আমাদের সমাজের অনেক মানুষই এখন পর্যন্ত যাকাতের অর্থ ও তাৎপর্য বোঝে না। তাই আজকের প্রবন্ধে যাকাতের অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করব।
যাকাতের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
‘যাকাত’ আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ : পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি ও প্রশংসা। পারিভাষিক অর্থে ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ কোনো ব্যক্তির মালিকানায় থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর ঐ সম্পদের একটি অংশ শরিয়াহ নির্ধারিত খাতে বণ্টন করাকে ‘যাকাত’ বলে।
এখানে ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ’ মানে ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে ‘সাহিবে নিসাব’ বলা হয়। আর ‘নির্দিষ্ট সময়’ বলতে এক চন্দ্রবছর এবং ‘নির্ধারিত খাত’ বলতে যাকাত প্রদানের ৮টি খাতকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যাকাত বলতে ঐ সম্পদকে বোঝায়, যা আল্লাহর নির্দেশে বছরান্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অধিকারীগণ নির্দিষ্ট খাতে বণ্টন করেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ দান করাকে যেমনি যাকাত বলে, তেমনি দানকৃত সম্পদকেও যাকাত বলা হয়।
যাকাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থের মাঝে সামঞ্জস্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
“তাদের (ধনীদের) সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।” সূরা জারিয়্যাত, ৫১ : ১৯
যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীরা নিজেদের সম্পদে থাকা অপরের ‘হক’ (অধিকার) হস্তান্তর করেন। ফলে একদিকে তাদের সম্পদ পবিত্র হয়, অপরদিকে তাদের মন কৃপণতার কলুষতা হতে পবিত্রতা লাভ করে। যাকাত আদায়ের ফলে সম্পদ আবর্তিত হয়।
তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পদ হ্রাস পায় বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বেড়ে যায়। তা ছাড়া যাকাতের কারণে নেকির পরিমাণও বর্ধিত হয়। এভাবে দেখা যায়, শব্দটির মূল আভিধানিক অর্থ তথা ‘পবিত্রতা’ ও ‘উন্নতি’ যাকাত আদায়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
১ ইবনুল আরাবীর মতে, যাকাত বলতে ওয়াজিব যাকাত, ঐচ্ছিক দান, পারিবারিক ব্যয় ও ক্ষমাকে বোঝানো হয়। (মাওসুআ)
কুরআন ও সুন্নাহয় ব্যবহৃত যাকাতের সমার্থক পরিভাষাসমূহ
কুরআন ও হাদীসে যাকাতের সমার্থবোধক বা কাছাকাছি অর্থের আরো কিছু পারিভাষিক শব্দ পাওয়া যায়। এখানে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো-
ক. সাদাকা الصدقة
কুরআন ও হাদীসে কখনো কখনো ‘যাকাত’ (সুনির্ধারিত আবশ্যকীয় দান) অর্থে ‘সাদাকা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন ,
“তাদের সম্পদ হতে সাদাকা গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” সূরা তাওবা, ৯ : ১০৩
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-
“সাদাকা তো ফকির ও মিসকিনদের জন্য…” সূরা তাওবা, ৯ : ৬০
রাসূল সা. বলেছেন, “পাঁচ ওয়াসাকের কম ফসলে সাদাকা নেই।” মুয়ায ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়ামানে প্রেরণের সময় রাসূল সা. বলেছিলেন, ‘তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পদে সাদাকা ফরজ করেছেন, যা ধনীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।’ যাকাত সংগ্রহকারীকে ‘মুসাদ্দিক’ বা সাদাকা সংগ্রহকারী বলা হতো। ওপরের আয়াত ও
হাদীসগুলোতে ‘সাদাকা’ শব্দটি ‘যাকাত’ তথা ‘অত্যাবশ্যকীয় দান’-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
খ. আতিয়্যাহ العطية
