মুফতি রেজাউল করিম। বাংলাদেশের উদীয়মান একজন ইসলামি স্কলার। আজ তার পরিচিতি ও খেদমত নিয়ে আলোচনা করব। চলুন তাহলে
মুফতি রেজাউল করিম
সাহেবের পরিচিতি ও খেদমত বিষয়ে কিছু কথা জেনে নেই। ( লেখক: তার ছাত্র )
জন্ম ও শৈশবকাল
মুফতি রেজাউল করিম মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের মাঝকান্দি কাশিমপুর গ্রামে ১৯৯৫ ঈসায়ি সনে জন্মগ্রহণ করেন। মুফতি রেজাউল করিম এর পিতার নাম মোঃ জয়নাল আবেদীন । তাঁর দাদার নাম মোবারক মাতুব্বর।

শিক্ষা জীবন
মুফতি রেজাউল করিম এর লেখাপড়ার সূচনা হয় নিজ গ্রামের মক্তব থেকে। এরপর তিনি তার গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়ে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
এরপর তিনি পাইকপাড়া ইউনিয়নে একটি দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সে মাদ্রাসায় ক্লাস সিক্স পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর টাকার অভাবে বই কিনতে না পারায় প্রায় এক বছর তার লেখাপড়া বন্ধ থাকে।
এভাবে তার আলিয়ার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় দীর্ঘ এক বছর পর নিজ গ্রামে একটি হিফজুল কুরআন মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে এক বছর লেখাপড়া করার পর নিজ থানায় কবিরাজপুর গ্রাম নামক জায়গায় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে দুই বছরের মধ্যে হেফজ কমপ্লিট করেন।
এরপর মুফতি রেজাউল করিম আল জামিয়া মদিনাতুল উলুম বড় গুনি মাদ্রাসায় ক্লাস ইয়াজদোহম থেকে মিজান জামাত পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন।
আরও পড়ুনঃ ইসলামীক পদ্ধতিতে বাচ্চাদের শাসন করার নিয়ম
এরপর তিনি আল জামিয়াতুল আরাবিয়া শামসুল উলুম কুশলি মাদ্রাসায় মিজান জামাত থেকে নাহবেমীর জামাত পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর মুফতি রেজাউল করিম তার মুরুব্বী ওস্তাদ হযরত মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান সাহেবের সাথে যশোর রেল স্টেশন মাদ্রাসায় চলে আসেন।
সেখানে তিনি হেদায়াতুন নাহু জামাত থেকে শরহে বেকায়া জামাত পর্যন্ত খুব সুনাম এর সাথে লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি চলে যান ঢাকায়। ভর্তি হন জামেয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসায়।
তিনি তাকমিল ফিল হাদিস সমাপ্ত করেন ঢাকাস্থ জামেয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা থেক। মুফতি রেজাউল করিম তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা পড়েন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দক্ষিণ গাঁও থেকে।
পুরস্কার ও সম্মাননা
মুফতি রেজাউল করিম সাহেব সর্বদা ক্লাসে এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর এর মধ্যে থাকতেন । ফলে তিনি প্রত্যেক পরীক্ষার পরেই মাদ্রাসা থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা পেতেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এককভাবে বিজয়ী হয়ে অনেক পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন।
কর্মজীবন
লেখাপড়া শেষ করে জামিয়া আরাবিয়া শামসুল উলুম দারুল মুকাররম, খালিশপুর, খুলনায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন। সেখানে তিনি এক বছর নাসায়ী শরীফ সহ হাদীস ও ফিকহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদি পাঠদান করেছেন। শিক্ষকতার জীবনে তিনি একজন সফল শিক্ষক। ছাত্রদের কাছে বিপুল জনপ্রিয় তার দরস।
মুফতি রেজাউল কারীমের রচনাবলী
শুধু তাই নয় তিনি একজন সফল লেখক ও। তার অনুবাদের মধ্যে রয়েছে তাকরীরে খতমে বুখারী, প্রশ্নোত্তরে দুরুসুল বালাগাত, তুমিও পারবে ইত্যাদি।
মুফতি রেজাউল করিমের আরো একটি বড় পরিচয় হলো, তিনি একজন ওয়েব ডিজাইনার। বিশেষ করে তিনি একজন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরিতে দক্ষ। দেশ-বিদেশের পঞ্চাশেরও অধিক ক্লায়েন্টের কাজ তিনি করেছেন। বর্তমানে তিনি মাদ্রাসা ও মসজিদে খেদমতের পাশাপাশি অনলাইনে এ কাজ চালু রেখেছেন।
একই সাথে তিনি একজন ডিজিটাল মার্কেটার। প্রফেশনাল ফেসবুক পেজ তৈরি, প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট, ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন সহ ডিজিটাল মার্কেটিং এর যাবতীয় সেবা তিনি প্রদান করে থাকেন। এ কাজে রয়েছে তার সুনাম ও সুখ্যাতি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মিডিয়াতে রয়েছে তার সরব বিচরণ। তার রয়েছে একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল যাতে প্রায় তিন শতাধিক এর উপরে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিডিও। তার অধিকাংশ লেকচারই আহলে হাদিস, আহলে কোরআন ও অন্যান্য বাতিল ফিরকা বা পন্থীদের বিরুদ্ধে।
রাজনীতি
মুফতি রেজাউল করিম বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। তবে তিনি সমস্ত ইসলামী দলগুলোকে সাপোর্ট করেন। যারা সত্যের উপর আছে তাদেরকে সত্য মনে করেন যারা মিথ্যার উপর আছে তাদেরকে মিথ্যা মনে করেন। ফিউচারে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হবেন কিনা ? তা জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন কথা বলেননি।
তাসাউফ
ছাত্র জামানা থেকে মুফতি রেজাউল করিম তাসাউফের লাইনে দাওয়াতুল হকের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ পরকালীন তিনি নিয়মিত আব্দুল মতিন বিন হুসাইন দামাত বারাকাতুহুম এর খানকায় যেতেন।
এখনো তিনি যশোর দড়াটানা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মুজিবুর রহমান সাহেব দামাত বারাকাতুহুমের খানকায় আসা-যাওয়া করেন এবং নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুফতি রেজাউল করীম বর্তমানে সুফফাহ মাদ্রাসা, জলিলপুর, মহেশপুরে সিনিয়র শিক্ষক এবং সহকারি মুফতি হিসেবে ইলমি খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।

চলুন, আমরা সবাই
মুফতি রেজাউল করিম
সাহেবের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে নেক হায়াত দান করন এবং আল্লাহ তায়ালা মুফতি রেজাউল কারীমের খেদমতের এ ধারা অবিরত রাখুন। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।



