Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

রমজানের শেষ দশক ও কিছু আমল

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

রমজানের শেষ দশক ও কিছু আমল

শুরুর কথা : দেখতে দেখতে আমরা রমজানের শেষ দশকের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছি। আর মাত্র  দু,দিন পরেই শুরু হয়ে যাবে রমাদানের বিদায় দশক। পবিত্র রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দশক এটি। এ  দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ দশক সকল গাফলতি ঝেড়ে ফেলে একাগ্রচিত্তে খোদার ইবাদতে আত্মনিয়োগ  করবার দশক। এ দশক মাগফেরাতের আশায় ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর ঘর মসজিদে পড়ে থাকার দশক।

এ দশক মালিকের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের দশক। তাইতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের এ দশকে আমলের প্রতি যারপরনাই গুরুত্ব দিতেন। আমলের পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে দিতেন, কোমর বেঁধে  ইবাদতে নেমে পড়তেন। এজন্য এখন থেকেই আমাদেরকে রমাদানের খাইর বারাকাত হাসিলের জন্য শেষ  চেষ্টা শুরু করে দিতে হবে। ইবাদাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। যেহেতু এ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির,  তাই, আল্লাহ পাক থেকে এই মুক্তি নিয়ে নিতে হবে। সিয়াম, কিয়াম, তিলাওয়াত, রোনাজারি, ইসতেগফার, ইতিকাফ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে ফেলতে হবে।

শেষ দশকের বিশেষ কিছু আমল

১.সর্বোচ্চ শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করা : রমাদানের শেষ দশকে নতুন করে ইবাদতের জন্য  মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়া। পূর্ণ উদ্যমতার সাথে ইবাদাতের শেষ মৌসুমকে কাজে লাগানো।  প্রতিটি মূহুর্ত যেন ইবাদতে কাটে সেজন্য সচেষ্ট হওয়া। হাদিস শরীফে এসেছে, আইশা রাযি.বলেন,

“যখন রমাদানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে  ফেলতেন অর্থাৎ, ইবাদতের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন”। (সহিহ বুখারি ২০২৪ )

অন্য হাদিসে এসেছে হযরত আইশা রাযি.বলেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের শেষ দশকে ইবাদতে যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য  কোন সময় এতো পরিশ্রম করেননি”। (সহিহ মুসলিম- ১১৭৫)

২. রাত্রি জেগে ইবাদত করা : শেষ দশকের রাত্রিগুলো ইবাদতের মধ্যে কাটানো। হাদিস শরীফে এসেছে আম্মাজান আইশা রাযি.বলেন,

“যখন রমাদানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম … রাত্র জেগে থাকতেন (রাত্রি  জেগে ইবাদত করতেন)”। (সহিহ বুখারি -২০২৪ )

৩. নিজের পরিবারের সদস্যদের ইবাদতের প্রতি জোর তাকিদ দেওয়া : পবিত্রতম এদশকে নিজের ইবাদাতের  পাশাপাশি নিজের অধিনস্থদেরও ইবাদতে মনোযোগি করা। কারণ, নিজেকে যেমনভাবে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে  হবে তেমনি নিজের আহল ও ইয়ালকেও জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম হতে রক্ষা কর। (সূরা তাহরীম -৬)

এজন্য ইবাদতের এ মৌসুমে তাদেরকেও ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। হাদিস শরীফে এসেছে,

“যখন রমাদানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবাদতের জন্য নিজের পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন”। (সহিহ বুখারি -২০২৪ )

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের রাত্রিতে আলি রাযি. ও ফাতিমা রাযি.  এর ঘরে গিয়ে ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। রাসূল সাল্লাম তাদেরকে বলতেন,

“কি হলো তোমরা জাগ্রত হয়ে নামাজ পড়বে না”? (আল-মুসতাখরাজ লিআবি আওয়ানাহ -২/৩২ যয়িফ)

