Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

যুগে যুগে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও তাদের শেষ পরিণতি

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

পুরোনো ব্যবসাকে আধুনিক সফল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার ৪টি কার্যকর উপায়

যুগে যুগে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও তাদের শেষ পরিণতি

ইহুদী জাতি একটি ধুরন্ধর জাতি। যাদের নামের সাথে জড়িয়ে আছে বহু সংখ্যক নবী ও রাসূল  হত্যার ইতিহাস। তাদের হাতে লেগে আছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের তাজা রক্ত। তাদের মাঝে জগতের  সকল প্রকার জঘন্য কার্যকলাপ বিদ্যমান। এরা আদিকাল থেকেই পৃথিবীতে নানান অশান্তি, ফেৎনা-ফাসাদ  সৃষ্টি করে আসছে। আদি যুগ হতে এরা হিংস্র প্রকৃতির। এরা আদিকাল হতেই অন্তরে অন্য ধর্মের প্রতি  ক্ষোভ লালন করে আসছে। পৃথিবীতে এদের অপকর্ম, ষড়যন্ত্র, চক্রান্তের কথা সর্বজন স্বীকৃত। আজকের  আলোচনায় আমারা যুগে যুগে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও আমাদের করণীয় এবং তাদের শেষ পরিণাম নিয়ে  সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ।

ইহুদীদের পরিচয়

হযরত ইবরাহীম আ.-এর পুত্র ইসহাক আ.এর সন্তান ছিলেন হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। তাঁর  আরেকটি এক নাম ছিল ‘ইসরাইল’। তাঁর বংশধরদেরকে ‘বনি ইসরাইল’ বলা হয়। তাদেরই একটি শাখা  পরবর্তীতে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ছেলে ‘ইয়াহুদা’র নামে নিজেদের ইহুদী পরিচয় দিতে থাকে।

ইমাম মাওয়ারদি রাহি. বলেন, “ইহুদীরা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বড় ছেলে‘ইয়াহুয’ এর নামের দিকে নিজেদেরকে  সম্পৃক্ত করে। অত:পর আরব্য ব্যক্তিবর্গ ‘যাল’কে ‘দাল’ দ্বারা পরিবর্তন করে। এভাবে তারা ইহুদী নামে  পরিচয় লাভ করে”। তাফসিরে মাওয়ারদি: ১/১৩১ ।

যুগ যুগ ধরে তারা আল্লাহর নাফরমানি, কুফরি কর্মকান্ড, ও  নবীদের আদেশ অমান্য করা সহ সকল প্রকার অন্যায় কাজে লিপ্ত।

ইহুদীদের অভিশপ্ত জীবন

ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ইহুদীদের রক্তে-মাংশে মিশে আছে। এজন্য পৃথিবীর কোনো ভূখন্ডেই এরা ঠাঁই পায়নি।  বরং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশ থেকে এরা বিতাড়িত হয়েছে। এদের উপর আল্লাহ তায়ালা লাঞ্চনার ছাপ  মেরে দিয়েছেন। এরা যেখানেই থাকুক লাঞ্চিত অবস্থায় থাকবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“এবং তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্বের ছাপ মেরে দেওয়া হল, এবং তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরল,  তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত।  (তাছাড়া) এর কারণ এও যে, তারা নাফরমানী করত ও অত্যাধিক সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত থাকত। ( সূরা বাকারা -৬১)

ইতিহাস সাক্ষী, ইহুদীদের স্থায়ী কোন বসতভিটা ছিল না; পূর্ববর্তীকালে রোমান বিভিন্ন শাসকদের দ্বারা  বিতাড়িত হয়ে এরা পৃথীবির বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে যায়। সে সময় কিছু ইহুদী আরবের হেজাজ অঞ্চলে  আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে তাদের কূটচাল,ষড়যন্ত্র ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নবীয়ে আরাবী তাদেরকে মদীনা  থেকে তাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত যেসব ইহুদী মদীনা থেকে গিয়েছিল ওমর রাযি. এর খেলাফতকালে  তাদেরকে আরবের ভূমি থেকে বিতাড়িত করেন। ( আর রাহীকুল মাখতুম ২৬৯,৩৩৩)

শুধু তাই নয় ! ১২৯০ সালে অভিশপ্ত এই জাতি ইংল্যান্ড থেকে বিতারিত হয় , ফ্রান্স থেকে উৎখাত হয়  ১৩০৬ এবং ১৩৯৪ সালে, ১৩৭০ সালে বেলজিয়াম থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়া হয, ১৩৮০ সালে  চেকোস্লোভাকিয়া থেকে, ১৪৪৪ সালে হল্যান্ড থেকে, ১৪৫০ সালে ইটালী থেকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার  জার্মানি থেকে ইহুদীদের বিতাড়িত করে, এবং প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করে। ১৫১০ সালে রাশিয়া  থেকে ইহুদীদের বিতাড়িত করা হয়। সর্বশেষ তারা ১৯২০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে ইউরোপ থেকে  পালিয়ে তারা ফিলিস্তিনে ফকিরের বেশে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাাতিক আইন লঙ্ঘন করে আমেরিকার  ছত্রছায়ায় ১৯৪৮ সালে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন ভূমি দখল করে জারজ রাষ্ট্র ইসরায়েলের  ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে আজ অবদী তারা একের পর এক গণ হত্যা চালিয়ে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল  করার পায়তারা করে করে আসছে।

