দাজ্জালের ফিতনা থেকে সবাই চাই তবে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া কেউ মুখস্ত করতে চাই না। তাই আজ পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া। তাই চলুন শিখে নেই।
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কিছু দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন। বিশেষ করে, সূরা আল-কাহফ পড়া এবং বিশেষ কিছু দোয়া পাঠ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
১. দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার বিশেষ দোয়া
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতি সালাতের শেষে এই দোয়া পড়তে বলেছেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শার্রি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।”
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 588, সহিহ বুখারি: 1377)

২. সূরা আল-কাহফ পাঠ করা
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 809)
এছাড়াও, পুরো সূরা আল-কাহফ (সূরা নম্বর ১৮) শুক্রবারে পাঠ করা সুন্নাত এবং এটি দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার একটি বড় মাধ্যম।
৩. দাজ্জালের আগমনকালীন করণীয়
যদি কেউ দাজ্জালের সময় জীবিত থাকে, তবে তাকে নিম্নোক্ত কাজ করতে হবে:
- দাজ্জালের দিকে না তাকানো এবং তার ধোঁকায় না পড়া।
- দাজ্জাল যেখানে থাকবে, সেই দিক থেকে দূরে থাকা।
- মক্কা ও মদীনা নিরাপদ স্থান, কারণ দাজ্জাল সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
- শক্ত ঈমানের উপর অবিচল থাকা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
আরও পড়ুনঃ বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম
এবার চলুন দাজ্জাল সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জেনে নেই।
দাজ্জাল কোন দুটি শহরে প্রবেশ করতে পারবে না
দাজ্জাল মক্কা ও মদীনা শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রমাণ:
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
“দাজ্জাল মক্কা ও মদীনার প্রবেশদ্বারে আসতে পারবে না। এ দুই শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা পাহারা দেবে। সে মদীনার কাছে একটি লবণাক্ত ভূমিতে অবস্থান করবে এবং মদীনা তিনবার কাঁপবে। তখন মুনাফিক ও কুফরির লোকেরা মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সঙ্গে যোগ দেবে।”
📖 (সহিহ বুখারি: 1881, সহিহ মুসলিম: 2943)
কারণ:
- আল্লাহ মক্কা ও মদীনাকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে পাহারা দেবেন।
- দাজ্জাল এসব শহরে ঢোকার চেষ্টা করলেও সে ব্যর্থ হবে।
- মদীনার ভূমিকম্পের মাধ্যমে মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের লোকেরা বের হয়ে যাবে এবং দাজ্জালের অনুসারী হবে।

দাজ্জাল সম্পর্কে হাদিস
দাজ্জাল সম্পর্কে হাদিস
দাজ্জাল কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর একটি এবং তার ফিতনা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনাগুলোর মধ্যে একটি হবে। রাসুলুল্লাহ ﷺ দাজ্জাল সম্পর্কে অনেক হাদিসে সতর্ক করেছেন এবং আমাদের তার ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় শিখিয়েছেন।
১. দাজ্জালের ভয়ংকর ফিতনা
🔹 হাদিস:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আদম (আ.) এর সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় কোনো ফিতনা নেই।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 2946)
২. দাজ্জালের চেহারা ও শারীরিক গঠন
🔹 হাদিস:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“দাজ্জাল কানা (একচোখা) হবে। তার ডান চোখ অন্ধ এবং শুকিয়ে যাবে, আর বাম চোখ থাকবে কিন্তু তা ফুলে উঠবে।”
📖 (সহিহ বুখারি: 7131, সহিহ মুসলিম: 2933)
🔹 অন্য এক হাদিসে:
“তার কপালে ‘كَافِر’ (কাফির) লেখা থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন পড়তে পারবে, যদিও সে নিরক্ষর হয়।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 2934)
৩. দাজ্জালের সময়কাল ও ক্ষমতা
🔹 হাদিস:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“দাজ্জাল ৪০ দিন পৃথিবীতে থাকবে। তার প্রথম দিন হবে এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান, তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান এবং বাকি দিনগুলো হবে সাধারণ দিনের মতো।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 2937)
🔹 হাদিস:
“তার সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো কিছু থাকবে। কিন্তু তার জান্নাত আসলে জাহান্নাম এবং তার জাহান্নাম আসলে জান্নাত।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 2936)
৪. দাজ্জালের প্রবেশ নিষিদ্ধ স্থান
🔹 হাদিস:
“দাজ্জাল পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করবে, কিন্তু সে মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, সেখানে ফেরেশতারা পাহারা দেবে।”
📖 (সহিহ বুখারি: 1881, সহিহ মুসলিম: 2943)
5. দাজ্জালের মৃত্যু
🔹 হাদিস:
“দাজ্জাল যখন সিরিয়ার দাবিক এলাকায় পৌঁছাবে, তখন ইসা (আ.) দামেস্কের পূর্ব দিকের সাদা মিনারে নেমে তাকে হত্যা করবেন।”
📖 (সহিহ মুসলিম: 2897)
আরও পড়ুনঃ নারী পুরুষের নামাজের পার্থক্য
দাজ্জাল কোথায় আছে
দাজ্জাল বর্তমানে কোথায় আছে, সে সম্পর্কে সরাসরি কুরআনে কিছু বলা হয়নি, তবে হাদিসে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সময় কিছু সাহাবি দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলেন।

১. দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে তামিম আদ-দারির হাদিস
🔹 হাদিস:
একবার সাহাবি তামিম আদ-দারি (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে দাজ্জালের সাথে দেখা হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেছিলেন,
- তিনি ও তার সঙ্গীরা সমুদ্রে ভেসে গিয়ে একটি দ্বীপে পৌঁছান।
- সেখানে তারা জাসসাসাহ নামে একটি অদ্ভুত প্রাণী দেখতে পান, যা অনেক লোমশ ছিল।
- জাসসাসাহ তাদের একটি গুহার ভেতরে নিয়ে যায়, যেখানে তারা একটি মানুষকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।
- সেই মানুষ তাদের জিজ্ঞেস করে, নবী মুহাম্মদ ﷺ কি আগমন করেছেন? মানুষরা কি তার কথা শুনছে?
- এরপর সে নিজেকে দাজ্জাল বলে পরিচয় দেয় এবং বলে, তাকে এখনো মুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
📖 (সহিহ মুসলিম: 2942)
২. দাজ্জালের বর্তমান অবস্থান
- হাদিস অনুসারে, দাজ্জাল এখনো কোথাও একটি দ্বীপে বন্দি আছে।
- তাকে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মুক্ত করা হবে না।
- কিয়ামতের কাছাকাছি সময় সে মুক্ত হবে এবং ফিতনা ছড়াবে।
৩. দাজ্জাল কখন বের হবে?
🔹 হাদিস:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“দাজ্জাল শামের (সিরিয়া) অথবা ইরাকের কোনো জায়গা থেকে বের হবে, এবং সে খুব দ্রুত ফিতনা ছড়াবে।”
📖(সহিহ মুসলিম: 2937)
প্রিয় পাঠক, আপনি যদি
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া
মুখস্ত করেন এবং তা নিয়মিত পাঠ করেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়ার উসিলায় তার ফিতনা থেকে মিুক্তি দিবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া পাঠের মাধ্যমে তার ফিতনা থেকে হেফাযত করুন।