হযরত ওমর রাযি.সম্পর্কে বর্ণিত আছে,

“হযরত ওমর রাযি. প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা যতটুকু চান নামায পড়তেন। অত:পর যখন শেষ রাত হয়ে  যেত তখন পরিবারের লোকদের নামাযের জন্য জাগিয়ে দিতেন। মুআত্তা মালেক ১৬৯ সহিহ সুফিয়ান সাওরী রাহি. বলেন,

“আমার কাছে পছন্দনীয় হলো, যখন রামাদানের শেষ দশক আসবে তখন রাতে সময় নিয়ে তাহাজ্জুদ নামায  পড়বে এবং নিজ পরিবার ও সন্তানদের নামাযের জন্য জাগিয়ে দিবে”। লাতাইফুল মাআরিফ ১৮৬ ৪. পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও ভালো পোশাক পরিধান করা : পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি ইবাদতের মধ্যে  মনোযোগ সৃষ্টি করে। তাই এসব রাতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ইবাদতে লিপ্ত হওয়া, প্রয়োজনে গোসল করা। “ইবনু জারীর রাহি. বলেন,

“মাদিনাবাসীরা রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে গোসল করতে পছন্দ করতেন। ইবরাহীম নাখয়ী শেষ  দশকের প্রতি রাতেই গোসল করতেন, তাদের কেউ আবার সুগন্ধি লাগাতেন।” ( লাতাইফুল মাআরিফ- ১৮৬)

৫. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : শেষ দশক তথা পুরো রমাদান মাস যে রাতের জন্য সম্মানি ও মর্যাদাবান  হয়েছে, যে রাতকে উপলক্ষ্য করেই মূলত শেষ দশকের এতো আয়োজন তা হলো লাইলাতুল কদর। পবিত্রতম  এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে। এ রাত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পৃথক একটি সূরা  নাযিল করেছেন। ঘোষণা করেছেন, ওই রাতের ইবাদত হাজার মাস ইবাদত করা থেকেও উত্তম। আল্লাহ  তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

‘কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ (সূরা  কদর: ৩) মহিমান্বিত এই রাতটি রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে অনির্দিষ্টভাবে রাখা আছে।  এজন্য শেষ দশকের রাত্রিগুলোতে বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতে  লিপ্ত থাকা এ দশকের একটি বিশেষ আমল। হাদিস শরীফে এসেছে,

“তোমরা রমদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ কর”। (সহিহ বুখারি- ২০২০)

আরও পড়ুন: টেলিগ্রাম থেকে ইনকাম করুন 5 টি উপায়ে

৬. ইতিকাফ করা : লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য এই দশকের বিশেষ একটি আমল হলো, ইতিকাফ করা। ভোগবাদী দুনিয়ার সকল মিথ্যে মায়া পরিত্যাগ করে, নিজের পরিবার-পরিজন, চাকুরি-বাকুরি, ব্যবসা-বণিজ্য  ইত্যাদি ফেলে রেখে কেবল মুনিবের সন্তুষ্টির জন্য নিভীষ্টচিত্তে মসজিদে বসে একাকী ইবাদত করা।

ইতিকাফের পরিচয়, প্রকারভেদ হুকুম

ইতিকাফ আরবী শব্দ। যার অর্থ হল, অবস্থান করা, অভিমুখী হওয়া, নিবেদিত হওয়া, নিরবচ্ছিন্ন হওয়া ইত্যাদি। আর পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয় :

“দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে অবসর হয়ে, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে এমন মসজিদে অবস্থান করা,  যেখানে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়।” (হাশিয়তুত তাহতাবী- ৬৯৯)

তবে সওয়াবের দিক থেকে ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদে হারাম। এরপর মসজিদে নববী।  তারপর মসজিদে আকসা। এরপর যেকোনো জামে মসজিদ। তারপর যেকোনো পাঞ্জেগানা মসজিদ। আর নারীদের জন্য ইতিকাফের স্থান হল ঘরের নির্দিষ্ট কোনো স্থান। (আল-মাবসূত, ৩/১১৫; রাদ্দুল মুহতার ২/৪৪১)

