Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোজার ফজিলত

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

আর কিছু দিনের মধ্যেই আমরা রোজার মাসে পদার্পন করব। তাই রোজার ফজিলত আগে থেকেই আমাদের জানতে হবে। তাহলে আমরা রোজার ফজিলত পরিপূর্ণ অর্জন করতে পারব। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই

কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোজার ফজিলত

শুরুর কথা : রমজানের রোজা ইসলামের পঞ্চ-স্তম্ভের একটি। আল্লাহ তায়ালা এমনভাবে ইসলামের এ স্তম্ভগুলো  সাজিয়েছেন, যাতে সমাজের সর্ব শ্রেণির মানুষ থেকে তাঁর আনুগত্য প্রকাশ পায়। কারণ, সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে  যারা শারীরিক কোন কষ্টের কাজ করতে রাজি হয় না। টাকা-পয়সা যত ইচ্ছা খরচ করতে রাজি কিন্তু সামান্য কষ্ট করতেও রাজি না। আবার এমন মানুষও সমাজে আছে, যারা একেবারেই কৃপণ। কোনভাবেই টাকাপয়সা হাতছাড়া করতে রাজি না।

শারীরিক যত কষ্টই হোক করতে রাজি, কিন্তু টাকাপয়সার মায়া ছাড়তে রাজি না। এমন সব শ্রেণির মানুষই ইসলামের  সামনে মাথা নত করতে বাধ্য। কেননা, ইসলামের মূল রুকনগুলো এমনভাবে সাজানো, এগুলো পালন করতে যেমন  শারীরিক কষ্ট হয় তেমন অর্থসম্পদও ব্যয় হয়। শারীরিক কষ্ট করতে হবে যেমন, নামায, রোযা ইত্যাদিতে, আর সম্পদ ব্যয় করতে হয় যাকাতের বিধান পালনে।

আর হজের মাঝে তো শারীরিক ও আর্থিক উভয় শক্তি ব্যয় হয়। এই পাঁচ স্তম্ভের মূল শিক্ষা হলো, মুমিনের জানমাল সবই আল্লাহর ভালোবাসায় সদাসর্বদা উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকা।  রোযার পরিচয়

ইসলামের মৌলিক পাচঁটি স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো রোযা । ঈমান, নামায ও যাকাতের পরই রোযার স্থান। রোযাার  আরবি শব্দ ‘সওম’, যার আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। পরিভাষায় সওম বলা হয়,

وهوعن عبارة عن إمساك مخصوص، وهو اإلمساك عن األكل والشرب والجماع من الصبح إلى المغرب مع النية.

“(প্রত্যেক আকেল,বালেগ, মুসলমান নর-নারী( সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে পানাহার,স্ত্রী সহবাস  )রোযাভঙ্গকারী সকল কাজ( থেকে বিরত থাকা।” (আত-তারিফাত – ১৩৯)

পূর্ববর্তী শরিয়তে রোজা

রোজাএমন একটি ইবাদত যা পূর্ববর্তী শরিয়তেও ছিল। সর্বকালেই এই আমলের প্রচলন ছিল। তাফসীরে রুহুল  মাআ’নীতে এসেছে,

“যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছিল অর্থাৎ, আদম আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে বর্তমান  পর্যন্ত সকল নবী ও উম্মতের উপর রোজা ফরয ছিল।” (রুহুল মাআ’নী ১/৪৫৩)

তবে রোযার ধরন ছিল বিভিন্ন রকম। পবিত্র কুরআনে হযরত মারইয়াম আ: এর রোযার ধরন বর্ণনা করে বলেন,

“মানুষের মধ্যে কাউকে যদি তুমি দেখ তখন বলিও, আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে রোযা মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি  কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।” (সূরা মারইয়াম ২৬)

