অনেক সময় আমাদের জানার প্রয়োজন হয় যে, শাতিমে রাসূলের শাস্তি কি? রাসূল (সা:) এর মর্যাদা না বুঝে অনেকেই অনেক সময় নবীজীকে গালি দেয়। তাই আজ এ প্রবন্ধে আমরা জানব
রাসূল (সা:) এর মর্যাদা ও শাতিমে রাসূলের শাস্তি
শুরুর কথা : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নবীয়ে আরাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তায়ালা তাকে পূর্ণতার সকল গুণাগুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন নিজের পরই সম্মান ও মর্যাদার আসন। বানিয়েছেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। যার চারিত্রিক সনদ খোদ আল কুরআন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন মানবতার মুক্তির দূত। যিনি জাহিলিয়্যাতের ঘোর অমানিশায় ডুবে যাওয়া ইনসানিয়্যাতকে উদ্ধার
করেছেন। পশুত্বের আবেশে হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করেছেন। ক্ষমতার জাতাকলে পিষ্ট মানবাধিকারকে দিয়েছেন নতুন জীবন। জাত-পাতের বৈষম্যের প্রাচীরকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছেন সাম্যের বিধান। অধিকার বঞ্চিত নারী জাতিকে দিয়েছেন মা, বোন, স্ত্রী ও মেয়ের মর্যাদা। এভাবে সর্বদিক থেকে মানবতার প্রতিবন্ধক সকল মত ও পথের গোড়ায় কুঠারাঘাত করে আদল-ইনসাফ ও সাম্যের দর্শন দিয়েছেন পৃথিবীবাসীকে।
নবীয়ে আরাবী (সা:) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। নিম্নে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্বের কিছু দিক তুলে ধরছি..
১. তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব : দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠ মানব হলেন আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূলগণ। আর আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। সর্ব দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা তাকে শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন। হাদীস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدى لواء الحمد ولا فخر، وما من نبى يومئذٍ آدم فمن سواه إلا تحت لوائى، وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر
“আমি কিয়ামত দিবসে সকল আদম সন্তানের নেতা হব। এতে গর্বের কিছু নেই। আমার হাতেই হামদের পতাকা থাকবে। এতেও গর্বের কিছু নেই। সেদিন আমার পতাকার নিচেই আদম আ. এবং অন্য সকল নবী একত্রিত হবে। আমিই প্রথম ব্যক্তি যার জন্য যমীন বিদীর্ণ করা হবে। অর্থাৎ আমাকেই সর্ব প্রথম কবর থেকে উঠানো হবে ” (সুনানে তিরমিযী ৩১৪৮ )
বংশগত দিক থেকেও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ তিনি ছিলেন সর্বোত্তম বংশের সন্তান। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إنّ الله – تعالى – خلق الخلق فجعلني في خيرهم، ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خيرهم فرقة، ثمّ جعلهم قبائل فجعلني في خيرهم قبيلة، ثمّ جعلهم بيوتاً فجعلني في خيرهم بيتاً، فأنا خيركم بيتاً، وخيركم نفساً
“আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি কুলকে সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম দলকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম গোত্রকে বিভিন্ন ঘরে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ঘর ও উত্তম বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” সুনানে তিনমিযী ৩৫৩২.
২. তিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ : নবীয়ে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين
“আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি” )সূরা আনবিয়া ১০ (
পৃতিবীর সকল সৃষ্টির জন্য তিনি রহমত। সকল মানুষের জন্য তিনি রহমতের কারণ। মানুষ মুমিন হোক বা কাফের, আল্লাহ তায়ালাকে মানুক বা না মানুক, সব শ্রেণীর মানুষ দুনিয়াতে তাঁর রহমত থেকে উপকৃত হয়। তাই সবার জন্যই তিনি রহমত। ইমাম তাবারী রাহি. ওই আয়াতের ব্যাখায় বলেন,
أن الله أرسل نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم رحمة لجميع العالم ، مؤمنهم وكافرهم . فأما مؤمنهم فإن الله هداه به ، وأدخله بالإيمان به ، وبالعمل بما جاء من عند الله الجنة. وأما كافرهم فإنه دفع به عنه عاجل البلاء الذي كان ينـزل بالأمم المكذّبة رسلها من قبله
“আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন, চাই মুমিন হোক বা কাফের। আর মুমিনের জন্য রহমত এভাবে যে, আল্লাহ তায়ালা তার মাধ্যমে মুমিনকে হেদায়েত দিয়েছেন। পাশাপাশি মুমিন তাঁর উপর ঈমান আনয়ন ও তার আনিত শরিয়তের উপর আমল করার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আর কাফিরের জন্য তিনি রহমত এভাবে যে, আল্লাহ তায়ালা নবী সা. এর কারণে তাদেরকে তাৎক্ষণিক আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দেন না। কিন্ত পূর্ববর্তী নবীগণের উম্মত যখন তাদের নবীগণকে মিথ্যারোপ করতো সাথে সাথে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতেন এভাবে তিনি কাফেরের জন্যও রহমত। তাফসীরে তাবারী ১৮/৫৫২
৩. তিনি মানবতার মুক্তির দূত : মহানবী (সা:) মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে আগমন করেছেন। মানবতার প্রতিটি স্তরেই এই মহামানবের অবদান রয়েছে। সর্বক্ষেত্রে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে গেছেন। নিম্নে আমরা কয়েকটি দিক তুলে ধরছি,
ক. একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা : তিনি পৃথিবীবাসীকে একত্ববাদের সবক পড়িয়েছেন। যদিও বাহ্যত এটি স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু এটি মানবতার মুক্তির জন্য একটি যুগান্তকারী বিষয়। কারণ শিরক মানবতার জন্য চরম লাঞ্ছনাকর একটি অধ্যায়। মুশরিক ছোট থেকে ছোট জিনিসের সামনেও মাথা ঝুকাতে বাধ্য। একজন মুশরিক আল্লাহ তায়ালার পরিবর্তে হাজারো মাখলুক থেকে লাভ-ক্ষতির আশা রাখে। ফলে সব সময় অস্থির ও পেরেশান থাকে। সাধারণ বস্তুর ব্যাপারেও ভয়ের কোন অন্ত থাকে না। তাই একত্ববাদের বিশ্ব মানবতার জন্য বড় সম্মান ও মর্যাদার।
খ. সমতা বিধান : তিনি মানুষের মাঝে সাম্য কায়েম করেছেন। তাঁর আগমনের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তখনকার সংস্কৃতিতে মানুষের মাঝে বৈষম্যের কোন অন্ত ছিলনা। কিছু কিছু লোকদের জন্মগত ভাবেই সম্মানি আবার কিছু কিছু লোকদের নিকৃষ্ট মনে করা হত। ইহুদিরা ইস্রায়ীলি ও অন্যদের মাঝে পার্থক্য করত। যারা ইয়াকুব আ: এর বংশধর, তাদের বড় সম্মানি মনে করত। ইরানিদের ধারণা ছিল যারা বাদশার বংশধর তারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। হিন্দুস্তানের অবস্থা আরো ভয়াবহ ছিল।
তাদের মাঝে জাত-পাতের অভাব ছিলনা। নিজেদের মাঝে ব্রাহ্মণ,বৈশ্য,ক্ষত্রীয়তার বৈষম্য দেয়াল তৈরী করে যুলুমের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রাসূল (সা:) পৃথিবীবাসীকে মানুষের সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের শিক্ষা দিয়েছেন। জন্মগতভাবেই সম্মান-অসম্মান, মর্যাদা-অমর্যাদার প্রথা বিলুপ্ত করে স্পষ্ট ঘোষণা করেন,
