রাতগুলোর মধ্যে শবে বরাত একটি উল্লেখ যোগ্য ও মহিমান্বিত রাত। সবার উচিত এ রাতের কদর করা। শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে আমাদের জেনে তার উপর আমল করা উচিত। তাই আজ আলোচনা করব,
শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়
সম্পর্কে। আপনি যদি পূর্ণ প্রবন্ধটি পড়েন তাহলে শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জানতে ও অন্যজে জানাতে পারবেন ইনশাঅল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালার সুন্নত হলো, তিনি এক সময়কে অন্য সময়ের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন, এক স্থানকে অপর স্থানের উপর মর্যাদা দান করেন এবং কোন কোন মানুষকে অন্য মানুষের চেয়ে বেশি সম্মান দান করেন’। এটি আল্লাহ তায়ালার নিয়ম। যেমন, তিনি মসজিদে হারামকে সকল স্থানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অত:পর স্থানের বিবেচনায় মসজিদে নববী শ্রেষ্ঠ, এরপর মসজিদে আকসা, মসজিদে কুবার জন্যও আলাদা ফযিলত রয়েছে। একইভাবে মানুষের উপর মানুষের মর্যাদার তারতম্য করেছেন। এমনকি সব নবীদের মর্যাদাও সমান নয়।
তাদের মাঝেও মযার্দাগত পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন, ‘ওই সকল রাসূল যাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি’। সূরা বাকারা-২৫৩।
নবী-রাসূলদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আমাদের নবীয়ে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অনুরূপ ফেরেশতাদের মাঝেও মর্যাদাগত তারতম্য রয়েছে। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা সময়ের মাঝেও মর্যাদা আর ফযিলতের মাধ্যমে তারতম্য করেছেন। সব সময় একই মর্যাদা রাখে না। সব সময়ের মূল্য সমান নয় বরং আল্লাহ পাক গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিন ও রাত দিয়েছেন যেগুলো অন্যদিনের তুলনায় অধিক মর্যাদা ও ফযিলত পূর্ণ।
যেমন, জুমার দিন ও রাত, দুই ঈদের রাত, লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান ইত্যাদি। আজকে আমরা এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত ‘শবে বরাত’ নিয়ে আলোচনা করবো। বি তাওফীকিল্লাহি তায়ালা।
শাবানের মধ্য রজনীর বা শবে বরাত এর পরিচয়
মধ্য শাবানের রাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্র। উপমহাদেশে এ রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। ফার্সি ভাষায় ‘শব’ শব্দটির অর্থ হলো, রাত বা রজনী। আর ‘বরাত’ শব্দটি আরবী ‘বারাআত’ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ হলো, মুক্তি পাওয়া, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া। ‘শবে বরাত’ অর্থ হলো, মুক্তির রজনী।
যেহেতু এ রাতে অগণিত মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় তাই এ রাতকে শবে বরাত বলা হয়। তবে কুরআন-হাদিসে কোথাও ‘শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত’ পরিভাষাটি ব্যবহার হয়নি। সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগের অনেক পর এই পরিভাষাটির প্রচলন শুরু হয়। হাদিস শরীফে এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘শাবানের মধ্য রজনী’ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে পরিভাষার বিষয়টি যেহেতু প্রশস্ত। তাই এ রাতকে ‘শবে বরাত’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’ বলতে সমস্যা নেই। মহিমান্বিত এ রাতের ফযিলত
মুহতারাম মুসল্লিয়ানে কেরাম! লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শবে বরাত এটি সাধারণ কোন রাত নয়। বরং আল্লাহ তায়ালা যে সকল রাতকে আমাদের জন্য ফযিলত পূর্ণ বানিয়েছেন এর মধ্যে এটি অন্যতম।
বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা এ রাতের ফযিলত প্রমাণিত। শবে বরাতের ফযিলতপূর্ণ এই রাতে আল্লাহ তায়ালা অগণিত মানুষকে ক্ষমা করে দেন। এ সংক্রান্ত বিশুদ্ধ বর্ণনায় অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে আমরা কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করছি,