পূর্ববর্তী শরিয়তে যেমন, রোযার ধরন ভিন্ন ছিল, তেমনি সংখ্যার দিক থেকেও ভিন্নতা ছিল। এতে তারা বাড়াবাড়ি ও  ছাড়াছাড়ি করেছে। কেউ নির্ধারিত সংখ্যার উপর নিজেদের পক্ষ থেকে সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। আবার কেউ কেউ নিজেরাই  আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে।

ইসলামে রোজা

রোযা যেহেতু তুলনামূলক একটু কঠিন ইবাদাত। তাই শুরুতেই তা ফরজ করে দেওয়া হয়নি। বরং রোযা পালনে  বিভিন্নভাবে অভ্যস্ত করে কয়েক ধাপে তা ফরয করা হয়েছে।

১. আইয়ামে বীযের রোযা: রাসূল সা: প্রতি মাসে তিন দিন করে রোযা রাখতেন। এটিকে আইয়ামে বীয এর রোযা বলা  হয়। রাসূল সা: নিজে এই রোযা গুলো রাখতেন তবে শুরুতে কাউকে এগুলো রাখতে নির্দেশ দেন নি। হাদিস শরীফে  এসেছে,

“ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন”। (সুনানে নাসাঈ ২৩৬৫)

অনেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখাদেখি এই রোযাগুলো রাখতো। এক পর্যায়ে এই রোযাগুলো  রাখার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে উৎসাহ মূলক ফরমান জারি করা হয়। হাদিস শরীফে  এসেছে,

“হযরত আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রতি মাসের  আইয়ামে বীয তথা ১৩,১৪,১৫ তারিখ রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।” ( সুনানে নাসায়ী ২৪২২)

২. মহরমের দশ তারিখের রোযা : মহরম মাসের দশ তারিখের রোযা। রমাদানের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে মহরমের  দশ তারিখের রোযা ফরজ ছিল। হাদিস শরীফে এসেছে, ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোজা রাখে।  তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার তোমরা এ দিনে কেন রোযা রাখ? তারা বলল, এটি অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ  তায়ালা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল থেকে নাজাত দান করেন,ফলে এ দিনে মূসা আ: রোযা রাখতেন। রাসূল  সা: বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এদিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদের রোযা  রাখতে নির্দেশ দেন।” (সহীহ বুখারী ২০০৪ )

আরও পড়ুন: রোজা না রাখার শাস্তি:  হাদিসের আলোকে

৩. রামদান মাসের রোযা : অবশেষে দ্বিতীয় হিজরী সনে শাবান মাসে আল্লাহ তায়ালা রমাদানের রোযা ফরজ করে আয়াত  নাযিল করেন,

“হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযার বিধান ফরজ করা হলো,যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে,যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার” (সূরা বাকারা ১৮৩)

শুরুতে যেভাবে রমাদানের রোজা রাখা হতো

রমাদানের রোযা ফরজ হওয়ার পর শুরুর দিকে রোযার বিধান কিছুটা ভিন্নরকম ছিল।

১. ঘুমানোর পর থেকে রোযা শুরু হয়ে যেত। অর্থাৎ রাত্রি বেলায় ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পানাহার ইত্যাদির সুযোগ ছিল। ঘুমিয়ে পড়লে পরের দিনের রোযা শুরু হয়ে যেত। ঘুম থেকে উঠে আর পানাহারের সুযোগ ছিল না। এমনকি সন্ধ্যা  বেলায় ঘুমিয়ে পরলেও পরের দিনের রোযা শুরু হয়ে যেত।

ইবনে কাসীর রাহি.বলেন,

وكانوا يأكلون ويشربون ويأتون النساء ما لم يناموا فإذا ناموا امتنعوا

“তাঁরা রাতে ঘুমানোর পূর্বে পানাহার করতেন, স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করতেন। তবে ঘুমিয়ে পড়ার পর থেকে  পানাহার,স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতেন ”। (মুখতাসারু তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/১৫৭ )

