Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

মানুষ কেন ব্যবসা করে? ধনসম্পদ কি মন্দ জিনিস?

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

সার্ভিস সেল ও ক্লাইন্ট ক্লোজ করার উপায়

মানুষ কেন ব্যবসা করে? আপনার আমার সবার জন্য ব্যবসা করা দরকার। ব্যবসা কেন দরকা জানেন? সে বিষয়টি জানানোর জন্যই আজকের প্রবন্ধটি। আজ দুইটি টপিক নিয়ে আলাচনা করব। এক. মানুষ কেন ব্যবসা করে? আপনার জন্য ব্যবসা কেন দরকার? দুই. ধনসম্পদ কি মন্দ জিনিস?

মানুষ কেন ব্যবসা করে?

অর্থসম্পদ মানব-জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। পকেটে পয়সা না থাকলে পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা খুব মুশকিল। আপনজনের কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মানটুকুও মেলে না অর্থ নেই বলে। যে মানুষটা দুদিন পরপর টাকার জন্য হাত পাতে অন্যের কাছে, কতদিন সম্মান ধরে রাখা যায় তার প্রতি? ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থ ছাড়া এক কদমও অগ্রসর হওয়া যায় না এই পৃথিবীতে। জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের এমন কোনো অধ্যায় নেই, যেখানে অর্থের প্রয়োজন পড়ে না। অর্থাৎ অর্থসম্পদ আমাদের জীবনের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।

সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই ইসলামের পক্ষ থেকে। তবে শর্ত হলো, উপার্জন হতে হবে হালাল। হালাল পন্থায় যেকোনো পেশা কিংবা কাজের মাধ্যমে রিজিক অন্বেষণ করা যেতে পারে। তবে উপার্জনের সর্বাধিক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ পন্থা হচ্ছে ব্যবসা করা। কারণ, ব্যবসার দ্বারা দ্বীনের যত বেশি খিদমত করা যায়, মানুষের মাঝে যত বেশি সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, তা আর অন্য কোনো পেশার মাধ্যমে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমনকি ব্যবসার দ্বারা উপার্জনের পরিমাণটাও হয় সবচেয়ে বেশি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তার সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা, আচার-ব্যবহার, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাবসায়িক লেনদেন ছিল অন্য সবার থেকে ভিন্ন। আর এ কারণেই তখনকার সকল ব্যবসায়ীর তুলনায় তার লাভের পরিমাণও ছিল সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার নজর কাড়ে। কারণ, তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী।[১] ব্যবসার গলি-ঘুপচি ও লাভ-লোকসানের হিসাব তার খুব ভালো করেই জানা। খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে নবিজির বিয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবসা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন- আর আল্লাহ কিছুতেই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের কর্তৃত্ব দেবেন না ।

এ আয়াতটি ঘুম ভাঙানোর আয়াত। প্রসিদ্ধ আলিমগণ আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেছেন, এখানে মুসলিমদেরকে অন্যের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে নিজে কিছু করা এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ব্যাপারে আদেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্যের ওপর নয়, নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ নিজের ওপর হওয়াটা আবশ্যক বলে জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি একজন মুসলিমকে সবসময় আগে আগে থাকতে হবে, কখনো পিছিয়ে পড়া চলবে না।

মহামহিম আল্লাহ কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বারবার সাদাকাহ করার কথা বলেছেন— তোমরা সালাত আদায় করো এবং যাকাত প্রদান করো।

এখানে যাকাত ও সাদাকাহ প্রদানের নির্দেশ দিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা, কিন্তু কারো কাছে অর্থই যদি না থাকে, তাহলে গরিব-দুখীদের প্রতি সাদাকাহ করবেটা কী দিয়ে?