কাপুরুষ এই জাতি নির্বিচারে নারী-শিশুদের হত্যা করছে। তবে এরা মুসলিম মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তায়ালার চেয়ে বেশি ভয় পায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুসলিমগণ! প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি।  তা এজন্য যে, তারা এমনই এক স¤প্রদায়, যাদের বুঝ-সমঝ নেই। (সূরা হাশর: ১৩)

যুগে যুগে ইহুদীদের চক্রান্ত

ইহুদী জাতি নিমক হারামী আর গাদ্দারী শুধু মুসলমানদের সাথেই করেনি বরং তারা তাদের নবী হযরত মূসা  আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেও নিমক হারামী করেছে। এদের কারণে বহু কষ্ট ও বিপদের সম্মূখীন হয়েছেন  নবী মুসা আ.। নবী মূসা আ. এর হাজারো মু‘যিযা এমনকি সাগরের মাঝ দিয়ে রাস্তা তৈরী হওয়া এবং  সেখান দিয়ে সাগর অতিক্রম করে বেঁচে যাওয়া আর ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে হত্যা করার মত  অলৌকিক বিষয়গুলো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার পরও তারা মূসা আ.কে কষ্ট দিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে। তাদের  এসব অপকর্ম ও চক্রান্তের কথা পবিত্র কুরআনে এসেছে। সূরা বাকারার শুরুর দিকে ইহুদী জাতির প্রায়  ১২টি কুকর্ম ও চক্রান্তের বিবরণ এসেছে। সংক্ষেপে আমরা কয়েকটি তুলে ধরছি,

১. বাছুর পূজা : ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মূসা আলাইহিস সালাম তূর পাহাড়ে আল্লাহর  আদেশে তাওরাত কিতাব আনার জন্য যান। ৪০ দিন পর কিতাব নিয়ে এসে দেখেন তারা আল্লাহর উপাসনা  বাদ দিয়ে গরুর বাছুরের পূজা আরম্ভ করে দিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনেই তারা আল্লাহর নেয়ামত ও নবী মূসা  আ.এর অনুগ্রহ এবং তার এত বিশাল বিশাল মুযিযাগুলো ভুলে গেল। পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে আল্লাহ  তায়ালা বলেন,

“এবং যখন আমি মূসাকে চল্লিশ রাতের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম। অত:পর তোমরা তার প্রস্থানের পর  গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে; আর তোমরা তো জালিম”। ( সূরা বাকারা ৫১-৫২)

২. তাওরাত গ্রহণ করতে অস্বীকার : অবশেষে আল্লাহ তায়ালা মূসা আ. ও হারূন আ. দোয়ার বদৌলতে  তাদের তাওবা গ্রহণ করে তাদেরকে ক্ষমা দেন। কিন্তু তারা মূসা আ.-এর আনিত তাওরাত গ্রহণ করতে  অস্বীকৃতি জানায়। তারা বলে বসে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে সরাসারি না দেখলে আপনার এ কথার উপর  ঈমান আনব না।

পবিত্র কুরআনে তাদের এসব বিবরণ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যখন তোমরা বলেছিলে, হে মূসা! আমরা আল্লাহকে প্রত্যক্ষভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস  করব না যতক্ষণ না আল্লাহকে নিজেদের চোখে প্রকাশ্যে দেখতে পাব। পরিণামে বজ্র এসে তোমাদেরকে  এমনভাবে পকড়াও করল যে, তোমরা কেবল তাকিয়ে থাকলে। ” সূরা বাকারা ৫৫।

৩. মান্না-সালওয়া খেতে অস্বীকৃতি : নবী মুসা আ.-এর দোয়ায় তাদের জন্য কুদরতি খাবারের ব্যবস্থা  করা করা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“আমি তোমাদেরকে মেঘের ছায়া দিলাম এবং তোমাদের প্রতি মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করলাম। এবং  বললাম যে পবিত্র রিযিক আমি তোমাদের দান করলাম তা খাও। আর তারা নাফরমানী করে আমার কিছু  ক্ষতি করেনি বরং তারা নিজেদের উপরই যুলুম করতে থাকে”। (সূরা বাকারা ৫৭)

আল্লাহ তায়ালার এই নেয়ামতের সাথে তারা চরম অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এমনকি একপর্যায়ে তারা তা  খেতে অস্বীকার করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“এবং যখন তোমরা বলেছিলে হে মূসা! আমরা একই খাবারে সবর করতে পারব না। সুতরাং স্বীয়  প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি যেন আমাদের জন্য ভূমিজাত দ্রব্য হতে কিছু উৎপন্ন করেন অর্থাৎ জমির তরকারি, কাঁকড়, গম, ডাল ও পিঁয়াজ। মূসা বলল, যে খাবার উৎকৃষ্ট ছিল,  তোমরা কি তাকে এমন জিনিস দ্বারা পরিবর্তন করতে চাচ্ছ যা নিকৃষ্ট ?( সূরা বাকারা -৬১)

 