আল্লাহর উদ্দেশ্যে বা ভালোবাসার জন্য মানুষ যা কিছু দান করে তাই ‘আতিয়্যাহ’ হিসেবে গণ্য হয়। এ পরিভাষাটি যাকাত, সাদাকা, হেবা এবং অনুরূপ দানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

গ. ইনফাক
যাকাতের কাছাকাছি অর্থের আরেকটি পরিভাষা হলো ‘ইনফাক’। ইনফাক একটি ব্যাপক অর্থবোধক পরিভাষা। যাকাত ও সাদাকাসহ পুণ্য ও কল্যাণের পথে সর্বপ্রকার ব্যয় ইনফাকের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রীকে মোহর প্রদান এবং পিতামাতার ভরণপোষণের ক্ষেত্রেও আল-কুরআনে ‘ইনফাক’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ইনফাক’ শব্দের সাথে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বাক্যাংশ যুক্ত হলে সাধারণত আল্লাহর পথে জিহাদে অর্থব্যয় করাকে বোঝানো হয়।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুরুর দিকে যাকাত ও সাদাকা সমার্থবোধক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ধীরে ধীরে ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে দুটো পরিভাষা পৃথক হয়ে যায়। আবশ্যক দান ফরজ দানের জন্য যাকাত পরিভাষাটি নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর সর্বপ্রকারের ‘ঐচ্ছিক দান’ বোঝাতে সাদাকা শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: নিজের ভাই-বোন কে জাকাত দেয়া যাবে কি?
যাকাত ও সাদাকার মাঝে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো :
যাকাত
সাদাকা
যাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়া ও পবিত্রতা অর্জন করা;
সাদাকা শব্দের অর্থ সত্যবাদিতা অর্থাৎ ঈমানের সত্যতা প্রমাণে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অর্থব্যয় করা।
যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ, সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর যাকাত আদায় করা ফরজ; সাদাকা ইসলামের স্তম্ভ নয়, সাদাকা দেওয়া সাওয়াবের কাজ; তবে এটি ফরজ নয়।
যাকাত অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায়;
সাদাকা প্রদান না করলে কোনো শাস্তি নেই।
যাকাত অস্বীকারকারীর জন্য পরকালীন শাস্তি রয়েছে। সাদাকা না দিলে ফযিলত ও সাওয়াব হতে বঞ্চিত হবে, তবে কেন শাস্তি নেই।
যাকাতযোগ্য সম্পদের প্রকৃতি ও পরিমাণ নির্ধারিত; যেকোনো সম্পদ হতে সাদাকা করা যায়, এর কোনো নিসাব বা আদায়ের পরিমাণ নেই।
যাকাতের প্রদানের হার সুনির্ধারিত; ‘ঐচ্ছিক দান’ বলে সাদাকার সুনির্দিষ্ট কোনো হার নেই।
প্রতি চন্দ্রবছরে একবার যাকাত প্রদান করা ফরজ; প্রতি বছর সাদাকা না দিলে কোনো অসুবিধা নেই। আবার এক বছরে একাধিকবারও সাদাকা দেওয়া যায়। সুনির্দিষ্ট খাতের বাইরে যাকাত বণ্টন করা যায় না; যেকোনো কল্যাণমূলক খাতে সাদাকার অর্থ ব্যয় করা যায়।
সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে যাকাত ও সাদাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যাকাত অত্যাবশ্যকীয় দান, এর দাতা ও গ্রহীতা নির্ধারিত। মুসলিম সমাজের সদস্যরা যদি যাকাত ব্যতীত অন্য কোনো দান না করে তবে সমাজের অনেক প্রয়োজন বা জরুরি কর্তব্য সম্পাদন করা সম্ভব হবে না। তাই যাকাত প্রদানের পাশাপাশি সাদাকা প্রদানেও এগিয়ে আসা উচিত।
যাকাত ও আয়কর
অনেকে ভুলবশত যাকাত ও আয়কর অভিন্ন মনে করেন এবং এ ধারণার বশবর্তী হয়ে যাকাত হতে অব্যাহতি পেতে চান। তাদের যুক্তি হলো রাসূল সা. ও খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন করা হতো। বর্তমানে সরকার সামর্থ্যবান নাগরিকের কাছ থেকে কর আদায় করে।