সব সমস্যার সঠিক সমাধান থাকা পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা দ্বীন-ইসলাম আমাদের জানাচ্ছে, যারা দান করে এবং অসহায়ের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তারা সেসব লোকের তুলনায় হাজার গুণে ভালো, যারা কৃপণতা করে সাদাকাহ থেকে দূরে থাকে।

OEDAGAR Stylish Stainless Steel Watch
         ঘড়িটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন। 

এই সবকিছু জানার পরে এখন সাদাকাহ করতে গেলে, আপনার অবশ্যই সামর্থ্য থাকা প্রয়োজন। আর সামর্থ্য তো অর্থ থাকা, না-থাকার ওপরেই নির্ভর করে। তাই সামর্থ্য অর্জনে প্রতিটি মুসলিমের জন্য ব্যবসা করা এবং অন্যকে এর প্রতি আন্তরিক উৎসাহ প্রদান একান্ত কাম্য বিষয় বলেই প্রতীয়মান হয়।

চিরায়ত সত্য ধর্ম ইসলামের চলে আসা সুমহান কালপরিক্রমায় আমাদের সামনে আদর্শ ব্যবসায়ী হিসেবে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করছে নবি-রাসুল, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিখ্যাত সব আলিমের নাম। যেমন : আবু হানিফা, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম মুসলিম ও ইমাম নাসায়ি রাহিমাহুমুল্লাহ—এরা সবাই ছিলেন তাদের সময়ের সফল ব্যবসায়ী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও ব্যবসায়ী ছিলেন। তাই নির্দ্বিধায় এ কথা বলা চলে, ব্যবসা করা মোটেও দূষণীয় কিছু নয়; বরং ব্যবসা করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসা ব্যক্তিকে নিজের ওপর নির্ভরতা শেখায়। ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। ব্যবসা করলে অর্থসম্পদ বৃদ্ধি পায়, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যখন যেখানে দরকার, পরিমিত ও ঠিকঠাক খরচ করাটা ব্যক্তির পক্ষে খুব সহজ ও তার আয়ত্তাধীন হয়ে ওঠে।

ধনসম্পদ কি মন্দ জিনিস?

সাধারণ অনেক মুসলিম ধনসম্পদকে খারাপভাবে দেখে এবং ধনসম্পদ থাকাকে খারাপ মনে করে। সমাজের ধনীদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখে কিংবা তাদের প্রতি একধরনের নেতিবাচক মনোভাব লালন করে। এটা সম্পূর্ণ পরাজিত একটি মানসিকতা; যেন ধরেই নিয়েছে যে, সে হেরে গেছে। হিংসা এবং অজ্ঞতার অন্ধকূপে শ্যাওলার মতো ধীরে ধীরে জন্মায় এই মানসিকতা। হিংসা আর অজ্ঞতা দুটোর সহাবস্থান কিন্তু খুবই ক্ষতিকারক। তাই ধনসম্পদের প্রতি এ ধরনের মনোভাব পোষণ করা একদমই অমূলক।

মুসলিম জীবনের আদর্শ — সাহাবিগণ সম্পদ ও প্রাচুর্যকে কখনো ঘৃণা করেননি। ঘৃণা তারা করতেন ঠিকই; তবে সেটা সম্পদকে নয়, বরং  দান না করে সেটাকে জমিয়ে রাখাকে। প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করতেন তারা এটা। হালাল উপায়ে ধনসম্পদ অর্জন করায় তো কোনো ক্ষতি নেই, এতে আবার কীসের ঘৃণা!

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত চারজন সাহাবিকে ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু কিনে নিয়ে মুক্ত করেছিলেন।[১] কাফিরের অধীনে দাস হয়ে থাকার দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্ত করে দিয়ে বুক ভরে স্বাধীনতার বাতাস টেনে ইসলাম গ্রহণ ও পালনে তাদের সহায়তা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ওরাল সেক্স কি? ওরাল সেক্স কি হারাম

বিলাল রাযিয়াল্লাহু আনহুকে কে মুক্ত করেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নাম-ই সামনে জ্বলজ্বল করে। মুসলিম আইডল ও জীবন পরিচালনার মাপকাঠি সাহাবিগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম কখনোই টাকা কামানোর বিপক্ষে ছিলেন না; বরং তারা টাকা জমা করে রাখা ও অহেতুক খরচের ঘোরবিরোধী ছিলেন। টাকা কামানো আর জমা করে রাখা—দুটো সম্পূর্ণ আলাদা।