ইহুদী জাতির ইতিহাস বইটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন

৪. শনিবারে মাছ শিকার : অভিশপ্ত ইহুদী জাতিকে আল্লাহ ইবাদতের জন্য শনিবার নির্ধারণ করে  দিয়েছিলেন। এ দিনে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জীবিকা উপার্জনমূলক সকল কাজ তাদের জন্য নিষিদ্ধ  করে দিয়েছিলেন। তারা সাগরের উপকূলে বসবাস করতো। তারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। শনিবার  দিন মাছ নদীর কিনারের দিকে চলে আসত। এ দিনে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকায় প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে  মাছ আটকে রেখে রবিবার দিন শিকার করতো। কিন্তু পরবর্তীতে শনিবার দিনেই মাছ শিকার শুরু করে  দিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“এবং তাদের সাগর তীরে অবস্থিত জনপদবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর- যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে  সীমালংঘন করত, যখন মাছ শনিবার দিন পানিতে ভেসে তাদের সামনে আসত; আর তারা শনিবার দিন  উদযাপন করতো না তখন তা ভেসে আসতো না। তাদের অবাধ্যতার কারণে এভাবেই আমি তাদের পরীক্ষা  করেছিলাম।” সূরা আরাফ ১৬৩।

আল্লাহর তায়ালার এই হুকুম আমান্য করার কারণে ভয়ানক শাস্তি দেওয়া হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ  তায়ালা বলেন,

“যখন তারা নিষিদ্ধ কাজ ওদ্ধাত্যসহকারে করতে লাগলো তখন তাদেরকে বললাম, তোমরা ঘৃণিত বানরে  পরিণত হও।” ( সূরা আরাফ- ১৬৬)

৫. মূসা আ.এর উপর অপবাদ : তারা নিজেদের নবী মূসা আ: কে নানান অপবাদ দিয়েছে এবং তার  ব্যাপারে জঘণ্যতম মন্তব্য করেছেন। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

“মূসা (আঃ) ছিলেন খুব লজ্জাশীল ও পর্দানশীন ব্যক্তি। তাঁর লজ্জাশীলতার কারণে তাঁর দেহের কোন অংশ  দেখা যেত না। ফলে বনী ইসরাঈলের লোকেরা তাঁকে যা কষ্ট দেয়ার দিল। তারা বলল, তাঁর চামড়ায় কোন  দোষ-ত্রুটি থাকার কারণেই তিনি এ পর্দা করছেন। তাঁর চামড়ায় কুষ্ঠরোগ বা তাঁর হার্নিয়া রয়েছে কিংবা সে  মহামারীতে আক্রান্ত। অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা চান যে, তারা মূসা (আঃ)-কে যা বলছে তা থেকে তাঁকে  মুক্ত করবেন। অতঃপর তিনি একদিন একাকী (গোসলের উদ্দেশ্যে) নির্জনে গেলেন। অতঃপর তিনি তাঁর  কাপড় একটা পাথরের উপর রেখে গোসল করতে লাগলেন।

অতঃপর তিনি গোসল শেষ করে কাপড় নেয়ার  জন্য পাথরের নিকট আসলেন। আর পাথর তাঁর কাপড় নিয়ে দূরে সরতে লাগল। অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি  নিয়ে পাথরের খোঁজে ছুটলেন এবং বলতে শুরু করলেন, হে পাথর! আমার কাপড়, হে পাথর! আমার  কাপড় (লুঙ্গি)। অবশেষে বনী ইসরাঈলের একটা দলের নিকটে গিয়ে থামল। ফলে তারা তাঁকে বস্ত্রহীন  অবস্থায় দেখল যে, আল্লাহ তাকে কতই না সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তাকে তাদের কথিত  দোষ থেকে মুক্ত করলেন। তারা বলল, আল্লাহর কসম! মূসা (আঃ)-এর কোন রোগ-ব্যাধি নেই। পাথর  দাঁড়াল, মূসা (আঃ) তাঁর কাপড় নিয়ে পরলেন এবং তাঁর লাঠি দিয়ে পাথরকে কঠিনভাবে প্রহার করলেন।  আল্লাহর কসম! তাঁর প্রহারে পাথরে তিন, চার বা পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল”। ( সহিহ বুখারি -৩৪০৪)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুমিনগণ! যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছে, তোমরা তাদের ন্যায় হয়ো না। অতঃপর আলাহ তাকে তাদের  কথিত অপবাদ থেকে মুক্ত করলেন, আর তিনি ছিলেন আলাহর নিকট মর্যাদাবান” (সহিহ বুখারি ৩৪০৪)

৬.মারইয়াম আ. এর প্রতি অপবাদ : আজকের যে খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলকে লালন-পালন করছে  তাদের শুনে রাখা উচিত, এই অভিশপ্ত ইহুদী জাতি তাদের নবী ঈসা আ.-এর মা মারইয়াম আ.-এর পবিত্র  চরিত্রে মহা অপবাদ দিয়েছিল। কুরআনে যাকে বলা হয়েছে ‘বুহতানুন আযীম’! । শুধু তাই নয়! ইহুদীরা  তাদের নবী ঈসা আ.কে হত্যা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। এমনকি ইহুদীদের দাবি ও বিশ্বাস হলো  তারা নবী ঈসা আ.কে হত্যা করেছে। যদিও কুরআন কারীমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঈসা আ.কে হত্যা করতে পারেনি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“এবং তাদের এই উক্তি যে, আমরা আল্লাহর রাসূল ঈসা ইবনে মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা  তাকে হত্যা করেনি এবং শূলেও চড়াতে পারেনি: বরং তাদের বিভ্রম হয়েছিল।” -সূরা নিসা ১৫৭ ৭. আল্লাহর সাথে বেয়াদবী : ইহুদী জাতীকে আল্লাহ তায়ালা দীর্ঘ দিন সিনাই মরু-ভূমিতে শাস্তি স্বরূপ  ছন্নছাড়া জীবন যাপন করিয়েছেন। এই কঠিন আযাব থেকে মুক্তি দিতে আল্লাহ তায়ালা যখন তাদের  বললেন, তোমরা নতশির হয়ে অমুক জনপদে প্রবেশ করো এবং বলো-