لا فضلَ لعربيٍّ على عجميٍّ ، ولا لعجميٍّ على عربيٍّ ، ولا لأبيضَ على أسودَ ، ولا لأسودَ على أبيضَ – : إلَّا بالتَّقوَى
“অনারবের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আরবের উপর অনারবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্বেতাঙ্গের শেষ্ঠত্ব নেই কৃষ্ণাঙ্গের উপর। কৃষ্ণাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই শ্বেতাঙ্গের উপর। তাকওয়াই হলো, শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। (মুসনাদে আহমাদ ২৩৪৮৯)
গ. নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা : জাহিলী যুগে বিশ্বব্যাপী নারীরা ছিল নির্যাতিত। ছিলনা তাদের কোন অধিকার। তাদেরকে ভোগ্যবস্তু মনে করা হতো। তাদের সাথে অন্যান্য প্রাণীদের মত মুয়ামালা করা হত। আরবে কণ্যা সন্তান জন্ম নিলে জীবন্ত কবর দিয়ে দিত। মিশরে নীল দরিয়ায় জোয়ার-ভাটা আসার জন্য সুন্দরী নারীদের সাজিয়ে গুজিয়ে নীল দরিয়ার উত্তাল তরঙ্গে উৎসর্গ করা হত। হিন্দুস্তানে ছিল সতীদাহ প্রথা। কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে স্বামীর সাথে ওই মহিলাকেও জীবিত পুড়ে ফেলত। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী জাতিকে এসব নির্যাতন,আর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
-------------------------------------------------- “ আপনি যদি আরও বিস্তারিত রাসূল (সা.) অবমাননার পরিণতিজানতে চান তাহলে ‘‘রাসূল (সা.) অবমাননার পরিণতি’’ বইটি অর্ডার করতে পারেন। অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন --------------------------------------------------
সবধরনের যুলুম থেকে নারীদের মুক্তি দিয়েছেন। ফিরিয়ে দিয়েছেন নারীদের বেঁচে থাকার অধিকার। ঘোষণা করেছেন,
( “এবং যখন জীবন্ত প্রোথিত কণ্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে- তাকে কী অপরাধে হত্যা করা হয়েছিল?” ( সূরা তাকবীর ৮-৯)
এভাবে নারীর বেঁেচ থাকার অধিকার নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, নারীকে দিয়েছেন একজন মা, মেয়ে, বোন ও স্ত্রীর মর্যাদা। এমনকি নারীর জন্য তার পিতা-মাতা,স্বামী,ভাই,সন্তানদের সম্পদ থেকে একটি অংশ নির্ধারণ করে তাদেরকে সম্পদের অধিকার দিয়েছেন। এভাবে নবীয়ে আরাবী নারী জাতিকে সর্বদিক থেকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।
৪. তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের বাতিঘর : মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্রের বাতিঘর। উন্নত চরিত্রের জীবন্ত প্রতিক। মানবীয় সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতার সকল গুণাবলী তার মধ্যে বিদ্ধমান ছিল। তার উত্তম চরিত্রে অভিভূত হয়ে মক্কার মুশরিকরাও তাকে ‘আল আমীন’ ‘সাদুক’ সত্যাবদী, বিশ্বস্ত ইত্যাদি উপাধি দিয়েছিল। তারা বলত,
هذا الامين هذا محمد
তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৩১২।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র হলো পূর্ণ কুরআন। হযরত আয়েশা রাযি.কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আালাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
كان خلقه القران
“তাঁর চরিত্র হলো,পবিত্র কুরআন।” মুসনাদে আহমাদ ২৫৩০২
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারিত্রিক পবিত্রতার সনদ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وانك لعلى خلق عظيم
“নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত
” সূলা আল-কলম ৪
হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
بعثت لأتمم مكارم الأخلاق
“আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে।” কাশফুল আসতার ২৪৭০