ব্যক্তিগতভাবে আমি যত বেশি সম্ভব টাকা কামানোর পক্ষে। মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা-পয়সা না, এত কম টাকাকে আর যাই হোক মোটেও ‘বেশি’ বলা যায় না; মিলিয়নের ঘরে এসে কারো টাকা-পয়সা কামানোর ইচ্ছা ও আশা আটকা পড়ে গেলে, থেমে গেলে এবং শেষ হয়ে গেলে আমি বরং হতাশই হই। এত কম, এত কম! এতটুকুন-ই যদি উচ্চাশার দৌঁড় হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে সময় নষ্ট করার কোনো

মানেই হয় না। যাদের স্বপ্নের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই; মিলিয়ন নয়, বিলিয়ন বিলিয়ন এবং তারও বেশিতে যাদের উচ্চাশা থেমে যা না, তাদের সঙ্গেই আমি বসতে চাই।

সম্প্রতি বিলিয়নিয়ারদের বর্তমান সংখ্যা নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছিল। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২৪০০ বিলিয়নিয়ার রয়েছে। মজার একি সাথে ভাবার বিষয় হলো, তাদের বেশিরভাগই একদম নিঃস্ব অবস্থা থেকে উঠে এসেছে। এদের গল্পগুলো জিরো থেকে হিরো হওয়ার। তারা বিপুল সম্পদের মালিক হলেও তাদের অধিকাংশ সম্পদই ব্যয় হচ্ছে আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে।

এর বিপরীতে মুসলিমরা কী করছে? আমার-আপনার কি উচিত নয়, অর্থ উপার্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতে ব্যয় করা? সর্বদিক দিয়ে আমাদের আদর্শ সাহাবিগণের জীবনেই দেখুন এমন কত কত উদাহরণ। তারা উপার্জন করেছেন, দান করেছেন; উপার্জন করেছেন, দান করেছেন; উপার্জন করেছেন, দান করেছেন; থেমে থাকেননি।

ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ব্যাংক ছিলেন যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাযিয়াল্লাহু আনহু। অসম্ভব ক্ষমতাধর একজন মানুষ ছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ের ব্যাংকের মতো তার আমলের লোকজন নিজেদের অর্থ-সম্পদ তার কাছে গচ্ছিত রাখতে চাইত। তার ইন্তিকালের পর দেখা গেল, স্ত্রীদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রতিটি ভাগ প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার সমমূল্যের।

মোট চারজন স্ত্রী ছিল তার। আলাদা আলাদা করে তাদের প্রত্যেকের জন্য তিনি ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলেন। এখানেই কি শেষ? না, এটা তো তার মোট সম্পদের ছত্রিশ ভাগের এক ভাগ মাত্র। অর্থাৎ, ছত্রিশ ভাগের মাত্র একভাগ সম্পত্তির দামই ২২৪ মিলিয়ন ডলার! (চার স্ত্রীর একজনের  জন্য ৫৬, চার ৫৬ মিলে ২২৪।)

আমার-আপনার কত টাকা আছে? আমরা কি জান্নাতে যেতে পারব? তিনি কিন্তু ঠিকই জান্নাতে যাবেন, ইনশা আল্লাহ। অথচ কী বিপুল পরিমাণে দান করে গেছেন তিনি, আবার পরিবারের জন্য কী পরিমাণ রেখেও গেছেন! সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং, সম্পদের প্রতি অবহেলা-অবজ্ঞার এই পরাজিত, দুর্বল ও সস্তা মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গরিব হয়ে থাকার মানসিকতা পাল্টে অনেক সম্পদশালী হতে হবে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিলিয়নিয়ার আপনাকেই হতে হবে। বিত্তশালী হওয়ার পাশাপাশি কৃপণ না হয়ে দিল খুলে এবং উন্মুক্ত হস্তে দান করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে ইসলামের সোনালি দিনগুলোর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ; উমার ও আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুমার সেই সুন্নাহ, পুরো সম্পদের অর্ধেক দান করার সেই সুন্নাহ, সম্পদ পুরোটাই ধরে দান করে দেওয়ার সেই সুন্নাহ।