তা ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন সরকারি কর্তব্য। তাই যারা সরকারকে কর প্রদান করে তাদের ব্যক্তিগতভাবে যাকাত আদায় করতে হবে না। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যাকাত ও আয়কর এক নয়। এ দুটোর মাঝে উৎস ও বিধানগত পার্থক্য রয়েছে। আয়কর প্রদান করলে কিছুতেই যাকাত হতে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। নি¤েœর সারণীতে বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হলো :
যাকাত
আয়কর
যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ;
কর প্রদান রাষ্ট্রীয় কর্তব্য।
যাকাত বিধানের উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ;
করসংক্রান্ত আইন/বিধানের উৎস আইনসভা বা সরকার।
যাকাতযোগ্য সম্পদের প্রকৃতি ও পরিমাণ (নিসাব) সুনির্দিষ্ট এবং চিরদিনের জন্য অপরিবর্তনীয়;
করযোগ্য সম্পদের প্রকৃতি ও পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়; সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে তা নির্ধারিত ও পরিবর্তিত হয়।
যাকাতের হার সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তিত; কর প্রদানের হার পরিবর্তনশীল।
যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ কুরআন দ্বারা নির্ধারিত;
করের অর্থ দ্বারা সরকারের রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানো হয়।
যাকাত সরকারি ও বেসরকারি দুভাবেই বণ্টন করা যায়।
কর সংগ্রহ ও ব্যয়একমাত্র সরকারই করতে পারে।
যাকাত দ্বীনি বিধান হওয়ায় এটি কেবল মুসলিমের ওপর ফরজ;
আয়করের বিধান সকল নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য।
যাকাত প্রদানের বিষয়ে কেউ কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে না;
সরকার নাগরিকদের কর প্রদান হতে অব্যাহতি দিতে পারে।
যাকাত সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করতে হয়।
করের হার সমানুপাতিক
যাকাতের তাৎপর্য
সালাত শারীরিক ইবাদত হওয়ায় শুধু‘আল্লাহর হক’-এর সাথে সম্পৃক্ত। আর যাকাত আর্থিক ইবাদত হওয়ায় এর সাথে আল্লাহ ও বান্দা উভয়ের ‘হক’ জড়িত। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে একদিকে আল্লাহর নৈকট্যলাভ করা সম্ভব; অপরদিকে দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে সমাজকে মুক্ত করাও সম্ভব। নিম্নে যাকাতের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হলো-
ক. যাকাতের দ্বীনি তাৎপর্য
যাকাত ইসলামের তৃতীয় রুকন বা স্তম্ভ। ফরজ আমলগুলোর মধ্যে সালাতের পরেই যাকাতের স্থান। কুরআনে অন্তত ২৮টি স্থানে সালাতের সাথে যাকাতের উল্লেখ করা হয়েছে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানরা একটি ফরজ ইবাদত আদায় করেন। সুতরাং যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য অপরিসীম।
প্রথমত : যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তর কলুষমুক্ত হয়। সম্পদের লোভ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি; এটির নিয়ন্ত্রণেই মানুষের কল্যাণ। যাকাত মানুষের কাছে এ সুযোগ এনে দেয়। প্রতিবছর যাকাত আদায় করলে মানুষের মন লোভ-লালসা ও কৃপণতার ব্যাধি হতে মুক্তি লাভ করে। আত্মার পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রে যাকাতের ভূমিকার কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত : যাকাত পাপমুক্তির সুযোগ এনে দেয়। মানুষের মাঝে সর্বদা সুপ্রবৃত্তি ও কুপ্রবৃত্তির লড়াই বহমান। প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ পাপে লিপ্ত হয়। যাকাত ও সাদাকা প্রদান করলে আল্লাহ তায়ালা মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন
“তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা ভালো। কিন্তু যদি গোপনে দান করো এবং তা অভাবী লোকদের দাও, তবে তা তোমাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর। আর তিনি (দানের কারণে) তোমাদের কিছু পাপ মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, তিনি তার খবর রাখেন।” সূরা বাকারা, ২ : ২৭১
