Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

শুরুর কথা : বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে? বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করব।আশা করছি আপনারা মনাযোগ সহকারে পড়বেন। তাহলে চলুন শুরু করি,

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

১৪ ই ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা ভালোবাসা দিবস নামে পরিচিত। নামের আড়ালে মূলত এটি বেহায়াপনা, অশ্লীলতা আর নষ্টামীর মহা আয়োজন। পশ্চিমারা ছলে-বলে, কলে-কৌশলে এসব দিবসের নামে বিশ্বব্যাপী নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা ও ফ্রি মিক্সিংয়ের মত সমাজ  বিধ্বংশী কার্জলাপ আমদানি করছে।

একদল লোক নারীদেরকে চর্ব, চোষ্য, লেজ্য, পেয় হিসেবে উপভোগ করতে জোরে সোরে এ দিবস পালন করছে। কেউ আবার ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশায় এ দিবস পালনকে উৎসাহিত করছে। সামনে যেহেতু ১৪ ফেব্রুয়ারী তাই আমরা আজকের জুমায় ভালো বাসা দিবস ও এ ব্যাপারে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করবো। ইন-শা-আল্লাহ। চলুন তা হলে,

ভালো বাসা দিবসের ইতিহাস

খৃস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে উর্বরতা ও পশু দেবতা বলে খ্যাত লুপারকালিয়ার  সম্মানে পৌত্তলিক রীতিনীতির একটি অংশ হিসেবে রোমানরা ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন করে। এই অনুষ্ঠানের কর্মসূচীছিল যুবতীদের নামে লটারী ইস্যু করা হতো। লটারীতে যে যুবতী যে যুবকের ভাগে পড়ে, আগামী বছর এ দিন আসা পর্যন্ত সে যুবতীকে ওই যুবক ভোগ করতো।

অর্থাৎ লটারীর মাধ্যমে যুবতীদের বণ্টন করা হতো। সে দিন ওই দেবতার নামে পশু জবাই করা হতো। জবাইকৃত পশুর চামড়া যুবতীর গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হতো। অত:পর ছাগল ও কুকুরের রক্তে ভেজা চাবুক দিয়ে তাকে প্রহার করা হতো। মনে করা হতো যুবকদের প্রতিটি পবিত্র আঘাত দ্বারা ওই সব যুবতী সন্তান জন্ম দেওয়ার উপযুগী হবে। এই অনুষ্ঠানটি পালিতহ তো ১৪ই ফেব্রুয়ারী।

পরবর্তীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায় যথারীতি লুপারকালিয়ার এ ঘৃণ্য রীতি কে বন্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। প্রথমে তারা মেয়েদের নামে লটারীর বদলে ধর্মযাজকদের নামে লটারীর ব্যবস্থা চালু করে এবং যে যুবকের নাম লটারিতে ওঠতো, তাকে পরবর্তী একটি বছর যাজকের সুহবতে রাখত।

269 সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও  চিকিৎসকের আবির্ভাব হয়। অনেকের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে তৎকালীন রোম সম্রাট  দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দী করেন। বন্দী অবস্থায় সে জনৈক কারা রক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়ে কে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন এবং সেই মেয়ের সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

যার ফলে রাজা তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর 496 সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউ ও ১ম জুলিয়াস সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এরস্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারি কে ভ্যালেন্টাইন’স দিবস ঘোষণা করে। উইকিপিডিয়া।

পরবর্তীতেসারা বিশ্বে এর প্রসার ঘটে। এ দিবসকে যুবক-যুবতী ও তরুণ-তরুণীরা ভালো বাসার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। এ দিনে তারা নানান অবৈধ কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন, গান, বাজনা, ডিজে,  উলঙ্গনৃত্য, বাঁধাহীন উল্লাস, মাদকদব্য সেবন সহ  এমন অনেক কর্মকান্ডের আয়োজন করে। মোটকথা, এ দিবসটি যুবক-যুবতীদের কে বিভিন্ন অপকর্মে প্রলুব্ধ করে, বেহাপনা ও অশ্লীলতার রাস্তা দেখায়।

ইসলামি দৃষ্টি ভঙ্গি

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ইতিকথা কিছুটা হলেও আমাদের কাছে স্পষ্ট। এটি মুসলমানদের কোন অনুষ্ঠান নয়। এমনকি সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ এর সমর্থন করতে পারে না। বরং এটি বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা বৈধতা দেওয়ার একটি পাশ্চাত্য পরিকল্পনা। তাই প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরী হলো, এই ভালোবাসা দিবসকে বর্জন করা। নিম্নে আমরা ভালোবাসা দিবস বর্জন করার শরঈ কিছু কারণ তুলে ধরছি,