 

আপনি ফাজায়েল ও মাসায়েল রোজা ও ইতিকাফ

কিতাবটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন।

 

ইতিকাফ তিন প্রকার : ১.সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া : রমাদানের শেষ দশকের ইতিকাফ। সুন্নতে  মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়ার অর্থ হলো, মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে কমপক্ষে একজন হলেও তা আদায় করতে  হবে। অন্যথায় পুরো এলাকাবাসী গুনাহগার হবে। এরূপ এতেকাফের জন্য ২০ রমাদান সূর্যাস্তের পূর্বেই  মসজিদে প্রবেশ করে ঈদের চাঁদ উঠা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতে হবে।

২.নফল ইতিকাফ : রমাদানের শেষ দশকে পূর্ণ দশ দিনের কম ইতিকাফ করা বা বছরের অন্য যেকোনো সময়  যতক্ষণ ইচ্ছা, ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা।

৩.ওয়াজিব ইতিকাফ: কোন কারণে মানত করে নিজের উপর ইতিাকাফকে আবশ্যক করে নেওয়। এরূপ ইতিকাফের সর্বনি¤œ সময় একদিন, রোযাসহ এই ইতিকাফ করতে হয়। মাজমাউল আনহুর ১/২৫৫। ইতিকাফ অনেক পুরাতন একটি আমল

ইতিকাফের বিধান হযরত ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ.-এর যামানাতেও ছিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ  তায়ালা বলেন,

“আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে সেসকল লোকের জন্য পবিত্র কর, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে,  ইতিকাফ করবে এবং রুকুও সিজদা করবে। সূরা বাকারা ১২৫

যে কারণে ইতিকাফের আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ

ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এতে বান্দা দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কাজ-কর্ম থেকে সম্পূর্ণ অবসর হয়ে একনিষ্ঠ চিত্তে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে মশগুল হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। এতে মুমিন নিজেকে আল্লাহ তায়ালার  দরবারে চূড়ান্তভাবে সমপর্ণ করে দেয়। একান্তে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে কাটে দশটি দিন। যার ফলে আল্লাহর  সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এজন্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আমলের প্রতি  বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি হিজরতের পর ইন্তেকাল অবধি প্রতি বছরই এ আমল করেছেন। দাওয়াত,  তরবিয়ত, শিক্ষা, জিহাদ ইত্যাদি শত ব্যস্ততা থাকা সত্তে¡ও রমাদানে তিনি ইতেকাফ ছাড়েননি। হাদিস শরীফে  এসেছে, আইশা রাযি. বলেন,

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমাদানের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন”। (সহিহ বুখারি- ২০২৬)

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবছর গুরুত্বপূর্ণ জিহাদের কারণে ইতেকাফ করতে পারেন নি।  এজন্য পরবর্তী বছর ২০দিন এতেকাফ করে তা কাযা করে নিয়েছিলেন। হাদিস শরীফে এসেছে,

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর ইতিকাফ  করতে পারেননি। পরবর্তী বছর বিশ রাত (দিন) ইতিকাফ করেছেন”। (সুনানে আবি দাউদ- ২৪৬৩ সহিহ )

২.ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর লাভ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা নিশ্চিত থাকে। হাদিস শরীফে এসেছে  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে  ইতিকাফ করার পর যখন রমযানের ২১তম রাত এল… তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে ইতিকাফ  করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে,  তা শেষ দশকের অমুক রাত।) এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। … সুতরাং তোমরা শেষ দশকে শবে কদর  অন্বেষণ কর এবং প্রতি বেজোড় রাতে অন্বেষণ কর। (সহিহ বুখারি -২০২৭)

