তারাবির নামাজের দোয়া পড়া কি বিদআত
প্রশ্ন
মাননীয় মুফতি রেজাউল করিম সাহেব, আমাদের তারাবির নামাজের চার রাকআত পরপর তারাবির নামাজের দোয়া হিসেবে যে দোয়াটি পাঠ করা হয় তা পাঠ করা কি বিদআত?দলীলসহ জানিয়ে রাধিত করবেন !
নিবেদক :
আব্দুল কাদের
ফরিদপুর
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর: ভাই, আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছেন। আপনি জানতে চেয়েছেন যে, আমাদের দেশের প্রচলিত তারাবির নামাজের দোয়া পাঠ করা বিদআত কি না?
তারাবীর নামাযের চার রাকাত পর পর এবং বিশ রাকাত শেষে বিতিরের পূর্বে কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব। এই বিরতীর সময় কী করতে হবে শরীয়ত তা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই ফকীহগণ বলেছেন, এসময় মুসল্লীরা যেমন তাসবীহ, তাহলীল দুআ-দুরূদ বা যে কোনো যিকিরে কাটাতে পারে তেমনি কেউ চাইলে নিরবও বসে থাকতে পারে।
যেহেতু যেকোন দুআ ও দরূদ এ সময়ে পড়া যায়। সেই হিসেবে কিছু কিছু ফুক্বাহায়ে কেরাম এ সময়
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ
তারাবির নামাজের দোয়া এটি পড়তে বলেছেন।
এটা জরুরী,বা সুন্নত-মুস্তাহাব হিসেবে পড়তে বলেননি। বরং এসময় চুপ করে থাকার চেয়ে দুআ দরূদ, জিকির আজকার করা উচিত। সেই হিসেবে তারা একটি চমৎকার আল্লাহর হামদ এবং দুআর শব্দময় উক্ত বাক্যগুলো পড়তে বলেছেন। এটি পড়া যায়। কিন্তু সুন্নত-মুস্তাহাব বা জরুরী মনে করা যাবে না। না পড়লেও কোন সমস্যা নেই।
তবে মনে রাখতে হবে
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ
তাসবীহটির পূর্ণ পাঠ সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। আর তারাবীর তারবীহার সময় পড়ার বিষয়টি একেবারেই নবআবিষ্কৃত। সাহাবায়ে কেরামের কেউ এসময় এ ধরনের কোনো তাসবীহ পড়েছেন- এমন প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই এই তাসবীহকে মুস্তাহাব বা সুন্নত মনে করার সুযোগ নেই এবং এটিকে এক্ষেত্রে পড়ার মত নির্দিষ্ট তাসবীহও মনে করা যাবে না।
বিশেষ করে কোনো কোনো এলাকায় যৌথভাবে উচ্চস্বরে যেভাবে তাসবীহটি পড়া হয় তা পরিহারযোগ্য। তবে তাসবীহের এ দুআটি হাদীসে বর্ণিত না হলেও তার অর্থ ঠিক আছে। তাই কেউ এটিকে সুন্নত মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে অনুচ্চস্বরে এটি পড়লে তাকে নিষেধ করারও প্রয়োজন নেই।

المستندات الشرعيه
واما سننها: وَمِنْهَا أَنَّ الْإِمَامَ كُلَّمَا صَلَّى تَرْوِيحَةً قَعَدَ بَيْنَ التَّرْوِيحَتَيْنِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ يُسَبِّحُ، وَيُهَلِّلُ وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَيَدْعُو وَيَنْتَظِرُ أَيْضًا بَعْدَ الْخَامِسَةِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ؛ لِأَنَّهُ مُتَوَارَثٌ مِنْ السَّلَفِ (بدائع الصنائع، كتاب الصلاة، فصل فى سننها والتراويح-1/648
وهذا الانتظار مستحب لعادة اهل الحرمين، فان عادة اهل مكة ان يطوفوا بعد كل اربع اسبوعا ويصلون ركعتى الطواف، وعادة اهل المدينة ان يصلوا اربع ركعات، وقد روى البيهقى باسناد صحيح انهم كانو يقومون على عهد عمر يعنى بين كل ترويحتين، فثبت من عادة اهل الحرمين الفصل بين كل تريحتين، ومقدار ذلك الفصل وهو مقدار ترويحة فكان مستحبا لان ما رآه المؤمنون حسنا فهو عند الله حسن، (حلبى كبير، كتاب الصلاة، صلاة التراويح-350، 404(
(يَجْلِسُ) نَدْبًا (بَيْنَ كُلِّ أَرْبَعَةٍ بِقَدْرِهَا وَكَذَا بَيْنَ الْخَامِسَةِ وَالْوِتْرِ) وَيُخَيَّرُونَ بَيْنَ تَسْبِيحٍ وَقِرَاءَةٍ وَسُكُوتٍ وَصَلَاةٍ فُرَادَى،
قَالَ الْقُهُسْتَانِيُّ: فَيُقَالُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ» كَمَا فِي مَنْهَجِ الْعِبَادِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مبحث صلاة التراويح-2/496-497، زكريا
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
মুফতি রেজাউল করিম
সহকারী মুফতি
সুফফাহ মাদরাসা, মহশপুর, ঝিনাইদহ
আরও পড়ুন: তারাবির নামাজ কত রাকাত