হাল আমলের ওয়ারেন বাফেটদের মতো ধনাঢ্য ব্যক্তিত্বরাও নিজেদের সম্পদের অধিকাংশই দান করে দিয়েছেন। মূল বিষয় হলো, উপার্জন

করে সেটা আবার নিজেই দান করাটা অনেক আনন্দের ব্যাপার। নিজের জিনিস নিজের ইচ্ছামতো দান করা। অন্যের সম্পদ দান করে এই আনন্দ কখনো পাওয়া যাবে না। এই আনন্দটা তারাও পান বা পান বলেই দান করেন। এমনিতেই বিপুল পরিমাণে অর্থসম্পদ উপার্জন করতে পারাটা অনেক অনেক আনন্দের। হালাল মাধ্যমে হলে তো এ আনন্দের মাত্রা আরো বহু-বহুগুণে বেড়ে যাবে। আর হালাল পথে উপার্জন করে সেটা দান করতে পারলে হৃদয়ে হারাম উপার্জন থেকে দানের তুলনায় আরো অনেক অনেক বেশি প্রফুল্লতা ও প্রশান্তি বয়ে আনবে, ইনশা আল্লাহ ।

আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহুর ব্যবসা

ইসলামের ইতিহাসে নবি-রাসুল, সাহাবা আজমাইনসহ অসংখ্য মুসলিম মনীষার জীবনীতে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা বা সম্পদশালী হওয়া-সংক্রান্ত অসংখ্য ঘটনার দেখা মেলে। তন্মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনাটি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, তিনি সম্পদশালী হয়েছিলেন সম্পূর্ণ নিজের সততার জন্য। সাধারণত ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি কৌশলের কথা সবাই ভুলে যায়, ইবনু আউফ সেটাকে যথাযথভাবে খাটিয়েছিলেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে তিনি কোনো ছাড় দেননি। কৌশলটি খুবই সাধারণ—‘ব্যবসার স্বচ্ছতা এবং ক্রেতাদের সুবিধার কথা সবসময় মাথায় রাখা ।

আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু অর্থ উপার্জন করতেন ঘোড়া বিক্রি করে। বাজারে ব্যাপক প্রসার ও সুখ্যাতি থাকায় ক্রেতারা ঘোড়া কিনতে শুধু তার কাছেই আসতো। কৌশলের গুণে ক্রেতা কখনো হাতছাড়া হতো না তার। উদাহরণস্বরূপ, ঘোড়া কিনতে এসে কেউ

  • জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা আব্দুর রহমান, এই ঘোড়াটার দাম কতো?” তিনি বললেন, “এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা।’ দাম পছন্দ হওয়া এবং ইবনু আউফের ঘোড়া বিষয়ক অভিজ্ঞতাসহ তার ঘোড়াশালে প্রচুর পরিমাণে নানান জাত ও বাহারের ঘোড়ার ভিড়ে পছন্দের সাথে সবকিছু মিলে যেতে দেখে, ক্রেতা থলি থেকে স্বর্ণমুদ্রা বের করে দাম পরিশোধ করতে যাবে এমন সময় তিনি বলে উঠতেন, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান, হাজার মুদ্রা দিয়েন না। দেখেন, দাঁতটা একটু ভাঙা, লেজের কিছু জায়গায় পশমও খানিকটা নেই। মনে হচ্ছে, সামান্য সমস্যা আছে, ঘোড়াটা কেমন যেন মলিন মলিন দেখাচ্ছে। খাঁটি আরবীয় ঘোড়াও নয় এটা, এর মা কিন্তু ভারতীয় জাত, ইত্যাদি ইত্যাদি।’