দুইজন সাহাবীর ঘটনা ও রোযার বিধানে সহজকরণ

ক. হযরত কাইস ইবনে সিরমাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু। হাদিস শরীফে এসেছে,

“বারা রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সা: এর সাহাবিগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাদের কেউ সওম পালন  করতেন তাহলে ইফতারের সময় হলে ইফাতার না করে নিদ্রা গেলে সে রাত্রে ও পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন  না। কায়স ইবনে সিরমা আনসারী সাহাবী রোযা রেখেছিলেন।

ইফতারের সময় তিনি তার স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস  করলেন, তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি ? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু খোঁজ  করে আনি। তিনি দিনের বেলায় কাজে নিয়োজিত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর দু’চোখ বুজে গেল। এরপর তার স্ত্রী এসে  তাকে দেখে বললেন, হায় তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এ ঘটনাটি রাসূল সা:  এর নিকট উল্লেখ করা হলে কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়, ‘আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কালো রেখা  থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায় )সুবহে সাদিক পর্যন্ত(’ সূরা বাকারা ১৮৭।” (সহীহ বুখারি ১৯১০)

খ. হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু। হাদিস শরীফে এসেছে,

“রোযার রাতে ওমর (রা.) স্ত্রী সহবাস করে ফেললেন। এরপর তাঁর কাছে বিষয়টি বড় মনে হলো ,(অত:পর রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে) কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়, ‘রোজার রাতে  তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে’।” ( তাফসীরে তাবারী ২৯৪২ )

আরও পড়ুন: রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

মুহতারাম হাযিরীন ! এভাবে দুইজন সাহাবীর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা রোযার বিধান আামদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।  আল্লাহ তায়ালা সাহাবায়ে কেরামকে উত্তম বদলা দান করুক। তাঁদের কারণে এমন অনেক বিধান আমাদের জন্য সহজ  হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের এহসান এই উম্মতের উপর সীমাহীন।

এজন্য তাদের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।  কোনভাবেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না। তারা আমাদের জন্য মি’য়ারে হক বা হকের মানদ-। তাঁদের  দেখানো পথেই আমাদের চলতে হবে। এ পথেই আমাদের মুক্তি ও কামিয়াবী। যারা সাহাবাদের ব্যাপারে কোন ধরনের  কটুকথা বলবে, তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, নি:সন্দেহে তারা গোমারাহ ও পথভ্রষ্ট।

সাহাবায়ে কেরামের মাকাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বহু আয়াত নাযিল করেছেন। তাদের উপর নিজের  সন্তুষ্টি ও জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। পাশাপাশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাহাবাদের ফাযায়েল ও  মানাকিব সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সিহা সিত্তাহসহ হাদিসের প্রায় প্রতিটি কিতাবে ‘মানাকিবে সাহাবা’ শিরোনামে পৃথক অধ্যায় রয়েছে। তাই তাঁদের ব্যাপারে কোন ধরনের সমালোচনা,কটুকথা, বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না  বরং এগুলো স্পষ্ট হারাম।

এমন ব্যক্তিদের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত দিয়েছেন। তাই যারা  সাহাবাদের ব্যাপারে যুবান দারাজি করবে এরা মালউন, এরা দুনিয়া আখিরাতে অভিশপ্ত। এমন গর্হিত কাজ থেকে আল্লাহ  আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।

২. ইসলামরে শুরু যুগে অর্থ সম্পদ থাকলে অন্যের মাধ্যমে রোযা রাখানোর সুযোগ ছিল। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে  আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“ যারা রোযার শক্তি রাখে তারা একজন মিসকিনকে খাবার খাইয়ে রোযার ফিদিয়া আদায় করতে পারবে।” সূরা বাকারা  ১৮৪

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাসীর রাহি. বলেন,

فكان من شاء صام ومن شاء أطعم مسكينا فأجزأ ذلك عنه

“ তখন যার ইচ্ছা সে রোযা রাখতে পারতো, আর চাইলে রোযা না রেখে মিসকিনকে খাবার খাওয়ালে তার পক্ষ থেকে  যথেষ্ট হয়ে যেত।” (মুখতাসারু তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/১৫৯ )