তৃতীয়ত : যাকাত প্রদান করলে সম্পদ পবিত্র হয়। সম্পদ নিরঙ্কুশভাবে মানুষের অর্জন নয়। আল্লাহ পৃথিবীময় সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছেন। মানুষ চেষ্টা-প্রচেষ্টা বিনিয়োগ করে তা অর্জন করে। তাই বলে সম্পদকে কেবল নিজস্ব চেষ্টার ফল বলে ধরে নেওয়া যায় না।
আমরা দেখি, বহু মানুষ প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও সম্পদ উপার্জন করতে পারে না। আবার কেউ কেউ সহজেই বিশাল সম্পদের মালিক হয়। কারণ, রিযিকের প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতার রশি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি ধনীদের সম্পদ দেওয়ার পাশাপাশি তাতে গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। কুরআনের ভাষ্য-
“তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিদের হক।” সূরা যারিয়্যাত, ৫১ : ১৯
আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হক বলে এটিকে ‘আল্লাহর হক’ বলেও অভিহিত করা হয়। যাকাত আদায় না করলে ধনীর সম্পদে আল্লাহ ও গরিবের হক থেকে যায়। অপরের হক বিদ্যমান থাকায় সম্পদ পবিত্র হয় না।
আরও পড়ুন: স্বপ্নদোষ হলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?
তাই যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনীরা তাদের সম্পদে বিদ্যমান অপরের হক আদায় করতে সমর্থ হন। এভাবে তাদের সম্পদ পবিত্র হয়। সম্পদ পবিত্রকরণে যাকাতের ভূমিকার বিষয়ে রাসূল সা. বলেন-“আল্লাহ তো যাকাত ফরজ করেছেন তোমাদের অবশিষ্ট সম্পদকে পবিত্র করার জন্য।”-সুনানে আবু দাউদ
চতুর্থত : যাকাত আদায় করলে সম্পদ নিরাপদ হয়। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাকাত আদায় করলে সম্পদ পবিত্র হয়। পবিত্র সম্পদকে আল্লাহ তায়ালা বিপদাপদ ও দুর্যোগ হতে নিরাপদ রাখেন। আয়িশা সিদ্দীকা রা. বর্ণনা করেছেন-“কোনো সম্পদে যাকাত মিশ্রিত হলে তা ঐ সম্পদকে ধ্বংস করে দেয়।” অর্থাৎ যাকাত আদায় না করলে তা মূল সম্পদের সাথে মিশে যায়, ফলে তা ধ্বংস হয়। ভিন্নভাবে বললে, যাকাত আদায়ে সম্পদ নিরাপদ হয়।
খ. যাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
যাকাতের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বর্তমান পৃথিবীর অশান্তির অন্যতম কারণ হলো দারিদ্র্য।২ মজার ব্যাপার হলো-সম্পদের স্বল্পতা দারিদ্র্যের কারণ নয়; পৃথিবীতে কখনো সম্পদের স্বল্পতা ছিল না, এখনো নেই। দারিদ্র্যের মূল কারণ হলো কিছু শ্রেণির মানুষের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়া আর অবশিষ্ট জনগণ সম্পদশূন্য হওয়া। জানুয়ারি ১৬, ২০১৭ তারিখে রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আট শীর্ষ ধনীর হাতে রয়েছে পৃথিবীর মোট সম্পদের অর্ধেক। অর্থাৎ উক্ত আট ব্যক্তির কাছে যে সম্পদ আছে তা বর্তমান পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদের সমান।
যাকাত কেন্দ্রীভূত সম্পদের ভান্ডারকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। যাকাত ব্যবস্থায় ধনী হতে দরিদ্রের মাঝে, মুষ্টিমেয় ব্যক্তির ভান্ডার হতে বিপুল জনগোষ্ঠীর হাতে সম্পদ আবর্তিত হয়। ফলে বৈষম্য হ্রাস পায়।
একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো যে, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য খুব বেশি সম্পদের প্রয়োজন নেই। মৌলিক খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক চন্দ্রবছর হাতে থাকলেই যাকাত দিতে হয়। আবার যাকাতের পরিমাণও খুব বেশি নয়, মাত্র ২.৫% ভাগ। কারণ ইসলাম চায় না সচ্ছল ব্যক্তি যাকাত দিতে গিয়ে আবার গরিব হয়ে যাকাতের হকদারের শ্রেণিতে নেমে আসুক।
২ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস একজন অর্থনীতিবিদ। তবুও তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় (২০০৬)। বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য অশান্তির মূল কারণ। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে অশান্তি দূরীকরণে ভূমিকা রাখার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
এভাবে যাকাতদাতা ও গ্রহীতার মাঝে অর্থনৈতিক ব্যবধান খুব দ্রুত সংকীর্ণ হয়ে আসবে। আর তাই বলা যায়, বণ্টন বৈষম্য দূর করে যাকাত অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে, ফলে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।
যাকাতের বিধানে ধনীদের জন্যও সুরক্ষা আছে। প্রথমত, যাকাতের পরিমাণ একেবারেই কম (২.৫%), দ্বিতীয়ত, সম্পদ বর্ধনশীল হওয়ার শর্ত, এর উদ্দেশ্য হলো যাকাত দিতে গিয়ে ধনী যেন আবার দরিদ্র হয়ে না পড়ে।
গ. উৎপাদন বৃদ্ধিতে যাকাতের ভূমিকা
সমাজের ক্ষুদ্র একটি অংশের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে থাকলে উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সচ্ছলতার অভাবে সাধারণ ভোক্তারা পণ্য ক্রয় করতে পারে না। ক্রয়ক্ষমতার অভাবে চাহিদা কমে, আর চাহিদার অভাবে উৎপাদন হ্রাস পায়। তা ছাড়া কেবল ধনিক শ্রেণির হাতে সম্পদ থাকলে তা বাজারের পণ্যবৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। ধনী ভোক্তাদের পণ্য শ্রেণি পৃথক। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল এমন শিল্প তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শ্রেণির উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাকাতের মাধ্যমে গরিবের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা গতিশীল হয়।
অর্থনীতির সূচকগুলোর একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদনের সাথে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। দরিদ্রদের হাতে পুঁজি না থাকায় তারা কোনো বিনিয়োগ করতে পারে না। তাদেরকে যাকাত দেওয়া হলে তারা তা উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। উৎপাদনে গতি আসার কারণে কর্মসংস্থান বেড়ে যায়। আবার কর্মসংস্থান বেড়ে যাওয়ায় বেকারত্ব দূর হয়। সাধারণত দেখা যায়, সামাজিক অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ বেকারত্ব। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে বেকারত্ব হ্রাস পায়। তাই অপরাধ প্রবণতা হ্রাসের ক্ষেত্রে যাকাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
ঘ. দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় ইরশাদ করেন-
“এমন ব্যক্তি কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে? তাহলে তার সেই কর্জকে তার জন্য আল্লাহ বহু গুণ বর্ধিত করে দেবেন এবং আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত করে থাকেন এবং তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।” সূরা বাকারা, ২ : ২৪৫
অন্য আয়াতে বলেন-
“আল্লাহ যার ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং যার ইচ্ছা সংকুচিত করেন।” সূরা রা’দ, ১৩ : ২৬
“নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনপোকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিত করেন।” সূরা বনি ইসরাইল, ১৭ : ৩০