আরও পড়ুন: কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোজার ফজিলত
মুহতারাম হাযিরীন! অত্যন্ত দু:খ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হয়, আমাদের সমাজে কিছু কুলাঙ্গার জন্ম নিয়েছে, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র চরিত্রে কালিমা লেপনের দু:সাহস প্রদর্শন করছে। অথচ মক্কার মুশারিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিরশত্রু মনে করত। সবসময় তারা রাসূলের দোষ খুঁজে বেড়াত। তারা রাসূলকে গণক বলেছে, রাসূলকে পাগল বলে গালি দিয়েছে, রাসূলকে জাদুকর বলে বদনাম করেছে কিন্তু রাসুলের অনুপম চরিত্রে কালিমা লেপন করার কোন সুযোগ পায়নি।
এমনকি মক্কার মুশারকরা বিভিন্ন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুন্দরী রমণীদের লোভ দেখিয়ে দাওয়াতি কাজ বন্ধ করার জন্য প্রস্তাব করেছে। কিন্তু নবীয়ে আরবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসবের লোভে পড়া তো দূরের কথা! উল্টো তাদেরকে জাবাব দিয়েছেন,
والله لو وضعوا الشمس في يمينى والقمر في يساري على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله، أو أهلك فيه ما تركته
“আল্লাহর শপথ! তারা যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দিয়ে বলে যে তুমি তোমার এই প্রচার কাজ থেকে বিরত হও, তাহলেও এ কাজ থেকে আমি বিরত হব না যতক্ষণ না আমার প্রভু আমাকে জয়ী করবেন বা এ কাজে আমার মৃত্যু হয়।” )আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৬৩(
৫. তিনি সর্বশেষ নবী : আল্লাহ তায়ালা তাকে শেষ নবীর মর্যাাদা দান করেছেন। তাঁর মাধ্যমে নবুওতের ধারা সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। তিনি আসার পর পূর্ববতী সব নবীদের শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। এখন একমাত্র মুক্তি তাঁর শরিয়ত অনুসরণের মাঝে। কারণ তিনি সর্ব শেষ ও সমস্ত সৃষ্টির নবী। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
فُضِّلتُ على الأنبياء بست : أعطيت جوامع الكلم ، ونصرت بالرعب ، وأحلت لي الغنائم ، وجعلت لي الأرض طهوراً ومسجداً ، وأرسلت إلى الخلق كافة، وختم بي النبيون
“অন্য সব নবীর চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দান করা হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর মাটি পবিত্রতা হাসিল কারী ও মাসজিদ বানানো হয়েছে। আমাকে সমস্ত সৃষ্টির জন্য নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে।” )সহিহ মুসলিম ৫২৩ (
এমনকি পূর্ববর্তী কোন নবীও যদি এখন দুনিয়াতে আগমন করেন তাহলেও তাঁর শরিয়তের অনুসরণ করতে হবে। হাদিস শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
والذي نفسي بيده لو كان موسى حيا لما وسعه إلا اتباعي
“ওই সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি নবী মূসাও এখন জীবিত থাকতেন, আমার অনুসরণ ছাড়া তার কোন উপায় ছিল না। ” মুসানাদে আহামাদ ১৫১৫৬
৬. কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনিই প্রথম সুপারিশকারী : কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে যখন সূর্য একেবারে কাছে চলে আসবে, রাসূল সা. বলেন,
“সূর্য অনেক নিকটে চলে আসবে। মানুষ অসহনীয় ও চরম দু:খ-কষ্ট ও পেরেশানীতে নিপতিত হবে।” সহীহ মুসলিম ১৯৪। যে দিন সকল নবীগণ পেরেশান থাকবে। রাসূল সা. বলেন
“সে দিন রাসূলগণ অন্য কোন কথা বলবেন না, তারা কেবল বলতে থাকবেন, আল্লাহুম্মা সাল্লিম-সাল্লিম, হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন” সহিহ বুখারি ৮০৬। এমন বিভীষিকাময় দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার সাথে কথা বলবেন এবং সুপারিশ করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন সেজদায় পড়ে যাবেন, আল্লাহ তায়ালা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ করে বলবেন,
“হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার মাথা উঠান এবং সুপারিশ করুন। আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আর আপনি যা চান, আপনাকে তাই দেওয়া হবে।” )সহিহ বুখারি ৩৩৪০(
এ বিষয়টিই অন্য হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন,
কিয়ামতের দিন আমিই সর্বপ্রথম শাফায়াতকারী এবং সর্বপ্রথম আমার শাফায়াতই কবুল হবে। এতে গর্বের কিছু নেই”। )সুনানে তিরমিযী ৩৬১৬ (
৭. তিনি সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী : তিনিই সেই মহামানব যিনি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তার মাধ্যমে জান্নাতের উদ্বোধন করা হবে। তার আগে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“কিয়ামত দিবসে আমি জান্নাতের তোরণে এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইব। তখন দ্বাররক্ষী বলবেন, আপনি কে? আমি উত্তরে বলবো, মুহাম্মাদ। দ্বাররক্ষী বলবেন, আপনার জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্য দরজা খুলিনি।” সহিহ মুসলিম ১৯৭
৮. তাঁর উম্মত হতে পারা বড় সৌভাগ্যের : এই মহামানবের সুবাধে তাঁর উম্মতগণও অন্য সকল উম্মত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ উম্মত। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা হলে সর্ব শ্রেষ্ঠ উম্মত”।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উম্মতকে অনুগ্রহ প্রাপ্ত উম্মত বলে ঘোষণা করেছেন,
(‘আমার এই উম্মত দয়াপ্রাপ্ত’। (আবু দাউদ ৮৭২৪ সহীহ)
শুধু তাই নয় এই উম্মতই অন্য সকল উম্মতের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‘আমরা দুনিয়াতে সর্বশেষ আগমন কারী, সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশকারী’। (বুখারী ৭৭৪) পাশাপাশি জান্নাতে এ উম্মতের সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“জান্নাতিদের একশত বিশটি কাতার হবে, তার মধ্যে এই উম্মতের হবে আশিটি কাতার এবং অন্য সকল উম্মতের হবে চল্লিশটি কাতার ” )সুনানে তিরমিযী ২৫৪২(
৯. তার চর্চা ও খ্যাতি চির সমুন্নত : আল্লাহ তায়ালা এই মহামানবের আলোচনা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছেন। বিশেষ বিশেষ স্থানে যখনই আল্লাহ তায়ালার আলোচনা এসেছে পাশাপাশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরও আলোচনা করা হয়েছে। যেমন, কালিমা,আযান, ইকামত,নামাজে তাশাহুদসহ আরো অনেক স্থান। এভাবে আল্লাহ তায়ালা রাসূলের মান-সম্মানকে চির সমুন্নত করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আমি তোমার চর্চাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।” সূলা ইনশিরাহ ৪
হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“আমার কাছে জিবরীল আ. এসে বললেন, আমার ও আপনার প্রভু আপনাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছেন, কিভাবে আপনার চর্চাকে উচুঁ করা হয়েছে ? তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। জিবরীল আ.বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যখন আমার চর্চা হবে সাথে তোমারও চর্চা হবে।” সহিহ ইবনে হিব্বান ৩৩৮২
অমুসলিম মণীষীদের চোখে নবীয়ে আরাবী (সা:)
অমুসলিম মণীষীরাও অকপটে একথা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, নবীয়ে আরাবী (সা.) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব শ্রেষ্ঠ মহামানব ও সর্বকালের সেরা। কয়েকজন মনীষীর কথা আমরা তুলে ধরছি..
১. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার মতো প্রকাশনা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকৃতি প্রদান করেছে যে, ‘জীবজগতের সকল ধর্ম প্রবর্তক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর স্থান সবার উপরে এবং তিনি সফল মহামানব।’
২. ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘মুহাম্মদ (সা.) এর ধর্মই আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়’।
৩. প্রখ্যাত মার্কিন মনীষী মাইকেল এইচ হার্ট বিশ্ব ইতিহাসের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তির জীবনচরিত পর্যালোচনা করে তাঁদের মধ্য থেকে সর্বকালের সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী একশত জন সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় সৃষ্টিকূলের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে শীর্ষ স্থানে রেখেছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। এছাড়াও পি. কে. হিট্টি, জেমস এ মিসেনার, আর্থার গিলমান, মরিস গড ফ্রে, জোসেফ হেল,পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুসহ পৃথিবীর অসংখ্য মনীষী মহানবী (সা.) কে সর্বকালের সেরামানব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
————————————-
আস-সারিমুল মাসলূল আলা শাতিমির রাসূল কিতাবটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন
————————————-
এই মহামানবকে জীবন দিয়ে ভালবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
সর্বকালের সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসা ঈমানের অন্যতম অনুষঙ্গ। শুধু ভালবাসলেই হবে না। বরং নিজের পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি এমনকি নিজের থেকেও এই মহামানবকে বেশি ভালবাসতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত মুমিন হওয়া যাবে না। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
সেই সত্ত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে আধিক ভালবাসার পাত্র না হব” (সহিহ বুখারি ১৫ )
অন্য হাদিসে এসেছে আব্দুল্লাহ বিন হিশাম রাযি. বলেন,
“আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি ওমর রাযি.এর হাত ধরে রেখেছিলেন। ওমর রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, তবে আমি ছাড়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না পূর্ণ হয়নি, সে সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের থেকে প্রিয় না হবো। ওমর রাযি.বলে উঠলেন, এখন আমি আপনাকে আমার নিজের থেকে বেশি ভালবাসি। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন ঠিক আছে, হে ওমর! ” (আলমু’জামুল আওসাত ৩১৭ )
মুহাতারাম হাযিরীন! সাহাবায়ে কেরামের মত সত্যিকার নবীপ্রেম আমাদের অন্তরে জাগ্রত করতে হবে। নবীকে নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসতে হবে। নিজের জীবন দিয়ে হলেও নবীর ইজ্জত হেফাজতে এগিয়ে আসাতে হবে। সহাবী মুয়ায ও মুয়াওয়ায রাযি. চেতনা‘ কে বুকে ধারণ করে নবীর ইজ্জতের হেফাজতের জন্য আমাদেরকে নতুন করে শপথ নিতে হবে।
শাতিমে রাসূলের শাস্তি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি করা বা তাঁর শানে বেয়াদবি করা বা তাকে গালি দেওয়া ভয়াবহ অপরাধ। এমন ব্যক্তিকে শাতিমে রাসূল বলা হয়। শাতিমে রাসূলের পরিণাম খুবই খতরনাক। দুনিয়া অখিরাতে তাকে ভয়ংকর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
নিম্নে আমারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তিকারীর কিছু শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণামের কথা তুলে ধরছি,
১. এর মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট হয়ে যায় : রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের শানে বেয়াদবি করলে বা তাকে নিয়ে কোন ধরনের কটুক্তি করলে ঈমান চলে যায়। এমন ব্যক্তি সাথে সাথেই বেইমান ও কাফির হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“বল, তোমরা কি আল্লাহ, আল্লাহর আয়াত ও তার রাসূলকে নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলে? কোন অযুহাত পেশ করোনা। তোমারা ঈমান যাহির করার পর কুফরিতে লিপ্ত হয়েছ”। (সূরা তাওবা ৬৫-৬৬)
২. এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহ তায়ালার লা’নত : যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়, তার শান-মান খাটো করে, তাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তার উপর আল্লাহ তায়ালা লা’নত করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে পীড়া দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লা’নত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আহযাব ৫৭)
৩. সে দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছিত হবে : যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধীতা করে, রাসূলের শানে কটুক্তি করে, এমন ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে চরমভাবে লাঞ্ছিত হবে। যেমন, আল্লাহ তায়ালা
বলেন,
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা হবে চরম লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভূক্ত।” (সূরা মুজাদালা ২০ )
৮. বিবাহিত হলে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে : রাসূলের শানে কটুক্তিকারী যদি বিবাহিত হয়, সাথে সাথে তার স্ত্রী তালাক হয়ে তারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যাবে। তাদের পরস্পরে স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোন আচরণ করা বৈধ হবে না। ইমাম আবু ইউসুফ রাহি. বলেন,
“কোনো মুসলমান যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় বা তাকে দোষারূপ করে অথবা তার সম্মানকে খাটো করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে”। ( কিতাবুল খারাজ: ১৯৯)
৫. এমন ব্যাক্তির জানাযা, কাফন, দাফন নেই : শাতেমে রাসূলের জানাযা, কাফন-দাফন গোসল কিছুই করানো হবে না। তার জন্য ইসলামী তরিকায় কবর খনন করা হবে না বরং শুকর,কুকুর মারা গেলে যেমন গর্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হয় তেমনি তাকেও মাটি চাপা দিয়ে রেখে দেওয়া হবে। ইবনে আবেদিন শামি রাহি. বলেন,
“ এমন ব্যক্তিকে গর্তে নিক্ষেপ করা হবে অর্থাৎ তাকে গোসল দেওয়া হবে না,কাফন পড়ানো হবে না বরং কুকুরের মতো গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। ” (রাদ্দুল মুহতার ২/২৩০)
৬. এমন ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী : যারা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, রাসূলকে গালি দেয় বা কটুক্তি করে এমন ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তায়ালা আগুনে পোড়াবেন এবং আজীবনের জন্য তারা জাহান্নামী হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা
“কারো কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পরও যদি সে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব যা সে অবলম্বন করে। আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো যা অতি মন্দ ঠিকানা।” সূরা নিসা ১১৫
৭. তার রক্ত হালাল হয়ে যায় : শাতিমে রাসূল তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাকে গালি দাতা বা রাসূলকে নিয়ে কটুক্তিকারী ওয়াজিবুল কতল। তার একমাত্র শাস্তি কতল বা হত্যা করা। হাদিস শরিফে এসেছে, এক মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিত অত:পর তাকে হত্যা করে দেওয়া হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে বললেন,
“ তোমারা সাক্ষী থাকো, এই মহিলার রক্তের কোন মূল্য নেই।” ( সুনানে আবি দাউদ ৪৩৬১)
অন্য হাদিসে এসেছে ইবনু ওমর রাযি. বলেন,
أتي عمر ابن الخطاب برجل سب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقتله، ثم قال: من سب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أحدا من األنبياء فاقتلوه.
“হযরত ওমর রাযি. এর কাছে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আনা হলো, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দিয়েছিল। ওমর রাযি. তাকে হত্যা করে দেন। অত:পর বলেন, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা অন্য কোন নবীকে গালি দিবে তোমরা তাকে হত্যা করে দাও।” (কানযুল উম্মাল ৩৫৪৬৫ সনদ সহীহ )
আরও পড়ুন: কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ
মাযহাব চতুষ্টয়ে শাতিমে রাসূলের বিধান
১. হানাফি মাযহাব : হানাফি মাযহাবের সকল আলেম একমত যে, কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে কটাক্ষ করলে কিংবা তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলে বা তাকে গালি দিলে অবশ্যই তাকে মৃত্যুদ- দিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ রাহি. বলেন,