“আল্লাহ, আমরা ক্ষমা চাই, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন!” ( সূরা বাকারা -৫৮-৫৯)

কিন্তু তারা আল্লাহর সঙ্গে মশকরা শুরু করে  দিল। তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করল- “গম চাই! গম চাই!! (সহিহ বুখারি -৩৪০৩)

যাকাতের বিধান নাযিল হওয়ার পর তারা ব্যঙ্গ করে বলেছিল-

“আল্লাহ তায়ালা  দরিদ্র আর আমরা ধনী”। (সূরা আল ইমরান- ১৮১)

অবাধ্যতার এক পর্যায়ে তারা আল্লাহর শানে এমন চরম অশিষ্ট বাক্য উচ্চারণ করেছে। এমন বেয়াদবিমূলক  কথা সম্ভবত পৃথিবীতে কেবল তারাই বলেছিল- “আল্লাহর হাত বাঁধা”। ( সূরা মায়েদা-৬৪)

আল্লাহ তাআলা তাদের এ চরম বেয়াদবির কোনো উত্তর না দিয়ে বরং শাস্তির সতর্কবাণী শুনিয়ে দিয়েছেন,  তিনি বলেন,

“আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলে, আল্লাহ গরীব এবং আমরা ধনী।  তারা যা বলে আমি তা (তাদের আমলনামায়) লিখে রাখি এবং তারা নবীগণকে অন্যায়ভাবে যে হত্যা  করেছে সেটাও। অতঃপর আমি বলব, জ¦লন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ কর”। (সূরা আল ইমরান -১৮১)

৮. নবীগণকে হত্যা : এই সীমালঙ্গনকারী সম্প্রদায় শুধু সাধারণ মানুষকেই নয় বরং তাদেরকে অন্যায়  ও অশ্লীলতা থেকে বাঁধা দেওয়ার কারণে নবীদেরকে পর্যন্ত হত্যা করেছে। এই অভিশপ্ত ইহুদীরা আল্লাহর  নবী হযরত যাকারিয়া (আ.)-কে হত্যা করেছে। হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-কে হত্যা করেছে। ঈসা (আ.) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, “ইহুদী জাতি একদিনে ৩০০ আল্লাহর নবীকে হত্যা করেছে”। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম: ১/১২৬)

পবিত্র কুরআনে তাদের এই অপকর্মের বিবরণ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,  “তবে কি যখনই কোনো রাসুল তোমাদের  কাছে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছ এবং  কতককে অস্বীকার করেছ, আর কতককে হত্যা করেছ? ” (সুরা বাকারা: ৮৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, বলো, যদি তোমরা মুমিন হতে, তবে অতীতে কেন আল্লাহর নবীদের হত্যা করেছিলে?” (সুরা বাকারা: ৯১)

আমাদের নবীজিকে হত্যাচেষ্টা

বর্রবর এই ইহুদীজাতি বহুবার আমাদের নবীজিকে হত্যা করার ষরযন্ত্র করেছে। নি¤েœ আমরা কয়েকটি  ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করছি,

১. দাওয়াত দিয়ে নিয়ে পাথর চাপা দিয়ে হত্যা চেষ্টা : মদীনায় ইহুদী গোত্র বনু নাযিরের সাথে আরব্য  এক গোত্রের সাথে বিরোধ দেখা দেয়। নবীজি মিমাংসার জন্য ডাকা হলে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের  নিয়ে সেখানে আসলেন। ইহুদীরা এটিকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে নবীজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। তারা  নবীজিকে একটি দেয়ালের সাথে বসতে দেয়। দেয়ালের উপর থেকে বিশাল প্রস্তর নিক্ষেপ করে তারা  নবীজিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে বিষয়টি নবীজিকে জানিয়ে দেন।  (আর রাহীকুল  মাখতুম- ২৬৯,৩৩৩)

২. বিষ প্রয়োগে নবীজিকে হত্যা চেষ্টা : এক ইহুদী মহিলা একটি ছাগল রান্না করে নবীজির দরবারে  হাদিয়া পাঠায়। এতে সে বিষ মিষিয়ে দেয়। নবীজি গোশতের টুকরাটি মুখে দেওয়া মাত্রই গোশতের টুকরা  বলে দিল এতে বিষ মিশানো হয়েছে। কোন বর্ণনায় এসেছে জিবরীল আ. বিষয়টি অবগত করেছেন। নবীজি  সাথে সাথে গোশতের টুকরাটি মুখ থেকে ফেলে দেন।

এই বিষ প্রয়োগের তিন বছর পর যখন তিনি মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তখন তিনি আয়েশা রাযি-কে উদ্দেশ্য  করে বলেন,