সম্পদ ও দারিদ্র্য দুটো দিয়েই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পরীক্ষা করেন। তিনি দেখতে চান যে, সম্পদের মালিক হয়ে ধনীরা তাঁর প্রতি শোকর আদায় করে কি না এবং দরিদ্রদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় কি না। আর দরিদ্ররা তাদের অসচ্ছল অবস্থা ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য সুন্দরভাবে প্রচেষ্টা চালায় কি না। ফরজ ইবাদত হিসেবে যিনি যাকাত আদায় করেন তার মনে কখনো প্রদর্শনেচ্ছা বা নাম কুড়ানোর আকাক্সক্ষা থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেন-
“ধনীদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।” সূরা জারিয়াত, ৫১ : ১৯
অতএব, যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি তার সম্পদে থাকা গরিবের হক আদায় করেন। তাই তার মনে অহংকার বা দানশীলতার গর্ব সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। অপরদিকে, উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। ফলে গরিবরা স্বভাবতই যাকাত প্রদানকারীর
প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। এভাবে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি, সম্মানপ্রদর্শন ও কৃতজ্ঞতাবোধের পরিবেশ গড়ে ওঠে। ইসলাম শ্রেণিবৈষম্য ও শ্রেণিভেদের অজুহাত তুলে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায় না।
এর পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যা যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে সৃষ্টি করা সম্ভব।৩
ঙ. যাকাত আদায়ের মর্যাদা
যাকাত আদায়ের অনেক মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে। যাকাত কবরে মানুষকে রক্ষা করবে। একটি দীর্ঘ হাদীসে বলা হয়েছে যে, একজন মুমিনকে যখন কবরে রাখা হয় তখন তার আমলগুলো চতুর্দিকে অবস্থান নেয়; তার মাথার কাছে সালাত, ডান পাশে সাওম, বাম পাশে যাকাত ও পায়ের দিকে অবস্থান নেয় নফল আমলগুলো। অতঃপর এগুলো বর্ম হিসেবে ভূমিকা পালন করে তাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করে। আল্লাহ তায়ালা যাকাত আদায়কারীদের ভুলত্রুটি ও পাপমোচন করবেন এবং তাদেরকে জান্নাত দান করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“আল্লাহ বনি ইসরাইলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বারোজন নকীব নিয়োগ করেছিলাম। আল্লাহ তাদের বলেছিলেন, আমি তোমাদের সাথে আছি। যদি তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, আমার রাসূলদের প্রতি ঈমান রাখো, তাঁদের সাহায্য করো এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋণ দিতে থাকো; তাহলে অবশ্যই তোমাদের পাপসমূহ মুছে দেবো এবং অবশ্যই অবশ্যই তোমাদের দাখিল করব জান্নাতসমূহে, যেগুলোর নিচ দিয়ে বহমান থাকবে নহর।” সূরা মায়িদা, ৫ : ১২
৩ এই উপ-শিরোনামে যাকাতের তাৎপর্য সম্পর্কে যা আলোচনা করা হয়েছে তা তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন সমন্বিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার আলোকে যাকাতের অর্থ বিলি-বণ্টন করা হবে। বর্তমানে যাকাত বিতরণে যে দুরবস্থা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তাতে যাকাতের কোনো সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি আল্লাহর বিধানের ব্যর্থতা নয়; বরং ঐসব মানুষের ব্যর্থতা যারা খেয়ালখুশিমতো আল্লাহর বিধান পালন করে।
চ. যাকাত আদায় না করার পরিণতি
আল্লাহর সকল বিধান মানুষের সর্বজনীন কল্যাণের জন্য। আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি আদেশ-নিষেধের দুই ধরনের ফলাফল বা পরিণতি রয়েছে; ইহকালীন ও পরকালীন। পরকালীন পরিণামই মুখ্য। তবে ইহকালীন পরিণামও আছে; যদিও অনেক সময় মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না।