“কোনো মুসলমান যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় বা তাকে দোষারূপ করে অথবা তার সম্মানকে খাটো করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। তাওবা না করলে তাকে হত্যা করে ফেলা হবে। এই বিধান নারী পুরুষ উভয়ের জন্যে। (কিতাবুল খারাজ: ১৯৯)
——————————————-
“প্রিয় পাঠক! আপনি যদি নবীজীর জীবনী জানতে চান তাহলে
আর-রাহীকুল মাখতুম কিতাবটি অর্ডার করতে পারেন। অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন”
——————————————-
ইমাম ইবনু আবিদীন শামী রাহি.বলেন,
“হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু বকর ইবনে মুনযির রাহি. বলেন,“এ ব্যাপারে সকল উলামায়ে কেরাম একমত যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কটাক্ষ করবে বা গালি দিবে তাকে হত্যা করতে হবে। ইমাম মালিক ইবনে আনাস, লাইস, আহমদ, ইসহাক ও ইমাম শাফেয়ি রাহিমাহুল্লাহও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। (ফতোয়ায়ে শামি : ৪/২৩২ )
৭. শাফেয়ি মাযহাব : শাফেয়ি মাযহাবেও সর্বসম্মতিক্রমে এমন ব্যক্তিকে মৃত্যুদ- দেওয়া ওয়াজিব। ইমাম নববী রাহি. বলেন,
“শাফেয়ি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফকিহ ইমাম খাত্তাবি রাহি. বলেন,‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গালিদাতাকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত আছে বলে আমার জানা নেই।” (আল-মাজমু’ : ১৯/৪২৭)
৩. মালেকি মাযহাব : মালেকি মাযহাবের আলেমগণ সকলেই একমত যে, কোনো ব্যক্তি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটাক্ষ করে কিংবা গালি দেয় তাহলে তাকে হত্যা করা জরুরী এবং তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং মুত্যুদ- দিতে হবে। ইমাম কারাফি রাহি.বলেন,
“ কোন ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা অন্য কোনো নবীকে গালি দিলে তাকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী হত্যা করা হবে। তাওবার কারণে তার হত্যার বিধান রহিত হবে না”। ( আয যাখিরা: ৩/ ৪৬০ )
৪. হাম্বলি মাযহাব : ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহি.-এর মাযহাবের আলেমগণ সকলেই একমত যে, কোনো ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটাক্ষ করলে কিংবা গালি দিলে তাকে হত্যা করা হবে। এমনকি তাকে তাওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহি.বলেন,
وقد نص أحمد على ذلك في مواضع متعددة قال حنبل: “سمعت أبا عبد الله يقول: “كل من شتم النبي صلى الله عليه وسلم أو تنقصه مسلما كان أو كافرا فعليه القتل وأرى أن يقتل ولا يستتاب
“ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহি. একাধিক স্থানে একথা ব্যক্ত করেছেন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেবে অথবা মানহানী করবে, তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে। চাই সে মুসলিম হোক বা কাফের। আমি মনে করি, তাকে তাওবার সুযোগ না দিয়ে হত্যা করা হবে। (আস-সারেমুল মাসলুল ১/৪)
মুহতারাম হাযিরীন! আমাদের কথা একটাই, আমরা আমাদের রাসূলকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসি। খোদার কসম প্রতিটি মুমিন আমার নবীকে নিজের পিতা,মাতা,সান্তানাদী থেকেও হাজারগুণ বেশি ভালবাসে। কোন কুলাঙ্গার নবীর ইজ্জত নিয়ে কটুক্তি করলে মুমিন ঘরে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে কাফনের কাপড় পড়ে ময়দানে বেড়িয়ে আসবে।
নবীর ইজ্জতের প্রশ্নে কোন আপোষকামীতা মুমিন করবে না, করতে পারে না। এটাই আমাদের চূড়ান্ত কথা। তাই প্রশাসনের কর্তব্য হবে কিছু দিন পরপর অস্থিতিশীল এই পরিবেশ যেন সৃষ্টি না হয় এবং কোন কুলাঙ্গর যেন নবীকে নিয়ে কটুক্তি করার সাহস না পায়, এজন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নবীর কটুক্তি কারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন পাশ করে তা বাস্তবায়ন করা।
শেষকথা : আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে নবীর ইজ্জতের হেফাজতের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করার তাওফীক দান করুন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামীন।