১. সরাসরি হারাম কাজ : এই দিবসটির শুরুই হয়েছে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র  করে এবং এর অন্যতম একটি উদ্যেশ্য হলো সমাজে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার বিস্তার ঘটানো। বাস্তবেও তাই হচ্ছে, এইদিবস কে কেন্দ্র করে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা সমাজে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে পড়ছে। তরুণ-তরুণীরা ফ্রি মিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। যার ফলেস মাজে যিনা,ব্যাভিচার ও পরকীয়া ইত্যাদি মহামারি আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে
      বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

এই ভালোবাসা দিবস নামের বেহায়া দিবসের ফলে আমরা দেখতে পাই ১১বছরের মেয়ে হাসপাতালের বেডে নিজের অসুস্থ মাকে ফেলে রেখে বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এটিই আমাদের সমাজের আজকের চিত্র। ইসলাম এই অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الۡفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ مَا بَطَنَ وَ الۡاِثۡمَ وَ الۡبَغۡیَ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَ اَنۡ تُشۡرِكُوۡا بِاللّٰهِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِهٖ سُلۡطٰنًا وَّ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

 “বলে দাও, আমার প্রতিপাল কতো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ সমূহ-প্রকাশ্য হোক বা গোপন এবং সর্বপ্রকার গোনাহ, অন্যায়ভাবে কারও প্রতি সীমালংঘন, আল্লাহ যে সম্পর্কে কোনও প্রমাণ অতীর্ণ করেননি,  এমন জিনিস কে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করণ এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলা কে, যে সম্পর্কে তোমাদের বিন্দু মাত্র জ্ঞান নেই। ”সূরাআ’রাফ-৩৩

এসব গোনাহ করা তো অনেক পরের কথা! এগুলোর ধারে কাছে যেতেও আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। আল্লাহ  তায়ালা বলেন,

وَ لَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ مَا بَطَنَ ۚ

আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে। ”সূরা আন আম -১৫১

আল্লাহ  তায়ালা আল্লাহ,

وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا

ব্যভিচারের  কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা ও বিপথ গামিতা। ”সূরা ইসরা-৩২

যিনা-ব্যভিচার,পরকীয়া ও অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত নারী-পুরুষকে পরকালে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।

মেরাজে নবীজিকে এসব লোকদের বীভৎস অবস্থা দেখানো হয়েছে। তাদের অবস্থাবর্ণনা করে নবীজি বলেন,

فانْطَلَقْنا، فأتَيْنا علَى مِثْلِ التَّنُّورِ – قالَ: فأحْسِبُ أنَّه كانَ يقولُ – فإذا فيه لَغَطٌ وأَصْواتٌ قالَ: فاطَّلَعْنا فِيهِ، فإذا فيه رِجالٌ ونِساءٌ عُراةٌ، وإذا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبٌ مِن أسْفَلَ منهمْ، فإذا أتاهُمْ ذلكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوْا

চুলার মতো একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম। সেখানে শোর গোলও নানা শব্দ ছিল। আমরা তাতে উঁকি মেরে দেখলাম, তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী-পুরুষ আছে। আর নিচ থেকে নির্গত আগুনের লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে। যখন এই লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে, তখনই তারা উচ্চ রবে চিৎকার করে উঠছে।

জিবরীল আ. কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,  “তারা হলো ব্যভিচারী- ব্যভিচারিণীর দল।” সহিহ বুখারি, ৭০৪৭

আরও পড়ুন: ওরাল সেক্স কি? ওরাল সেক্স কি হারাম

২.বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন : এই দিবস উদযাপন অবৈধ হওয়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হলো, অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন। এ কারণেও এই দিবস পালন নিষিদ্ধের আওতাভুক্ত থাকবে। কারণ এতে অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। এটি নিষিদ্ধ।হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

ليس منا من تشبه بغيرنا، لا تشبهوا باليهود والنصارى

“বিজাতির অনুসরণকারী ব্যক্তি আমাদের দল ভুক্ত নয়।তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ করো না।