প্রথমত : ধনীর সম্পদে যেহেতু দরিদ্র ও নিঃস্বের অধিকার আছে; তাই যাকাত আদায় না করলে সম্পদে অপরের অধিকার থেকে যায়। ফলে তা পবিত্র হয় না। অপবিত্র সম্পদে আল্লাহ পাক বরকত দান করেন না এবং ঐ সম্পদের মালিক আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হয়। শুধু তা-ই নয়, যে জনগোষ্ঠী যাকাত বা সাদাকা আদায় করে না আল্লাহ তাদের ওপর খরা ও দুর্ভিক্ষের মতো দুনিয়াবি শাস্তি প্রেরণ করেন। রাসূল সা. বলেন, “কোনো সম্প্রদায় যাকাত দানে অস্বীকৃত হলে আল্লাহ তাদেরকে দুর্ভিক্ষ দিয়ে শাস্তি দেন।”-তাবারানী
দ্বিতীয়ত : রাসূল সা. বলেন, “যে ব্যক্তি সাওয়াবের আশায় যাকাত দেবে তার জন্য রয়েছে প্রতিদান। আর যে যাকাত দেবে না, আমরা তার সম্পদ হতে যাকাত আদায় করবই; উপরন্তু আমাদের রবের কড়া নির্দেশের আলোকে তার সম্পদের একাংশ নিয়ে নেব। তবে মুহাম্মদের পরিবারের জন্য এর কোনো অংশই হালাল নয়।”-মুসনাদে আহমাদ, সুনানে নাসায়ি, সুনানে আবু দাউদ

এ হাদীস হতে বোঝা যায়, কেউ যদি যাকাত দিতে অস্বীকার করে তাহলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে যাকাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর বিধান অমান্য করার ধৃষ্টতা প্রদর্শনের জন্য জরিমানাও আদায় করবেন।
তৃতীয়ত : যাকাত আদায় না করে যারা সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখবে, কিয়ামতের দিন ঐ সম্পদ জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে তার মালিকের শরীরে সেক দেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“আর যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে, (সেদিন বলা হবে) এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এখন তা জমা করে রাখার স্বাদ গ্রহণ করো।” সূরা তাওবা ৯ : ৩৪-৩৫
রাসূল সা. বলেছেন, “কিয়ামত দিবসে এমন শাস্তি জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”-সুনানে আবুদাউদ
আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতরের বয়ান, ফযিলত ও আমল
চতুর্থত : যারা বিপুলসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর মালিক ছিল, কিন্তু যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন ঐ জন্তুগুলোকে তাদের মালিকের কাঁধের ওপর চাপানো হবে। তারা রাসূল সা.-এর কাছে ছুটে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করবে। কিন্তু তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন না। রাসূল সা. বলেছেন, চতুষ্পদ জন্তুর মালিকরা যদি যাকাত আদায় না করে তাহলে কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিকে উপুড় করে শোয়ানো হবে।
তারপর তার জন্তুগুলোকে পূর্বের চেয়ে বেশি মোটাতাজা করে উপস্থিত করা হবে। জন্তুগুলো তাদের মালিককে শিং দিয়ে গুঁতো দেবে এবং খুর দ্বারা পদদলিত করবে। কোনো জন্তুর শিং বক্র হবে না বা কোনোটা শিংবিহীন হবে না। সর্বশেষ জানোয়ারটি পদদলন করার পর প্রথমটিকে ফিরিয়ে আনা হবে। এভাবে শাস্তি চলতে থাকবে জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা হওয়ার আগপর্যন্ত। সেই দিনটির দৈর্ঘ্য হবে ৫০ হাজার বছরের সমান। চতুষ্পদ জন্তু মেষ হোক বা উট হোক-যাকাত দেওয়া না হলে পশুমালিককে এমন শাস্তি দেওয়া হবে।-সুনানে আবু দাউদ
পঞ্চমত : যারা বিপুল সম্পদের মালিক, অথচ যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন ঐ সম্পদ সাপের আকৃতি ধারণ করে তার মালিককে দংশন করবে। রাসূল সা. বলেন, “যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু সে তার যাকাত দেয়নি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো মাথাওয়ালা সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশের্^ দংশন করে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, তোমার সঞ্চিত ধনভান্ডার।”-সহিহ বুখারী
প্রিয় পাঠক, আশা করছি আপনি এ প্রবন্ধটি পড়ে যাকাতের অর্থ ও তাৎপর্য বুঝেছেন। ছওয়াবের নিয়তে প্রবন্ধটি শেয়ার করে দিন।