ইতিকাফের ফযিলত

ইতিকাফ ফযিলতপূর্ণ একটি আমল। ইতিকাফের অনেক ফযিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কিছু ফযিলত তুলে ধরা  হলো,

১. একদিনের এতেকাফের কারণে জাহান্নাম থেকে বান্দার অনেক দূরত্ব তৈরি হয়। হাদিস শরীফে এসেছে  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতেকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিনটি  পরিখা সৃষ্টি করে দিবেন, যার একটির দূরত্ব আসমান জমিনের দূরত্বের চেয়েও বেশি। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ -১৩৭১৬ জায়্যিদ )

২. ইতিকাফকারী এতেকাফে বসেই অন্যান্য নেক আমলকারীদের আমলের সওয়াব পেতে থাকে। হাদিস  শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেন,

“ সে নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং নেককারদের সকল নেকী তার জন্য লেখা হয় ”( সুনানে ইবনে  মাজাহ- ১৭৮১, যয়ীফ)

৩. ইতিকাফকারী আল্লাহর ঘর মসজিদে অবস্থান করে। আর মসজিদে অবস্থান করার কারণে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাকে জান্নাতে পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়ে নেন। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম বলেন,

“মসজিদ হলো মুত্তাকিদের ঘর। আর যার ঘর হয় মসজিদ, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহমত বর্ষণ ও পুলসিরাত  অতিক্রম করিয়ে তাকে নিজের সন্তুষ্টি তথা জান্নাতে পৌঁছানোর যিম্মাদারি নিজে নিয়ে নেন।” (মাজমাউয যাওয়ায়েদ  -২০২৬, হাসান)

৪. ইতিকাফকারী সব সময় নামাজের স্থানে থাকে এবং নামাজের জন্য অপেক্ষমান থাকে। তাই তার জন্য  ফেরেশতাগণ মাগফেরাত ও রহমতের দোয়া করতে থাকে। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম বলেন,

“তোমদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের স্থানে অযু অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ এই বলে  দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি রহম করুন।  (সহিহ বুখারি- ৪৪৫)

নামাযের অপেক্ষায় থাকার কারণে প্রতি মুহুর্তে তার গোনাহ মাফ হতে থাকে এবং আল্লহ তায়ালার কাছে তার  মার্যাদা বাড়তে থাকে। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“আমি কি তোমাদের এমন কাজের কথা জানাবো না, যা করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গোনাহ মাফ করে  দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন ? সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন। তিনি বললেন,  কষ্ট হওয়া সত্তে¡ও ভালোভাবে অযু করা, মসজিদে আসার জন্য বেশি বেশি পদচারণা করা ও এক নামযের পর  পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় থাকা। (সহিহ মুসলিম -২৫১ )

৫. ইতিকাফ কারী ব্যক্তি আল্লাহর সামনে নিজেকে সোপর্দ করে দেয়, ফলে আল্লাহর সাথে তার একান্ত  ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। তাবেয়ী আতা রাহি. বলেন,

“ ইতিকাফকারী ব্যক্তি মুহরিম ব্যক্তির মতো নিজেকে দয়াময় আল্লাহর সামনে পেশ করে।” (শুয়াবুল ঈমান- ৩৬৮৪)

মুহতারাম হাযিরীন ! উল্লিখিত ফযিলতগুলো ছাড়াও ইতিকাফকারী মসজিদে থেকে আরো আনেক পূণ্য লাভ  করার সুযোগ পায়। সবসময় তাকবিরে উলার সাথে জামাতে প্রথম কাতারে নামাজ আদায়ের সুযোগ লাভ হয়।  প্রতিমূহুর্ত কাটে গোনাহমুক্ত ও মসজিদের আমলি পরিবেশে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এখানে অবস্থান করাই ইবাদত  হিসেবে গণ্য হয়। তাই অবসর সময়ে কোনো আমল না করলেও দিনরাত তার মসজিদে অবস্থান করাটাই  ইবাদত। এমনকি ঘুমিয়ে থাকলেও সে সওয়াব পেতে থাকে। আর সবচেয়ে বড় ফযিলত তো ইতিকাফকারী নিশ্চিত ভাবে লাইলাতুল কদর পেয়ে যায়।