ক. হাদিস শরীফে এসেছে, মুয়ায ইবনু জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা শাবানের মধ্য রজনীতে সমস্ত সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত তার সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করে দেন”। মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১২৯৬০ সহিহ।
খ. আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি, বলেন নবীজি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“শাবানের মধ্য রজনীতে আল্লাহ তায়ালা প্রথম আকাশে নুযূল করেন। এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত তাঁর অন্যান্য বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন”। মুসনাদুল বায্যার ৮০ হাসান
গ. আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা শাবানের মধ্য রজনীতে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত
তার সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করে দেন”। সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০ হাসান।
সালাফগণের দৃষ্টিতে শবে বরাত
মুহতারাম হাযিরীন! শবে বরাত এর আলাদা ফযিলত রয়েছে। ফযিলতপূর্ণ এ রাতের ইবাদত ও নেক আমলকে সালাফগণ খুবই গুরুত্ব দিতেন। আমাদের সমাজে কিছু ভাইকে দেখা যায় তারা শবে বরাতের ফযিলতকে অস্বীকার করতে চায়। অথচ তারা যাদেরকে ইমাম মনে করে তারাও শবে বরাতের ফযিলত স্বীকার করতেন এবং মানুষদেরকে এ রাতে আমল করতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
নিম্নে আমরা শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সালাফের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি,
ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী রাহি. ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহি.-এর আমল বর্ণনা করে লিখেন,
“তিনি বসরার গভর্ণর আদী বিন আরতাত রাহি. এর কাছে এই মর্মে বার্তা লিখে পাঠান যে, বৎসরে চারটি রাতের ব্যাপারে যত্মশীল হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা এসব রাত্রিতে অঝোর ধারায় রহমত বর্ষণ করেন। সে চারটি রাত হলো, রজবের প্রথম রাত্রি, শাবানের মধ্য রজনী, দুই ঈদের রাত্র। আত-তালখীসুল হাবীর ২/১৯১
ইমাম শাফেয়ী রাহি. বলেন,
“আমার কাছে পৌঁছেছে যে, পাঁচটি রাত এমন আছে যাতে দোয়া কবুল করা হয়, জুমার রাত্র, দুই ঈদের রাত্র, প্রথম রজবের রাত্র ও শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্র”। আল উম্ম লিল ইমাম আশ-শাফেয়ী ১/২৬৪
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি রাহি. বলেন,
“মুমিনের উচিত এ রাতে অন্য কাজ হতে অবসর হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তায়ালার যিকির, ক্ষমা প্রার্থনা, ইজ্জত আব্রুর হেফাজত ও বালা-মুসিবত থেকে মুক্ত থাকার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়ায় লিপ্ত থাকা। পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা করা, কেননা এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারীদের ক্ষমা করে দেন”। লাতাইফুল মাআরিফ ১৩৮
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহি. যার কথা আমাদের দেশের আহলে হাদিস ভাইয়েরা সম্ভবপর প্রায় সব ক্ষেত্রেই দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন। শবে বরাত সম্পর্কে তিনি বলেন,
“শাবানের মধ্যবর্র্তী রাত অর্থাৎ শবে বরাতের অনেক মর্যাদা রয়েছে। সালাফে সালেহীনের অনেকে এ রাত্রিতে নামায আদায় করতেন”। আল ফাতাওয়া আল কুবরা, ৫/৩৪৪,
তিনি এ সম্পর্কে আরো বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাত্রির ব্যাপারে অনেক হাদিস ও আসার বর্ণিত হয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে এ রাতের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা প্রমাণিত হয়। সালাফ বা পূর্বসূরীদের মধ্যে কেউ কেউ এ রাতে বিশেষ করে নামায আদায় করতেন। শাবান মাসের রোযার ব্যাপারে বিশুদ্ধ হাদীস এসেছে।” ফায়যুল কাদীর ২/৩১৭
আব্দুর রহমান মুবারকপুরী রাহি. যিনি আহলে হাদিস ভাইদের অন্যতম শাইখ। তিনি তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেন,