এই সুযোগ ইসলামের শুরুর যুগে থাকলেও পরবর্তীতে আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াত নাযিল করে তা রহিত করে দেন।  আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় অবশ্যই রোযা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ  যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনে সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে।” সূরা বাকারা ১৮৫  এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাসীর রাহি. বলেন,

فأثبت الله صيامه على المقيم الصحيح، ورخص فيه للمريض والمسافر

“অত:পর আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতের মাধ্যমে মুকিম ও সুস্থ ব্যক্তির জন্য রোযা আবশ্যক করে দিয়েছেন, অসুস্থ ও  মুসাফিরকে রোযা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন।” (মুখতাসারু তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/১৫৯)

রোযার সর্বশেষে ও চূড়ান্ত রূপরেখা

ইসলামের শুরুতে যদিও রোযার রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর থেকে রোযা শুরু হয়ে যেত। রোযার রাতে পানাহার ও সহবাস  নিষিদ্ধ ছিল। পাশাপাশি রোযা রাখতে সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য রোযা না রেখে কোন মিসকিনকে খাবার দিয়ে দেওয়ারও  সুযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এসব বিধানে পরিবর্তন হয়। রোযা শুরু হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ সুবহে  সাদিক থেকে রোযা শুরু হবে।

এর আগে পানাহার ইত্যাদিতে কোন সমস্যা নেই। আর রোযা রাখতে সক্ষম প্রত্যেকের  উপর রোযা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। এখন রোযা রাখতে সক্ষম কোন ব্যক্তি রোযার পরিবর্তে মিসকিনকে খাবার  দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

রোযার ফযিলত

রোযা আল্লাহ তায়ালার অনেক প্রিয় একটি আমল। এর আনেক ফযিলতের কথা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। আমরা  অল্পকিছু ফযিলতের কথা তুলে ধরছি..

১. রোযার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে দিয়ে থাকেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ’গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া  হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমল তার নিজের জন্য তবে রোযা ব্যতীত। কারণ, রোযা আমার জন্যই এবং আমি  নিজেই তার প্রতিদান দেব।” (মুসলিম,১১৫১ )

২. রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের চেয়ে সুগন্ধময়। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর শপথ! অবশ্যই রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।” ( বুখারি ১৯০৪ )

৩. রোযাদারের দুটি খুশির মুহুর্ত রয়েছে, হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

“রোযাদারের জন্য রয়েছে দুটি খুশির মুহুর্ত রয়েছে। একটি তার ইফতারের সময় আর অপরটি তার প্রতিপালক আল্লাহ  তায়ালার সাথে সাক্ষাতের সময়।”( মুসলিম,১১৫১ )

৪. রোযা গোনাহের কাফফারা স্বরূপ। হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত হুজাইফা রাযি. বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,

“মানুষের পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে ঘটিত বিভিন্ন ফেতনা ও গুনাহের কাফফারা হলো, নামাজ, রোযা  ও সদকা।” (বুখারি ১৮৯৫ )

 ———————————————————

মিজানুর রহমান আজহারী সাহেবের

এক নজরে কুরআন কিনতে এখানে ক্লিক করুন

৫. রোযাদারগণ বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত সাহল ইবনে সাআদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি  বলেন,

“জান্নাতের এক বিশেষ দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন ওই দরজা দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে।  তাঁরা ছাড়া আর কেউই ও দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, কোথায় রোযাদারগণ ? অত:পর তারা ওই দরজা  দিয়ে )জান্নাতে( প্রবেশ করবে। যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে।  অত:পর এই দরজা দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করতে পারবে না।” ( বুখারি ১৮৯৬ )