যেসব কারণে ইতেকাফ ভেঙ্গে যায়

গুরুত্বপূর্ণ এ আমলটি বেশ কিছু কারণে বাতিল হয়ে যায়। তাই এ দিকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, যেন  কোন অবহেলার কারণে ফজিলতপূর্ণ আমলটি নষ্ট না হয়ে যায়। নিম্নে কারণগুলো তুলে ধরা হলো, ১.বিনা প্রয়োজনে মাসজিদ থেকে বের হওয়া : কোন কারণ ছাড়া মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে ইতিকাফ  ভেঙ্গে যাবে। হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আইশা রাযি. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইতিকাফের  বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন,

“তিনি ইতিকাফরত অবস্থায় ঘরে প্রবেশ করতেন  না প্রকৃতিক প্রয়োজন (পেশাব পায়খানা) ছাড়া”। (সহিহ মুসলিম -২৯৭)

তাই, বিশেষ প্রয়োজন যেমন, প্রস্রাব, পায়খানা, অযু, ফরজ গোসল ইত্যাদির ব্যবস্থা মসজিদের মধ্যে না থাকলে  এসব কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। অনুরূপ মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মত কোন লোক না থাকলে ইতিকাফকারী খাবার আনতে মসজিদ থেকে বের হতে পারবে। এছাড়া অযথা এক মুহুর্তের জন্য  মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি জানাযা, রোগী দেখা ইত্যাদির জন্য বের হলেও  ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আইশা রাযি. বলেন ,

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় রোগীর পার্শ্বদিয়ে গমন করলে স্বাভাবিকভাবে চলে  যেতেন, তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করতেন না”। সুনানে আবি দাউদ ২৪৭২ যয়িফ

অন্য হাদিসে এসেছে আইশা রাযি. বলেন,

“ইতিকাফকারীর জন্য নিয়ম হলো, সে কোন রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না, স্ত্রীকে  স্পর্শ করবে না, তার সাথে সহবাস করবে না এবং অধীক প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না”। (সুনানে আবি দাউদ -২৪৭৩,  সহিহ)

২. রোযা না রাখা বা ভেঙ্গে ফেলা : রমাদানের শেষ দশকের ইতিকাফের জন্য রোযা শর্ত। তাই রোযা না  রাখলে বা ভেঙ্গে ফেললে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে। হাদিস শরিফে এসেছে হযরত আইশা রাযি.বলেন,

 

“রোজা ব্যতীত কোন ইতিকাফ নেই ” সুনানু আবি দাউদ ২৪৭৩ সহিহ

৩. ইতিকাফরত অবস্থায় ঋতুবতী হয়ে পড়া : ইতিকাফের জন্য যেহেুতু রোযা রাখা শর্ত। আর হায়েয, নেফাস  অবস্থায় রোযা রাখা নিষিদ্ধ। তাই এ অবস্থায় ইতিকাফ বাতিল হয়ে য়াবে। .

৪. স্ত্রী সহবাস : স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমেও ইতিকাফ বাতিল হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে আল্লাহ

আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। (সূরা বাকারা ১৮৭ )

৫. অযু, ইস্তিঞ্জা ইত্যাদি জরুরি প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয়ে অযথা বারতি সময় কাটানো : প্রয়োজন  সাপেক্ষে মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কোন কাজে বা এমনিতেই ওই প্রয়োজন ব্যতীত অযথা বাহিরে থাকলে  ইতেকাফ বাতিল হয়ে যাবে।