আয়েশা! খায়বারে যে বিষমিশ্রিত খাদ্য আমি খেয়েছিলাম, সে বিষের প্রভাবে আমার শিরা-উপশিরা যেন  ছিঁড়ে যাচ্ছে”।  (সহিহ বুখারী -৪৪২৮ )

৩.জাদু করে নবীজিকে হত্যা চেষ্টা : নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্য  সবধরণের চেষ্টা ইহুদীরা করেছে। সর্বশেষ তারা জাদুর আশ্রয় নিয়েছে। লাবীদ ইবনে আ’সাম নামে এক  ইহুদী নবীজির ব্যবহার করা চিরুনী নিয়ে একটি তাঁতের সুতোয় এগারটি গ্রন্থি লাগিয়ে প্রতিটি গ্রন্থিতে একটি  করে সুই সংযুক্ত করে এটি একটি পরিত্যাক্ত কূপে পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখল। এভাবে সে নবীজিকে  জাদু করে। এর প্রভাবে নবীজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ছয়মাস অনেক কষ্ট করেন। আয়েশা রাযি. বলেন,  এর প্রভাবে নবীজির অবস্থা এমন হত যে, মাঝে মাঝে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়তেন। কোন কাজটি  করেছেন, কোনটি করেননি তা অনুভব করতে পারতেন না। অত:পর নবীজিকে স্বপ্নে এ জাদুর বিষয়ে  জানিয়ে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কূপ থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: রাসূল (সা:) এর মর্যাদা ও শাতিমে রাসূলের শাস্তি

এদিকে আল্লাহ তায়ালা সূরা  ফালাক ও সূরা নাস নাযিল করেন। এই দুই সূরার এগারটি আয়াত পড়ে এগারটি গ্রন্থি খোলা হলে নবীজি  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সাথে পূর্ণ সুস্থতা অনুভব করেন এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে পড়েন।  (সহিহ বুখারি -৩২৬৮ )

নবীজি সা.এর ইন্তেকাল-পরবর্তী ইহুদী ষড়যন্ত্র

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামকে অঙ্কুরেই গলা টিপে  হত্যার চেষ্টা চলতে থাকে। হযরত উসমান রাযি.এর খেলাফতকালে এই চক্রের সাথে যুগ দেয় আবদুল্লাহ  বিন সাবা নামক ইয়েমেনের সানয়া শহরের এক ইহুদী।

সে নিজেকে মুসলমান দাবি করে এবং আগে থেকে মুসলিম সমাজে অবস্থানরত মুনাফিকদের গোপন  তৎপরতায় যোগ দেয়। অল্প দিনের মধ্যেই সে তার অসাধারণ সাংগঠনিক প্রতিভা, নেতৃত্ব গুণ, উদ্ভাবনী  শক্তি ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সব মুনাফিককে ছাড়িয়ে যায়। (আল বিদায়া ওয়াননিহায়া, ইবনে কাসির : ৭/১৬৭-১৭০)

একপর্যায়ে তারা হযরত ওসমান রাযি.-এর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে মুসলমানদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে  তাঁকে শহীদ করে।

পরবর্তী তারা হযরত আলী রাযি. ও মুয়াবিয়া রাযি.-এর সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধিয়ে মুসলিম উম্মাহর রক্ত প্রবাহিত  করে।

একসময় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হযরত আলী রাযি-কে শহীদ করে। তাঁর পুত্র হাসান রাযি.-কেও একই  ষড়যন্ত্রের জালে শহীদ করে। পরবর্তী সময় কারবালায় হুসাইন রাযি.-এর শাহাদাতও একই সূত্রে গাঁথা।  এমনকি একসময় নবীজির লাশ মুবারক চুরি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে। মুসলিম  উম্মাহর মাঝে অভিশপ্ত ওই ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও ফেতনার দ্বার এখনো বন্ধ হয়নি।

গাজার বীভৎস চিত্র

একই ধরাবাহিকতায় অভিশপ্ত এই জাতি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ইসলামী সালতানাতের পরাজয়ের পর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জমি দখলের চেষ্টা করে। ফিলিস্তিনিরা বাধা দিলে তাদের সাথে যুদ্ধ হয়।  এই যুদ্ধে বৃটিশদের সহযোগীতায় গণহত্যা চালিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকাংশ অঞ্চল ইহুদীরা দখল করে নেয়।  এভাবে ‘আন নাকাবা’ বা মহা বিপর্যয়ের তৈরী হয়। দখলদার বাহিনী আস্তে আস্তে পুরো ফিলিস্তিন নিয়ন্ত্রণে  নেওয়ার চক্রান্ত তৈরী করতে থাকে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেমসহ বেশ কিছু অঞ্চল তারা দখলে নিয়ে  নেয়। এভাবে একের পর এক গণহত্যা পরিচালনা করে নারী-শিশুসহ মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করে

। বিগত দেড় বছর ধরে তারা লাগাতার গণহত্যা চালিয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মুসলমানদের  প্রথম কেবলা মসজিদে আকসা তারা দখলে নিয়েছে। পাখির মতো গুলি করে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের বুক  ঝাঁঝড়া করে দিচ্ছে। বোমার আঘাতে মুসলমানদের লাশ গাজার আকাশে উড়ছে। মুসলমানদের  অর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। পুরো গাজা শহর এখন এক ধ্বংস স্তুপ ও মৃত্যুপুরীতে  পরিণত হয়েছে। কোথাও কোন মানুষের নড়াচড়া নজরে পড়লে সাথে সাথে গুলি করে তাদের শহীদ করা  হচ্ছে। বড় দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের করণীয়