৬. একদিনের রোযায় জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের পথ পরিমাণ দূরত্ব তৈরী হয়। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন মাত্র রোযা রাখবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে  রাখবেন।” (বুখারি ২৮৪০ )

৭. রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ। হযরত উসমান বিন আবুল আস থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

“রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ; যেমন যুদ্ধের সময় নিজেকে রক্ষা করার জন্য তোমাদের ঢাল থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ, ১৭৯৭২ )

আরও পড়ুন: কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

৮. রোযা কিয়ামতে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

‘কিয়ামতের দিন রোযা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, “হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে  পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে,  আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম।

সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। অত:পর তাদের উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে।” ( আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ২০৩৬)

৯. রোযা জান্নাত লাভের বিশেষ আমল। হযরত আবু উমামা রাযি. বর্ণনা করেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল!

“আমাকে এমন কোনো আমল সম্পর্কে বলুন, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে যেতে পারব। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ।  কারণ, এর সমতুল্য কিছু নেই। পুনরায় আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে কোনো আমলের আদেশ করুন।  তিনি পুনরায় একই কথা বললেন, তুমি রোযা রাখ। কারণ, এর সমতুল্য কিছু নেই”। (মুসনাদে আহমাদ ২২১৪৯ )

কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোজার ফজিলত

অন্য হাদিসে এসেছে, হযরত হুজাইফা )রা.( বর্ণনা করেন,

মহানবী )সা.( আমার বুকে হেলান দিয়ে ছিলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোযা  রাখার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” ( মুসনাদে আহমাদ ২৩৩২৪)

১৭. রমাদানে নফল আমল ফরজের সমতুল্য আর একটি ফরজ ৭০টি ফরজের মতো। শুয়াবুল ঈমানের এক বর্ণনায়  এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“ যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোন নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ  ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল।  (শুয়াবুল ইমান ৩৩৩৬, )

১১.রোযাদারদের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রোযাদার যতক্ষণ না ইফতার করে,সুবিচারক শাসকের দোয়া এবং  মজলুমের দোয়া।” (সুনানে তিরমিযী ৩৫৮৯ )

১২. আল্লাহ তায়ালা রোযাদারকে কেয়ামতের দিন পানি পান করাবেন। হযরত আবু মুসা রাযি. হতে বর্ণিত

আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছন, যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জন্য গরমকালে )রোযার কারণে(  পিপাসিত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন )কিয়ামতের দিন( পানি পান করাবেন।

(মুসনাদে বাযযার ৪৯৭৪)

১৩. রোযা গোনাহের কাফফরা স্বরূপ। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে অপর জুমা, এক রমাদান থেকে অপর রমাদান মধ্যবর্তী সময়ের )গোনাহের(  কাফফারা হয়ে যাবে যদি কবীরা গোনাহ হতে বেঁচে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ২৩৩ )

রমাদানের আমল

মাহে রমাদানের প্রধানতম আমল হলো, সিয়াম ও কিয়াম। হাদিস শরীফে এছাড়াও রামদানের অনেক আমলের কথা  এসেছে। এমন কিছু আমলের কথা আমরা তুলে ধরবো, বি-তাওফীকিল্লাহি তায়ালা।

১. রমাদানের চাঁদ দেখা : হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে” (সহিহ বুখারি ১৯০৯)

তাই, রমাদানের চাঁদ দেখা একটি বিশেষ সুন্নাত। শাবান মাসের ২৯ তারিখ রমাদানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা, যদি এ  দিন চাঁদ না উঠে পরবর্তী দিন চাঁদ দেখে এই সুন্নাতের উপর আমল করা।

নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়াও সুন্নত। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে এই দোয়া পড়তেন,

“ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য চাঁদটিকে নিরাপদ,ঈমান,নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করো। হে নতুন চাঁদ! আল্লাহ তায়ালা আমারও প্রভু তোমরও প্রভু।” (সুনানে তিরমিযী ৩৪৫১ )