অন্য হাদিসে এসেছে নবীজিব লেন,

مَن تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

“যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দল ভুক্ত গণ্য হবে। আবু দাউদ: ৪০৩১

৩.বিধর্মীয় দিবসের প্রতিসম্মান প্রদর্শন: এই দিবস পালন করলে বিধর্মীয় দিবসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। অথচ বিধর্মীদের কোন আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা শুভেচ্ছা জানানো  বৈধ নয়। তাই‘ আই লাভ ডে’ বলে এই দিন কে অভিবাদন জানানো বৈধ হবে না। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহি. বলেন,

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে
বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به فحرام بالاتفاق، مثل أن يهنئهم بأعيادهم وصومهم، فيقول: عيد مبارك عليك، أو: تهنأ بهذا العيد ونحوه، فهذا إن سلم قائله من الكفر فهو من المحرمات، وهو بمنـزلة أن يهنئه بسجوده للصليب، بل ذلك أعظم إثمـاً عند الله، وأشد مقتـاً من التهنئة بشرب الخمر وقتـل النفس، وارتكاب الفرج الحرام ونحوه،

“কোন কুফরি আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্ব সম্মতিক্রমে হারাম। যেমন-তাদের উৎসবও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা‘ তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এজাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এশুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা কুফরির পর্যায়ে না পৌঁছে; তথাপি এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত।

এটি ক্রসের সেজদা করার জন্য কোন ব্যক্তি কে অভিনন্দন জানানোর সমতুল্য গোনাহ। বরং এটি আল্লাহ তায়ালার কাছে মদ পান করা, আত্মহত্যা করা, ব্যভিচার করার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়েও বেশি ঘৃণ্য ও জঘন্য ।”আহকামু আহলিয যিম্মাহ১/৪৪১

শায়েখ উসায়মিন রাহি. বলেন, কাফেরদের বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, কাজ বন্ধ রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য হারাম। মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬

৪.      হারাম কাজে অর্থ খরচ: এ দিবসে নানান অবৈধ কাজে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়। নাচ-গান, বিভিন্ন পদের খাবার, হোটেল বুকিং, আনন্দ শোভাযাত্রা ইত্যাদি গোনাহের কাজে প্রচুর অর্থখরচ করা হয়। এগুলো স্পষ্ট হারাম কাজ। এগুলোর জন্যও আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাব দিতে হবে। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

لا تزول قدم ابن آدم يوم القيامة من عند ربه حتى يسأل عن خمس: عن عمره فيما أفناه، وعن شبابه فيما أبلاه، وماله من أين اكتسبه وفيما أنفقه، وماذا عمل فيما علم

কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের  পদদ্বয় আল্লাহ তাআলার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে। তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মুতাবিক কি কি আমল করেছে। সুনানে তিরমিযী:২৪১৬

গোনাহের এই আয়োজনে মুমিনের করণীয়

১.নাহী আনিল মুনকার করা: নাহী আনিল মুনকার করা মুমিনের আবশ্যকীয় দায়িত্ব।স মাজে যখন কোন অন্যায়, পাপ ও খোদার নাফরমানির আয়োজন চলে তখন মুমিনের উপর আবশ্যক হয়ে পড়ে নাহী আনিল মুনকার করা। অন্যায় ও গোনাহের কাজের লাগাম টেনে ধরা।অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষ কে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভ কারী।”সূরা আলে ইমরান ১০৪।

হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

من رأى منكم منكرا فليغيره بيده ، فإن لم يستطع فبلسانه ، فإن لم يستطع فبقلبه ، وذلك أضعف الإيمان

“তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক। ” সহিহ মুসলিম-49

তাই অন্যায়ের প্রতিরোধ ও বাধা প্রদান সম্ভব হলে হাত দিয়ে করতে হবে, না পারলে বয়ান এর মাধ্যমে করতে হবে এবং অন্যায় কে ঘৃণা করতে হবে।

মুহতারাম হাযিরীন! যদি আমরা এসব গোনাহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা না করি, তাহলে সকলকেই আল্লাহর আযাবের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে বাঁধানা দিলে আল্লাহর আযাব এসে গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে যারা অন্যায় কাজে বাঁধা প্রদান করেনি তাদেরকেও ধয়ংস করে দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দাউদ আ. এর উম্মতের এমন একটি ছোট ঘটনা বর্ণনা করেছেন। দাউদ আ.- এর উম্মতের জন্য শনিবার দিন বিশেষভাবে ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ছিল।