গাজাবাসী আমাদের ভাই বোনদের চরম দুর্দিনে বিশ্ব মুসলিমদের উপর অনেক দায়-দায়িত্ব রয়েছে। আমরা  যদি সেসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই আল্লাহর দরবারে এজন্য অবশ্যই জবাদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।  নিম্নে আমারা এই মূহুর্তে আমাদের কিছু করণীয় বিষয় তুলে ধরছি,

১. জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ : নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলিম ভাই বোনদের রক্ষা করতে জিহাদের কোন  বিকল্প নেই। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া সামর্থবান প্রতিটি মুসলমানের উপর আবশ্যক এবং এটি আল্লাহ  তায়ালার নির্দেশ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুসলিমগণ! তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সেসব অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য  যুদ্ধ করবে না, যারা বলছে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে- যার অধিবাসীরা  যালিম- অন্যত্র সরিয়ে নাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন অভিভাবক বানিয়ে দাও এবং  আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন সাহায্যকারী দাঁড় করিয়ে দাও”। (সূরা নিসা ৭৫-৭৬)

জিহাদের মাধ্যমেই এই সমস্যার কার্যকরী সমাধান সম্ভব। এর মধ্য দিয়েই মুসলমানদের হারানো গৌরব ও  শক্তি ফিরে আসবে। হাদিস শরীফে এসেছে নবীজি বলেন,

“যখন তোমরা ঈনা (সূদের একটি কৌশলী পন্থা) পদ্ধতিতে বেচাকেনা করবে, গরুর লেজ ধরবে (অর্থাৎ  শরী‘আতের হুকুম-আহকাম অনুসরণ না করে, দুনিয়াবী বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করবে), চাষাবাদেই  সন্তুষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ছেড়ে দিবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিবেন।  যতক্ষণ তোমরা দ্বীনের দিকে ফিরে না আসবে, ততক্ষণ তোমাদের উপর থেকে লাঞ্ছনা উঠিয়ে নেবেন না’। ( সুনানে আবি দাউদ -৩৪৬২ সহিহ)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতও আমাদের এই শিক্ষাই দেয়। অন্যায়ভাবে ভিন্ন ধর্মের  কেউ যদি মুসলিমকে হত্যা করে, নারীদের সম্ভ্রমহানী করে তাহলে এর পরিণাম বা বিচার কি হবে তা স্পষ্ট  আমরা নবীজির সীরাত থেকে নিতে পারি। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি, ক. মদীনার ইহুদী গোত্র বনু কায়নুকার কয়েকজন মিলে একজন মুসলিম নারীকে বিবস্ত্র করে। প্রতিবাদে  একজন মুসলিম এগিয়ে আসায় তাঁকে হত্যা করেছিল এই ইহুদীরা। মুসলিম হত্যার প্রতিশোধ নিতে রাসূল স. মুসলিম বাহিনী নিয়ে পুরো বনু কায়নুকা গোত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, তারপর মদীনা থেকে বিতাড়িত  করেছিলেন। আজ যখন আমাদের মুসলিম বোনদের ধর্ষিতা হবার খবর শুনবেন তখন এ দৃষ্টান্তের কথা মনে  রাখবেন। ১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্মসমর্পণ করে। অবশেষে নবীজি তাদেরকে মদীনা থেকে  বের করে দেন।

খ. হুদাইবিয়ার সন্ধির আগে গুজব ছড়িয়ে পড়ে,  “উসমানকে হত্যা করা হয়েছে”। শুধু একজন  মুসলিমের রক্তের প্রতিশোধ নিতে রাসূলুল্লাহ স. তখন তাঁর সাহাবী (রাযিআল্লাহু আনহুম)-দের কাছ থেকে  মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করার শপথ নেন। ইতিহাসে এ ঘটনা বাইআতুর রিদ্বওয়ান নামে প্রসিদ্ধ। গ. মু’তার যুদ্ধের আগে গাসসান গোত্র যখন বসরায় পাঠানো রাসূলুল্লাহ স. -এর দূতকে হত্যা করে, তখন  তিনি এক সেনাবাহিনী পাঠান। তিনি স. জানতেন যে, এ এক অসম যুদ্ধ হবে। কাফিরদের সংখ্যা ছিল অনেক অনেক বেশি। রাসূলুলুল্লাহ স. তবুও মুসলিম বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন। কারণ, একজন মুসলিমের  জীবনের গুরুত্ব এবং একজম মুসলিম আক্রান্ত হলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, তার  দৃষ্টান্ত পুরো পৃথিবী এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্যে তিনি রেখে গেছেন।

ঘ. মা’আন অঞ্চলের গর্ভনর ফারওয়া বিন আমর আল জুদানী খ্রিষ্ট ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন  তাঁকে হত্যা করে রোমানরা। এই হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মৃত্যুর আগে রাসূলুল্লাহ স. উসামা বিন  যায়েদ রাযি-এর নেতৃত্বে বাহিনী প্রস্তুত করে রেখে যান।