২-৩. সিয়াম ও কিয়াম : রমাদানের রোযা ও তাবাবীহের নামাযই হলো এ মাসের মূল আমল। রোযা ও তারাবীহের  বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাদান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া  হবে।” (সহিহ বুখারি ৩৩ )

অন্য হাদিসে এসেছে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরয করেছেন, আর আমি কিয়ামুল লাইল )তারাবীহ( এর নামাযকে  সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাদানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করবে, সে ঐ  দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যভূমিষ্ঠ হয়েছিল। (সুনানে নাসায়ী ২৫১৮)

৪. কুরআনে কারীমের বেশি বেশি তিলাওয়াত: রমাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে, তাই এ মাসে কুরআনের সাথে  সম্পর্ক করার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে বেশি বেশি কুরআন  তিলাওয়াত করতেন। হাদিস শরিফে এসেছে,

 

“রমাদানের প্রতি রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম এর সাথে দেখা করতেন, এবং একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত  শুনাতেন”। ( সহিহ বুখারি ৬)

৫. বেশি বেশি দান-সাদাকাহ করা : রমাদানে সব আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। তাই, রমাদান মাস দান করার মোক্ষম একটি সময়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানে বেশি বেশি দান করতেন, হাদিস শরিফে  এসেছে,

“ রাসূল সা: ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাদানে তাঁর দান আরো বহুগুণে বেড়ে যেত।” (সহিহ বুখারি ৬)

৬. রোযাদারদের ইফতার করানো : রোযাদারদের ইফতার করানো রমাদানের অন্যতম একটি আমল। হাদিস শরীফে  এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 

“যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। কিন্তু এ কারণে রোযা  পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দু পরিমাণ কমানো হবে না” (সুনানে তিরমিযী ৭৭৭)

৭. সাহরী খাওয়া : রোযা রাখার জন্য সাহরী খাওয়ার অনেক বরকতের একটি আমল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম বলেন,

“তোমরা সাহরী খাও কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে”। (সহিহ বুখারি ১৯২৩ )

৮. সময় হলে তাড়াতাড়ি ইফতারি করা : ইফতারের সময় হলে দ্রুত ইফতার করা এবং শেষ সময়ে সাহরি করা একটি  বিশেষ সুন্নত। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“আমার উম্মত কল্যাণের মাঝে থাকবে যতোদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে এবং শেষ ওয়াক্তে  সাহরী খাবে।” ( মুসনাদে আহামাদ ২১৫০৭)

৯-১২. রমাদানের বিশেষ চারটি আমল : শুয়াবুল ঈমানের এক বর্ণনায় এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  রামাদানে চারটি আমল বেশি বেশি করতে বলেছেন, ১. বেশি বেশি কালিমার যিকির করা। ২. বেশি বেশি ইসতেগফার  করা। ৩. আল্লাহ তায়লার জান্নাত চাওয়া। ৪.জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“এই মাসে তোমরা চার কাজ বেশি করবে। অধিক পরিমাণে কালিমা-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইসতেগফার পাঠ করবে  আর আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত প্রার্থনা করবে।” (শুয়াবুল ইমান ৩৩৩৬ )

প্রিয় পাঠক, আমাদের শুধু রোজার ফজিলত জানলেই হবে না। বরং আমাদের তা অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে।

——————————————————————

‘প্রোডাক্টিভ মুসলিম’ একটি আত্মোন্নয়নমূলক বই। বইটির পাতায় পাতায় মুখর হয়ে উঠেছে—আত্ম-জাগরণ, আত্মনির্মাণ ও আত্মবিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে জীবনঘনিষ্ট আলোচনার আসর। 

কিতাবটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

——————————————————————

শেষ কথা : আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে রোজার উক্ত আমলগুলো করা এবং রোজার সকল  খাইর-বারাকাহ ও ফযিলত হাসিল করার তাওফীক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

👁️ পড়া হয়েছে: ১৫ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।