকে জেনে শুনেই বলেছেন। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ইবনে মাসউদ রা. রাসূল ﷺ-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন—

لم يوقت لنا في الصلاة على الميت قراءة.
أورده الهيثمي في مجمع الزوائد (৪১৫৩) وقال: رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح

এর সমর্থনে সুনানে ইবনে মাজাহয় একটি হাদীস (১৫০১) উল্লেখযোগ্য। সেখানে জানাযার সালাতে কী পড়া হবে (باب ما جاء في الدعاء في الصلاة على الجنازة) —এই প্রসঙ্গে সরাসরি রাসূল ﷺ-এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে—

مَا أَبَاحَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ …… يَعْنِي لَمْ يُوَقِّتْ

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য (এ বিষয়ে) কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেননি।”

প্রিয় পাঠক,
পরিশেষে বলা যায়, উপরে উল্লেখিত জানাজা নামাজের নিয়ম অনুসরণ করলে আপনার নামাজ নির্ভুল হবে। প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিয়মিত জানাজা নামাজের নিয়ম চর্চা করা এবং পরিবারের অন্যদেরও তা শেখানো। অন্যকে জানাজা নামাজের নিয়ম শেখানো একটি বড় সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। কোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি এড়াতে আজই জানাজা নামাজের নিয়ম ভালোভাবে আয়ত্ত করে নেওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক জানাজা নামাজের নিয়ম মেনে মৃতদের জন্য দোয়া করার তৌফিক দান করুন।

👁️ পড়া হয়েছে: ৩৮ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আরাফাহ দিবস কী? আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আমরা কেন আরাফাহ দিবসে রোজা রাখি?

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার সময় বলা যায়: কোরবানি করার আদবসমূহ কোরবানি করার

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম: Mufti Rejaul Karim

সূচিপত্র লুকান কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম কুরবানীর গোস্ত তিন ভাগ করে বন্টন করা কী জরুরী? প্রশ্ন: আমার স্বামী বিদেশে আছেন এবং তাঁর মা আমার সাথেই

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম: একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

সূচিপত্র লুকান বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে ৫ই মে ২০১৩ একটি অবিস্মরণীয় এবং একইসাথে বেদনাবিধুর দিন। শাপলা চত্বরের ইতিহাস বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার

সূচিপত্র লুকান মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার এবার আসুন মুফতি রেজাউল করিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। মুফতি রেজাউল করিম

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

সূচিপত্র লুকান পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র কেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করবেন? পুঁজি ছাড়া ব্যবসার ৩টি মূলমন্ত্র

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।