ইতিকাফের আদাব

ইতিকাফ যেহেতু একান্তে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার একটি বিশেষ উপলক্ষ্য। তাই এর প্রতিটি মুহুর্ত যেন  ইবাদত ও আমলের মধ্যে কাটে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। নিম্নে ইতিকাফের কিছু আদাব তুলে  ধরা হলো,

১. সম্ভব হলে মসজিদের একপার্শ্বে পর্দা দিয়ে পৃথক ইবাদতের পবিবেশ তৈরী করা। হাদিস শরীফে এসেছে আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাম একটি তুর্কি তাবুর মধ্যে ইতিকাফে বসেন, যার জানালায় টানানো ছিল চাটাইয়ের টুকরা।  সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৭৫ সহিহ

২. পুরো সময় তিলাওয়াত, যিকির, তালিম ইত্যাদি কোনো ইবাদতে মগ্ন থাকা। তবে অন্যের ইবাদত, আমল  ইত্যাদিতে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। হাদিস শরীফে এসেছে আবু সাঈদ খুদরী রাযি.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে ইতেকাফ কালে সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে কিরাত পড়তে শুনে  পর্দা সরিয়ে বললেন, জেনে রাখো! তোমাদের প্রত্যেকেই স্বীয় রবের সাথে চুপিসারে আলাপে রত আছো। কাজেই তোমরা পরস্পরকে কষ্ট দিও না এবং পস্পরের সামনে কিরাতে বা সালাতে আওয়ায উঁচু করো না।  (সুনানে আবি দাউদ -১৩৩২ সহিহ)

৩. ইতিকাফে রমজানের চারটি বিশেষ আমল বেশি বেশি করা : ১. বেশি বেশি কালিমার যিকির করা। ২. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। ৩. আল্লাহ তায়লার জান্নাত চাওয়া। ৪.জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা। হাদিস  শরীফে এসেছে, রাসূল (সা:) বলেন,

“এতে তোমরা চার কাজ বেশি করবে। অধিক পরিমাণে কালিমা-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তেগফার পাঠ  করবে আর আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত প্রার্থনা করবে।” শুয়াবুল ইমান ৩৩৩৬ যয়িফ। ৪. নি¤েœ বর্ণিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়া : হাদিস শরীফে এসেছে আইশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু কে জিজ্ঞাসা  করেন,

“হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তাহলে আপনি কী বলতে বলবেন? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি বলো,

‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাকারী, আপনি মাফ করতে পছন্দ করেন, অতএব আপনি আমাকে মাফ করে দেন’ সুনানে তিরমিযী ৩৫১৩। তাই, এই দোয়াটি পড়া, বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলোতে দোয়াটি বেশি বেশি পড়া। ৫. নফল নামাযের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। কিছু নফল নামায তো বিভিন্ন সময়ের সাথে নির্দিষ্ট।  যেমন তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন ইত্যাদি। সাধারণ সময়ে নানা কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত এ  নামাযগুলো আদায় করা হয় না। ইতিকাফের দিনগুলোতে যেন এর কোনোটি ছোটে না যায়, সে ব্যাপারে  যতœশীল হওয়া। এছাড়াও সালাতুল হাজত, সালাতুশ শোকর, সালাতুত তাওবা এবং অন্যান্য নফল নামায  আদায়ের চেষ্টা করা।

এগুলোর পাশাপশি মসজিদের আদবের প্রতিও পূর্ণ লক্ষ রাখা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। সব  সময় অযু অবস্থায় থাকার পাবন্দ হওয়া। অহেতুক কথাবার্তা ও উঁচু আওয়াজে কথা বলা থেকে বিরত থাকা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কোনো কথা না বলা। অধিক পরিমাণে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা। মুহতারাম হাযিরীন ! অত্যান্ত আফসোসের বিষয় হলো, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপূর্ণ এই আমলের প্রতি  আমাদের অবহেলা চূড়ান্ত পর্যায়ের। আমরা কেউই সাধারণত এ আমলটি করতে সহজে রাজি হতে চাই না। রমাদানের শেষ দশকের জন্য আমরা শতকাজ আগ থেকেই জমা করে রাখি। এই দশককে আমরা ঈদের