মোটকথা, আব্দুর রহমান ইবনু আউফ আদতে খুবই সৎলোক ছিলেন। অন্যদের মতো দাম না বাড়িয়ে তিনি বরং পণ্যের খুঁত দেখিয়ে দেখিয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করতেন। শেষপর্যন্ত ক্রেতাই বলতো, “না, না আব্দুর রহমান, আমি তোমার সাথে এইটা করতে পারব না, এত কমে আমি নিতে পারব না ভাই, তুমি আর চাপাচাপি করো না।’

মানুষ কেন ব্যবসা করে? ধনসম্পদ কি মন্দ জিনিস
মানুষ কেন ব্যবসা করে? ধনসম্পদ কি মন্দ জিনিস

ক্রেতার প্রতি আব্দুর রহমান রাযিয়াল্লাহু আনহু যেমন ভ্রাতৃত্ব দেখাতেন, তারাও তেমন সৌহার্দ্য বজায় রাখত। এগুলো বিফলে যেত না, ক্রেতার সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠতো এবং তার ক্রেতা সবসময় শুধু তার হাতেই থাকতো, শুধু তা-ই নয়; ধীরে ধীরে খদ্দের বাড়তে বাড়তে তিনি বাজারের সবচেয়ে বড় ঘোড়া ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। তার কৌশল ছিল এটাই—‘স্বল্প লাভ, অধিক বিক্রি’।

সৌদি আরবে আমার এক মাল্টি-বিলিয়নিয়ার বন্ধু আছে। বয়স মাত্র ৪৬ বছর। সম্পদের পরিমাণ তার ১৭ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল! একবার সে কিছু সম্পত্তি কেনার পরে এক লোক এসে তাকে জানায়, “আরে ভাই,  এটা তো আপনার নিজের সম্পত্তি, নিজেই টের পান নাই!’ মানে,  নিজেই নিজের সম্পত্তি কিনেছে। হা হা।

ভারি মজার মানুষ। রিয়াদে তার অনেক সম্পদ। একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুমি এত টাকার মালিক হলে কী করে বন্ধু!” সে উত্তর দিয়েছিল, ‘আমার কৌশলটা আসলে সবার চেয়ে একটু ভিন্ন। অন্য সবাই সম্পত্তি কিনে ১০-১৫% লাভের আশায় এক বা দুই বছর ফেলে রাখে। আমি ভাই এসবে নাই। আমার ৫% লাভ হলেই হলো। যেহেতু কম লাভের আশা করি, তাই বিক্রিবাট্টাও আমার দ্রুত হয়ে যায়।

এবার আসো, তোমাকে একটা মজার হিসেব দেখাই। ৫% লাভে বছরে আমি ছয়টি জমি বিক্রি করতে পারি, অথচ অন্য ব্যবসায়ীরা ১৫% লাভে বছরে জমি বিক্রি করে মাত্র একটা। এবার তুমিই বলো, লাভ কে বেশি করছে?’ পাশাপাশি একটা বাড়তি সুবিধার কথাও সে বলেছিল, অন্যরা যেটা ঠিক বুঝে উঠতে ও ধরতে পারেনি, ৫% লাভ রেখে পরিমাণে বেশি বিক্রি করায় সব রিয়েল এস্টেট এজেন্টের কাছে খবর হয়ে গিয়েছিল, সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইলে বা টাকার দরকার পড়লে তাদের মুহাম্মাদের কাছেই দৌঁড়াতে হবে।

কারণ, সে সবসময় সম্পত্তি কেনা-বেচার মধ্যেই থাকে। এভাবেই দিনে দিনে আমি সবার কাছে একজন দরকারি ও কাজের মানুষ হয়ে উঠলাম, আর সবচেয়ে সেরা ডিলগুলো ধীরে ধীরে আমার কাছেই আসতে শুরু করল। খুবই সামান্য লাভে বেশি বেশি বিক্রি করায় আমি আজ বিলিয়ন রিয়াল কামাতে পেরেছি।’ উপার্জন ও সম্পদ বৃদ্ধির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে এখানে যথেষ্ট ভাবনার  উপাদান রয়েছে।

আরও পড়ুন: তারাবির নামাজের দোয়া পড়া কি বিদআত

👁️ পড়া হয়েছে: ৭ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।