এ দিনে জীবিকা উপার্জনমূলক সকল কাজ তাদেরজন্য নিষিদ্ধ ছিল। তারা সাগরের উপকূলে বসবাস করতো। তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান পেশা ছিল মাছ শিকার করা। এদিকে শনিবার দিন সাগরের মাছগুলো একেবারে কিনারে চলে আসত। এ দিনে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকায় তারা প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে মাছ আটকে রেখে রবিবার দিন সেগুলো শিকার করতো। কিন্তু কিছু দিন পর শনিবার দিনেই মাছ শিকার শুরু করে দেয়।

তারা যখন মাছ শিকার করে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে পড়ল, তখন একদল মানুষ তাদেরকে নাহী আনিল মুনকার করল। অন্যায় কাজ করতে বাঁধা প্রদান করলো। আর আরেক দল মানুষ নাহী আনিল মুনকার থেকে বিরত থাকলো । দাঈদের বলতে লাগলো নিষেধ করার কী দরকার? আল্লাহর অবাধ্যতা করলে আল্লাহ বিচার করবে। তোমাদের ওয়াজ করার কী দরকার? তাদের অবস্থা বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وإذ قالت أمة منهم لم تعظون قوما الله مهلكهم أو معذبهم عذابًا شديدًا قالوا معذرة إلى ربكم ولعلهم يتقون

“এবং (তাদের কে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তাদেরই একটি দল (অন্য দলকে) বলেছিল, তোমরা এমন সব লোক কে কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদের কে আল্লাহ ধয়ংস করে ফেলবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন? তারা বলল,(আমরা এটা করছি) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়ি মুক্ত হওয়ার জন্য এবং(এ উপদেশ দ্বারা) হতে পারে, তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে।”সূরা আ’রাফ-১৬৪

এর পর যখন শাস্তি আসা শরু হলো তখন কেবল যারা নাহী আনিল মুনকার করেছিল তারাই রক্ষা পেয়েছে। আর বাকি দুই দল, যারা সরাসরি পাপে লিপ্ত ছিল এবং যারা নাহী আনিল মুনকার করেনি উভয়দলকে আল্লাহ তায়ালা অভিশপ্ত বানরে পরিণত করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ (165) فَلَمَّا عَتَوْا عَن مَّا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ

“তাদের কে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন অসৎ কাজে যারা বাঁধা দিচ্ছিল তাদেরকে তো আমি রক্ষা করি। কিন্তু যারাসীমালংঘন করে ছিল, উপর্যপুরি অবাধ্য তার কারণে তাদের কে এক কঠোর শাস্তি দ্বারা আক্রান্ত করি। সুতরাং তাদেরকে যে কাজ নিষেধ করা হয়েছিল, তারা যখন তার বিপরীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল, তখন আমি তাদের কে বললাম, ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।”সূরা আরাফ১৬৫-১৬৬

তাই আমাদেরকে সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। সেই অপরাধ ব্যক্তিগত উদ্যোগে হোক বা সামাজিকভাবে হোক কিংবারাষ্টীয় আয়োজনে হোক। প্রতিটি অন্যায় আর খোদার নাফরমানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করা মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। ১৪ই ফেব্রুয়ারি  আসলে আমরা দেখতে পাই ভালোবাসা দিবসের নামে আমাদের দেশে সামাজিক ভাবে নানা অপরাধ ও অন্যায় কাজ সংঘটিত হয়। যুবক-যুবতীদেরকে অবৈধ সম্পর্কের দিকে উদ্বুদ্ধ ক রাহয়। তাই এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আমার, আপনার সকলের দায়িত্ব।

২.নিজের অধিনস্তদের ফিরিয়ে রাখা: আমরা নিজেরাও এই দিবস উদযাপন করবো না এবং আমাদের সন্তানদেরকেও এ দিবস উদযাপন করতে দেবনা। কঠোর হস্তে তাদের কে বারণ করব। অন্যথায় তাদের কারণে আল্লাহর দরবারে আমাকে জবাদিহি করতে হবে। কারণ তারা আমাদের অধিনস্ত। ইচ্ছা করলেই তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যেত। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

كلكم راعٍ، وكلكم مسئولٌ عن رعيته، فالإمام راعٍ ومسئولٌ عن رعيته، والرجل راعٍ في أهل بيته ومسئولٌ عن رعيته، والمرأة راعية في بيت زوجها ومسئولةٌ عن رعيتها