কেনাকাটা আর মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে কাটানোর জন্য নির্ধারণ করে ফেলি। অনেক চেষ্টা তদবীর করে কয়েকজন  বয়োবৃদ্ধ লোকদের ইতিকাফে বসানোর জন্য তাশকিল করে থাকি। অনেক সময় আবার টাকার বিনিময়ে কোন  দরিদ্র লোককে এতেকাফে বসানো হয়। আসতাগফিরুল্লাহ! এভাবে কাউকে ইতিকাফে বসালে ইতিকাফ হবে  না এবং এর মাধ্যমে এলাকাবাসী দায়মুক্ত হবে না। বরং সবাই এ জন্য গোনাহগার হবে।

এই আমলের প্রতি এমন অবহেলা বড়ই পরিতাপের বিষয়। অথচ, আজকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে এই  ঘোষণা আসে আগামী দশদিন লাগাতার যারা যারা অমুক কাজে শ্রম দিবে তাদেরকে একহাজার মাসের  পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। আমার মনে হয় না, আমাদের কেউ এর থেকে পিছপা হবো। অথচ রাজাধিরাজ,মহা পরাক্রমশালী, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে এ অফার দেয়া হয়েছে যে, এই দশ রাতের মধ্যে হাজার মাসের  সমান একটি রাত আছে। কিন্তু আমরা এর প্রতি তেমন গুরুত্ব দেই না। মুসলমানদের উচিত ছিল সর্বোচ্চ  আগ্রহ নিয়ে হাজার মাসের প্রতিদান হাসিল করার জন্য মসজিদে মসজিদে ইতিকাফে বসে পড়া। ইবনে শিহাব  যুহরী রাহি. মুসলমানদের প্রতি আফসোস করে বলতেন,

“মুসলমানদের জন্য বড়ই আফসোস যে, তারা ইতিকাফ ছেড়ে দিয়েছে! অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর থেকে মৃত্যু অবধি কোন রমাদানে ইতিকাফ ছাড়েননি”। (আত-তাওযীহ শরহু জামিউস-  সাহিহ -১৩/৬৬৮)

শেষ কথা : ফযিলতপূর্ণ এ দশকে যদি আমরা অবহেলা করি। আমলে কোন ধরণের পরিবর্তন না আনি।  লাইতুল কদরকে মিস করে ফেলি তাহলে আমরা অনেক পিছনে পড়ে যাবো। একই রমাদান, একই মাস,  একই সময় পেয়ে অনেক মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছ থেকে মাগফেরাত আর জাহান্নাম  থেকে মুক্তি নিয়ে নিবে। আমি যদি তাদের দলভুক্ত না হতে পারি তাহলে সবই বৃথা। আমার সিয়াম, কিয়াম,

সাহরি, ইফাতার, ইতিকাফ সবই বৃথা। এজন্য মুহতারাম! সতর্ক থাকতে হবে। এই দশক ঈদের কেনাকাটা  আর মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কাটানোর জন্য নয়। এখনো দু’একদিন সময় বাকি আছে শেষ দশক শুরু হতে। জরুরি  কোন কেনাকাটা থাকলে শেষ দশক শুরু হওয়ার আগেই তা সেরে ফেলতে পারি। এই দশককে আমরা শুধু  মাত্র ইবাদতের জন্য রেখে দেই। সম্ভব হলে ইতিকাফে বসে পড়ি। আর না হয় যারা ইতিকাফে বসবে তাদের  সহযোগিতা করি পাশাপাশি নিজেদের আমলের মাত্রা বাড়িয়ে দেই। যে কোন মুল্যে জাহান্নাম থেকে মুক্তির  ব্যাবস্থা করি। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন! ইয়া রাব্বাল  আলামীন।

👁️ পড়া হয়েছে: ১২ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।