তাই আমরা আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, যদি মুসলিম বিশ্ব জায়নবাদি ইসরাইয়েলর বিরুদ্ধে জিহাদের  ডাক দিতে পারে তাহলে আজকে সূর্য ডুবার আগেই হায়নাদের নাম নিশানা দুনিয়ার জমিন থেকে মুছে যাবে  ইনশাল্লাহ।

২. অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা : মুসলিম বিশ্বের পক্ষ হতে ইহুদীদের সাথে অর্থনৈতিক যাবতীয়  কার্যক্রম বন্ধ রাখা জরুরী। বিশেষ করে তাদের পণ্যগুলো বয়কট করতে হবে। এতে তাদের অর্থনৈতিক  মেরুদÐ ভেঙ্গে যাবে। কারণ শত্রæকে পরাস্ত করতে হলে তার অর্থনৈতিক যাবতীয় সম্ভাবনা নষ্ট করা  অপরিহার্য। এ দৃষ্টিকোণ থেকে নবীজি বদর যুদ্ধে মূলত আবু সুফিয়ানের বাণিজ্যিক কাফেলার উপর আক্রমণ  পরিচালনার সিন্ধান্ত নিয়েছিলেন। নবী মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর চির শত্রæ ফেরাউনের অর্থকড়ি ধ্বংস  করার জন্য আল্লাহ তায়ালা কাছে দোয়া করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তো ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে শোভা ও  সম্পদ দান করেছ। হে আমাদের প্রতিপালক! যা দ্বারা তারা মানুষকে তোমার পথ হতে ভ্রষ্ট করে। হে  আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট কর, তাদের হৃদয় কঠিন করে দাও, তারা তো মর্মন্তুদ শাস্তি  প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।” (সূরা ইউনূস- ৮৮ )

তাই এ ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোনভাবেই তাদের পণ্য কিনে তাদেরকে যেন  আমরা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী না করি। আমার কোন টাকা যেন বুলেট হয়ে আমার মুসলিম ভাই, বোনের  শরীরে বিদ্ধ না হয়।

৩. দোয়া জারি রাখা : আমাদের শত্রু যত শক্তিশালী হোক না কেন, আমরা যদি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ  করি, তাঁর অভিমূখী হই ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তিনি যিনি দুর্বলের আহবানে সাড়া দেন যখন সে  তাঁকে ডাকে এবং তিনিই বিপদ আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানাবেন।– (সূরা নামল -৬২ )

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,  “হে মুমিনগণ!  ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”। (সূরা বাকারা-১৫৩)

হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কেবল মাত্র  দোয়া ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে”। (সুনানে তিরমিযী -২১৩৯ )

এজন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে বিপদ মোকাবেলা করার জন্য শুরুতেই একাকী  আল্লাহর কাছে দীর্ঘ সময় নিয়ে দোয়া করেন এবং আল্লাহর নুসরত ও সাহায্য নামিয়ে আনেন। হাদিস  শরীফে এসেছে ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,

“বদরের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গম্বুজওয়ালা তাবুতে অবস্থান কালে দোয়া  করেছিলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে  আজকের পরে আর আপনার ইবাদত করা হবে না। এ সময় আবু বকর রাযি. তাঁর হাত ধরে বললেন হে আল্লাহর রাসূল! যথেষ্ট হয়েছে । আপনি বার বার নত হয়ে আপনার প্রতিপালকের কাছে দোয়া করেছেন।  সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ম আচ্ছাদিত ছিলেন। অত:পর তিনি এই আয়াত পাঠ  করতে করতে বেরিয়ে আসলেন, শীঘ্রই দুশমনরা পরাস্ত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। তদুপরি কিয়ামত  হবে অধিক কঠিন ও অধিক তিক্ত”। সূরা কামার ৪৫-৪৬। (সহিহ বুখারি -২৯১৫ )

৪. মসজিদে মসজিদে কুনূতে নাযেলার আমল চালু করা : ফজরের নামাযে আমরা কুনূতে নাযেলার  আমল চালু করতে হবে। এটিও নবীজির শিক্ষা। একবার মুশরকিরা ৭০ জন ক্বারী সাহাবীদের হত্যা করে  দেয়। এতে নবীজি খুব কষ্ট পান। তখন একমাস পর্যন্ত নামাযে সম্মিলিত ভাবে তাদের জন্য বদদোয়া  করেছেন। হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আনাস রাযি. বলেন,

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৭০ জন সাহাবীদের একটি দল যাদের ক্বুররা বলা হতো মুশরিকদের  কোন একটি কওমের উদ্দেশ্যে পাঠান। তাদের সাথে চুক্তি ছিল তারা চুক্তি ভঙ্গ করে ক্বারী সাহাবীগণকে  হত্যা করেছিল। অত:পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মাসব্যাপী নামাযে কুনূত পড়ে তাদের  জন্য বদদোয়া করেছিলেন।” (সহিহ বুখারি -১০০২)

৫. ইসলাম ও মুসলামানদের শত্রু দের সাথে কোন সম্পর্ক না রাখা : মুসলমানদের সাফল্য ও বিপদ  থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হলো ইসলামের শত্রæদের সাথে গোপন বন্ধুত্ব বর্জন করা। ইসলাম এ  বিষয়টিতে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি নিজের পিতা-মাতাও যদি ইসলামের শত্রæ হয়ে যায় তাহলে  তাদের সাথেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করা যাবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইয়েরা যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, তবে তাদেরকে  নিজেদের বন্ধু বানিও না।” (সূরা তাওবা- ২৩)

ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রæ কারা, তাদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।  ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রæ হলো, ইহুদী ও মুশরিক সম্প্রদায়। এর পরের স্তরের শত্রæ হলো, নাসারা।  পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রæতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইহুদীদেরকে এবং  মুশরিকদেকে আর বন্ধুত্বের নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে ”( সূরা মায়োদা- ৮২ )

৬. শক্তিশালী একতা গড়ে তোলা : মুসলমানদের সুদিন ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের মাঝে শক্তিশালী  ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। এজন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, “তোমরা আল্লাহর রশিকে (তাঁর দীন ও কিতাবকে) দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো এবং পরস্পরে বিভেদ করো না।  ” (সূরা আল ইমরান- ১০৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা দীনকে বিভক্ত করেছে ও নিজেরা  বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আর প্রত্যেক দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত”। (সূরা রূম ৩১-৩২)

বহুদলে বিভক্ত হওয়ার ক্ষতি বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং পরস্পরে কলহ করবে  না অন্যথায় তোমাদের প্রভাব বিল্প্তু হয়ে যাবে।” (সূরা আনফাল ৪৬)

চূড়ান্ত বিজয় মুসলমানদেরই হবে

মুহতারাম হাযিরীন ! অভিশপ্ত ইহুদী জাতি নাসারাদের সহযোগীতায় পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন ও মসজিদে  আকসা দখলে নেওয়ার জন্য এই বর্বরতা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা আল্লাহর কসম করে বলতে  পারি, তাদের এই দু:স্বপ্ন কোন কালেই পূরণ হবে না। মুসলিম মুজাহিদরা তাদেরকে রুখে দিবে, ইনশাআল্লাহ। কারণ, বাইতুল মাকদিস ও আশেপাশে অবস্থানকারী মুজাহিদদেরকে তাবত দুনিয়া মিলে  শেষ করে দিতে চাইলেও পারবে না। তারা কিয়ামত পর্যন্ত কোন সময়ই এই পবিত্র ভূমি হাতছাড়া করবে  না। সর্বশক্তি দিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত তারা খোদার দুশমনদের সাথে জিহাদ চালিয়ে যাবে । হাদিস শরীফে  এসেছে নবীজি বলেন,

“আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়ে যাবে। তারা তাদের শক্রদের  মুকাবিলায় অত্যন্ত প্রতাপশালী হবে। যারা বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না।  তবে তাদের উপর যে বিপদ এসেছে তা ছাড়া। এভাবে চলতে চলতে তাদের নিকট কিয়ামত এসে যাবে  আর তারা এর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, তাঁরা কোথায় থাকবে? নবীজি  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বাইতুল মাকদিস এবং এর আশপাশে থাকবে”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ  -১২২৪৮ সহিহ)

অন্যদিকে অভিশপ্ত ইহুদী জাতির শেষ পরিণাম খুবই ভয়ংকর। সমানে এমন দিন আসছে, সেদিন কোন  ইহুদী পালাবার জায়গা পাবে না। অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে মুসলমানদের হাতে ধরাশায়ী হবে।  নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভবিষ্যত বাণী দিয়ে বলেন, সে সময় ইহুদীরা মুসলিম  মুজাহিদদের ভয়ে গাছের আড়ালে, পাথরের আবডালে আশ্রয় নিবে, তখন গাছ এবং পাথর বলবে,

“হে মুসলিম! এই যে ইহুদী আমার পিছনে। এসো, তাকে হত্যা করো ” (সহিহ  মুসলিম -২৯২১) এভাবে একদিন লাঞ্ছিত অবস্থায় দুনিয়া থেকে তাদের বিদায় নিতে হবে।

শেষকথা : আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ সমঝ দান করুন। সর্বশক্তি দিয়ে গাজাবাসীদের  সাহায্যে এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমাদের শহীদ মুসলিম ভাই-বোনদের শাহাদাতকে কবুল  করুন। আহতদের দ্রæত শিফা দান করুন। জীবিত ভাই বোনদের নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখুন। তাদের  ভূমিকে মুক্ত স্বাধীন করে দিন। অভিশপ্ত, বর্বর ইহুদী জাতিকে ইতিহাসের কঠিত শাস্তি দিয়ে নাস্তানাবুদ করে  দিন। আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামীন।

👁️ পড়া হয়েছে: ২২ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র বর্তমান সময়ে বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ভালো

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড

অলসতা দূর করার উপায়: জীবন বদলে দেওয়ার আধুনিক গাইড আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় আলস্য গ্রাস করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন

বিক্রি বাড়ানোর কৌশল: অনলাইন ব্যবসায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি আনুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই ব্যবসা সফল হয় না। পণ্যটি যে সত্যিই ভালো, তার

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ধর্ম ইসলাম

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কী বলে? Mufti Rejaul Karim

মুহতারাম হাজিরিন, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল এবং নতুন একটি বছর শুরু হলো । সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের স্মরণ

জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul Karim

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান: Mufti Rejaul karim মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আজকের জুমার এই বরকতময় মজলিসে

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।