“তোমরা সবাই জিম্মাদার এবং তোমাদের সবাইকে তার জিম্মাদারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম জিম্মাদার, তাকে তার অধীনস্থদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অনুরূপব্যক্তি তার পরিবারে জিম্মাদার। তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীর ঘরের জিম্মাদার। তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকরাহবে।অতএবতোমরাসবাই জিম্মাদারএবং সবাইকেতারজিম্মাদারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাহবে”। সহিহ বুখারি।-893

আমরা যদি আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের এসব গোনাহ থেকে বিরত রাখতে না পারি তাহলে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতার পাশা পাশি কঠি নশাস্তির মুখোমুখিহতে হবে। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীসন্তানদের গোনাহ থেকে বিরত রাখে না, মেয়েদের পর্দায় চালায় না তাকে দাইয়ূস বলে। দাইয়ূস জান্নাতে যাওয়া তো দূরের কথা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাদের দিকে তাকাবেন না।হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

ثلاثة لا ينظر الله عز وجل إليهم يوم القيامة: العاق لوالديه، والمرأة المترجلة، والديوث

“তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন দৃষ্টি দিবেন না ,পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী, দাইয়ূস অর্থাৎ যে নিজের স্ত্রী কন্যা কে পাপাচারের সুযোগ দেয় এবং এতে ঘৃণা বোধ করে না” সূনানে নাসাঈ ২৫৬২

৩.এই সংস্কৃতির প্রতি অন্তরে ঘৃণা পোষণ   করা: এসব দিবস উদযাপন করা তো যাবেই না, এমনকি মনে মনে ও এর প্রতি কোন সমর্থন পোষণ করা যাবে না। বরং এই দিবসের প্রতি অন্তরে ঘৃণা লালন করতে হবে। কারণ এসব দিবস উদযাপনের প্রতি সহমত বা সম্মতি পোষণ করলে পাপ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই গণ্য করা হবে। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

إذا عملت الخطيئة في الأرض كان من شهدها فكرهها – وقال مرة: أنكرها – كان كمن غاب عنها، ومن غاب عنها فرضيها كان كمن شهدها

“কোন স্থানে যখন অন্যায় সংঘটিত হয়, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যক্তি তাতে অসন্তুষ্ট হলে সে অনুপস্থিতদের মতোই গণ্য হবে (তার গোনাহ হবে না)। আর যে ব্যক্তি অন্যায় কাজের স্থান থেকে অনুপস্থিত হয়েও তাতে সন্তুষ্ট হয়, সে অন্যায়ে উপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত( গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তির মত তারও পাপ হবে)। সুনানে আবি দাউদ: ৪৩৪৫

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে
বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

মুমিনের ভালোবাসা হবে যাদের জন্য

মুহতারাম হাযিরীন! ভালোবাসা, মায়া ও মহব্বত আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি। এটি প্রতিটি মানুষে রমাঝেই আল্লাহ তায়ালা দিয়ে রেখেছেন। তাই তো আমরা দেখতে পাই একজন মা তার সন্তানের জন্য রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেয়, বাবা তার শরীরের রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও সন্তনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিশ্রম করে। মানুষ তার আত্মীয়-স্বজনের জন্য কখনো জীবন বাজি রেখে দেয়। কখনো আবার অবৈধ ভালোবাসার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে দেয়। তাই এখন আমাদের জানতে হবে এই ভালোবাসার সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগ ক্ষেত্র কী হবে।

নিম্নে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক অনুমোদিত ভালোবাসার সঠিক কিছু প্রয়োগ ক্ষেত্র তুলে ধরছি,

১.আল্লাহ ও রাসূলের জন্য ভালোবাসা: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে। এটি ঈমানদারের অন্যতম একটি আলামত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

والذين آمنوا أشد حبا لله

“আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহ কে ই সর্বাপেক্ষা বেশি ভালোবাসে। ”সূরাবাকারা১৬৫

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“(হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাক, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ”সূরা আলে ইমরান৩১

হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله، وأن يكره أن يعود في الكفر بعد إذ أنقذه الله منه كما يكره أن يقذف في النار.

“যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে সে ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা পেয়ে যায়; এক. যার কাছে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল অন্য সব কিছু অপেক্ষা বেশি প্রিয়; দুই. যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা রাখে এবং আল্লাহরজন্য শত্রুতা পোষণ করে; তিন. আর যদি ভয়াবহ আগুন প্রজ্বলিত করা হয়, তবে তাতে প্রবেশ করা তার কাছে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা অপেক্ষা বেশি পছন্দনীয় হয়।” সহিহ বুখারি ১৬

অন্য হাদীসে এসেছ, নবীজী বলেছেন,

لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبَّ إليه من ولده ووالده والناس أجمعين

“তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পাররে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয় না হব”। সহিহ বুখারি-১৫

পাঠক, অপনি পড়ছেন,

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য সামনে চলুন।

২.মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা: মুমিন বান্দার ভালোবাসা ও সদাচারণ হবে পিতা-মাতার প্রতি। সে তার মা- বাবাকে জীবন দিয়ে ভালোবাসবে। তাদের সাথে সর্বোচ্চ নম্র ব্যবহার করবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে নির্দেশ বলেন,

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا (23) وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

“তোমার প্রতি পালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের কে উফ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের কে ধমকদিও না; বরং তাদের সাথে সম্মান জনক কথা বলো। এবং তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে তাদের সামনে নিজেকে বিনিয়াবনত করো এবং দোয়া করো, হেআমার প্রতি পালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন। ”সূরা বনি ইসরাঈল২৩-২৪

 

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে
      বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

পিতা-মাতাকে ভালোবাসা, তাদের সাথে সদাচরণ করা আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল। হাদিস শরীফে এসেছে,

جاء رجل إلى رسول الله ﷺ فقال: يا رسول الله، من أحق الناس بحسن صحابتي؟ -يعني: صحبتي، قال: أمك قال: ثم من؟ قال: أمك، قال: ثم من؟ قال: أمك، قال: ثم من؟ قال: أبوك

“আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার আধিক হকদার? তিনি বললেন, তোমারমা। লোকটি বললো, অত:পর কে? নবীজি বললেন, তোমার মা। সে বললো, অত:পর কে? নবীজি বললেন, তোমার মা। সে বললো, অত:পরকে? নবীজি বললেন, অত:পর তোমার বাবা। ”সহিহ বুখারি 5971

৩.স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি ভালোবাসা :দুনিয়াতে মানুষের অন্তত একজন একান্ত ভালোবাসার মানুষের প্রয়োজন হয়, যে সুখে-দুঃখে তার সঙ্গ দেবে। যার চোখে তাকিয়ে হতাশা ও কষ্ট ভুলবে। তার উপস্থিতি তাকে প্রশান্তি দেবে। মানুষের এই চাহিদা মেটাতে মহানআল্লাহতায়ালা এক পবিত্র সম্পর্কের সৃষ্টি করেছেন,তা হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًا لِّتَسْكُنُوٓاْ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ

“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টিক রেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।”সুরা রুম ২১।

তাই দুজনের মাঝে ভালোবাসা ও মুহব্বত তৈরিতে বিবাহের চেয়ে উত্তম কোন পন্থা হতে পারেনা। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

لم ير للمتحابين مثل النكاح

ভালোবা সাস্থাপনের জন্য বিয়ের বিকল্প নেই”। সুনানেইবনেমাজাহ:১৮৪৭সহিহ

৪.সন্তান ও নাতি-নাতনি দের জন্য ভালোবাসা: একজন মানুষ প্রাণ উঝার করে নিজের সন্তান-সন্তুতি, নাতি-পুতিদের ভালোবাসবে। কারণ সন্তানাদি মানুষের দুনিয়ার জীবনের শোভা।পবিত্র  আল্লাহ তায়ালা বলেন,

الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا

“সম্পদ ও সন্তান পার্থিব জীবনের শোভা। তবে যে সৎকর্ম স্থায়ী, তোমার প্রতিপালকের নিকট তা সওয়াবের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট এবং আশা পোষণের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট।” সূরা ফাহফ-৪৬

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সন্তানদেরকে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি নিজের নাতিদের কেও ভালোবাসতেন। হাদিস শরীফে এসেছে,

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنهما قَالَ: طَرَقْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي بَعْضِ الْحَاجَةِ، ” فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُشْتَمِلٌ عَلَى شَيْءٍ لَا أَدْرِي مَا هُوَ “، فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ حَاجَتِي قُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي أَنْتَ مُشْتَمِلٌ عَلَيْهِ؟ ، قَالَ:” فَكَشَفَهُ ، فَإِذَا حَسَنٌ وَحُسَيْنٌ عَلَى وَرِكَيْهِ، فَقَالَ: هَذَانِ ابْنَايَ، وَابْنَا ابْنَتِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فَأَحِبَّهُمَا، وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُمَا 

“উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. বলেন, এক রাতে আমার কোনো প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে  এলেন যে একটা কিছু তাঁর পিঠে জড়ানো ছিল, যা আমি অবগত ছিলাম না।আমি আমার প্রয়োজন সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার  দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কী? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উন্মুক্ত করলে দেখা গেল তাঁর দুই কোলে হাসান ও হুসাইন রাযি.। তিনি বলেন, এরা দুজন আমার পৌত্র (দৌহিত্র)এ বংআমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দুজনকে ভালোবাসি। সুতরাং তুমি তাদের ভালোবাসো এবং যে ব্যক্তি এদের ভালোবাসবে, তুমি তাদেরও ভালোবাসো। ” সুনানে তিরমিযি ৩৭৬9

আরও পড়ুন: যেভাবে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন

5.আত্মীয়দের জন্য ভালোবাসা: আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা রাখা তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। এর মাধ্যমে রিজিকের দরজা খোলে,এমনকি এতে জান্নাতের দরজাও খোলে। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন;

أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشوا السَّلامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا باللَّيْل وَالنَّاسُ نِيامٌ، تَدخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلامٍ

“হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসারতা বাড়াও, আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ় করো, খাদ্য দান করো, রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমে থাকে তখন তাহাজ্জুদের সালাত পড়ো, তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। সুনানে ইবনে মাজাহ ৩২৫১

6.মুমিনদের জন্য ভালোবাসা: মুমিন একে অপরকে ভালোবাসবে। তাদের মাঝে পরস্পরে ভালোবাসার বন্ধন থাকা জরুরী একটি বিষয়। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা স্থাপন করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। হাদিস শরীফে এসেছে,

إن الله تعالى يقول يوم القيامة: أين المتحابون بجلالي؟ اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظل إلا ظلي

“আবু হুরায়রা রাযি.বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার বিশেষ ছায়া প্রদান করব। আজ এমনদিন, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া নেই।” সহিহ মুসলিম-২৫৬৬

যে ভালোবাসা আফসোস ও ধ্বংসের কারণ হবে

ভালোবাসা এবং মহব্বত যখন আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের বিধান মতো হবে তখন তা দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার জন্য উপকারী হবে। অন্যথায় তা বিপদের কারণ হবে। এমন কি সন্তান বা পরিবারের প্রেমে অন্ধ হয়ে খোদার না ফরমানী তে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতিরস ম্মুখীন হতে হবে। পবিত্র কুরআনে  আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

“বলে দাও, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা, যার মন্দ হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্র দায় কে  হিদায়াত করেন না”। সূরা তাওবা-২৪

আর আল্লাহ তায়ালা যেসব ভালোবাসা হারাম করেছেন, বা যাদের সঙ্গে ভালোবাসার বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক করতে নিষেধ করেছেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন তো ভয়ংকর অপরাধ। কিয়ামতের ময়দানে এরূপ ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব বড়ই আফসোসের কারণ হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا (27) يَا وَيْلَتَىٰ لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا (28) لَّقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي ۗ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولًا

“সেদিন যালিম আফসোসে নিজের হাত কামড়াবে এবং বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ ধরতাম! হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে তো উপদেশ এসে গিয়েছিল, কিন্তু সে (ওই বন্ধু) আমাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আর শয়তান তো মানুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যায়। ”সুরা ফুরকান:২৭-২8

শেষকথা : আমাদের কর্তব্য হবে বিজাতীয় সকল অপসংস্কৃতিকে বর্জন করা এবং এসব নোংড়া সংস্কৃতি থেকে আমাদের দেশ, সমাজ ও পরিবারকে মুক্ত করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাসহ সকল প্রকার গোনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন। আমাদের অন্তরে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও দীন- ঈমানের সর্বোচ্চ ভালোবাসা দান করুন। আমীন!ইয়া রাবয়াল   আলামীন।

পাঠক অবশ্যই জানাবেন,

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

প্রবন্ধটি আপনাদের কাছে কেমন লাগল। ধন্যবাদ । ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুনঃ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) কী? সুবিধা ও অসুবিধা

👁️ পড়া হয়েছে: ২ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।