“জেনে রেখো, অর্ধ শাবান রাতের ফযিলতের ব্যাপারে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এগুলো সামষ্টিকভাবে
প্রমাণ করে যে, এ রাতের একটি ভিত্তি আছে”। তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/৩৬৫
শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহি. হাদিসের যে মান নির্ধারণ করেন আমাদের গাইরে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা এটাকে চোখ বুজে লুফে নেন। শাইখ আলবানী রাহি. শবে বরাতের হাদিস বর্ণনা করে বলেন, মজবুত আরেকটিকে একটি যাদের হয়েছে। বর্ণিত তা সূত্রে বিভিন্ন থেকে সাহাবী একদল সহিহ। “হাদিসটি ১১৪৪ সহিহাহ আহাদিসিস সিলসিলাতুল করে”।
আহলে হাদিস ভাইদের অন্যতম শীর্ষ আলেম সৌদি আরবের শায়খ সালেহ আল উছাইমিন শবে বরাত সম্পর্কে বলেন,
ومن هذا الباب ليلة النصف من شعبان روي في فضلها أحاديث ومن السلف من يخصها بالقيام ومن العلماء من السلف وغيرهم من أنكر فضلها وطعن في اْلحاديث الواردة فيها، لكن الذي عليه كثير من أهل العلم أو أكثرهم على تفضيلها
থেকে সালেহীন সালফে তাছাড়া হয়েছে। বর্ণিত হাদিস অনেক সম্পর্কে বরাত শবে তথা রজনী অর্ধ “শাবানের রাত্রির এ কেউ কেউ আলেমদের যায়। পাওয়া প্রমাণ করার বিশেষায়িত রাতকে এ মাধ্যমে রাত্রিযাপনের ফাতাওয়া মাজমুউ পক্ষে। মর্যাদার বিশেষ রাত্রির এ কিরামই উলামায়ে অধিকাংশ তবে করেছেন। অস্বীকার মর্যাদাকে ৭/১৫৬ উছাইমিন, লি-ইবনি
শবে বরাতের রাতেও যাদের ক্ষমা করা হয় না
মুহতারাম হাযিরীন! আমরা অনেকগুলো হাদিস বর্ণনা করেছি এ রাতে অগণিত বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। তবে বেশ কিছু অপরাধ এমন আছে এগুলোতে লিপ্ত ব্যক্তিকে এই মহান রাতেও মাফ করা হয় না।
নিম্নে আমরা সেসব পাপীর কথা উল্লেখ করছি,
১-২. মুশরিক ও হিংসুক বা বিদ্বেষ পোষণকারী : এদেরকে আল্লাহ তায়ালা এ রাতে ক্ষমা করেন না। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“ আবু মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের মধ্য রজনীতে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করে দেন”। সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০ হাসান।
হত্যাকারী : অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ভয়াবহ অপরাধ। ক্ষমার রাতেও হত্যাকারী মাফ পাবে না। হাদিস শরীফে এসেছে।.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানে তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারী ও হত্যাকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন” মুসনাদে আহমাদ ৬৬৪২ সহিহ
ব্যাভিচারী, যিনাকারী নারী-পুরুষ : এই ফযিলতপূর্ণ রাতে যিনাকারীদের ক্ষমা করা হয়না। হাদিস শরীফে এসছে নবীজি বলেন,
“শাবানের মধ্য রজনীতে একজন ঘোষক ঘোষণা করে, আছে কি কোন ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো? কে আছে রিযিকপ্রার্থী? আমি তা তাকে দিয়ে দিব? যে যাই আবেদন করবে তাকে তাই দেওয়া হবে। তবে যিনাকারিনী ও মুশরিককে বি ত রাখা হবে”। শুয়াবুল ঈমান ৩৫৫৫ হাসান/ যয়িফ
উল্লিখিত গোনাহগুলো ছাড়াও আরো কিছু এমন গোনাহ রয়েছে এসবে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকেও এ রাতে ক্ষমা করা হয়না। যেমন,আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী, জাদুকর, অদৃশ্যের সংবাদদাতা গনক, মদ পানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান।
এমন লোকদেরকেও ক্ষমা করা হয় না। এসব পাপের ভয়াবহ শাস্তি
মুহতারাম মুসল্লি সাহেবান ! এই ফযিলপূর্ণ রাতেও যেসব গোনাহের কারণে আল্লাহর ক্ষমা থেকে মাহরুম থাকতে হবে আমাদের কর্তব্য হলো এখনই এসব গোনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা করা। তাছাড়া যেসব গোনাহের কথা এখানে উঠে এসেছে এগুলো খুবই ভয়াবহ গোনাহ। এগুলোর জন্য কুরআন-হাদিসে খতরনাক শাস্তির কথা এসেছে, যেমন,
শিরক : শিরকের ভয়াবহতা কুরআন ও হাদিসে বহুবার বর্ণনা করা হয়েছে এবং বনি আদমকে শিরকের গোনাহ
থেকে সতর্ক করা হয়েছে। শিরকের গোনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্য পাপকে তিনি ক্ষমা করে দেন, যার জন্য তিনি চান।’ (সুরা নিসা: ৪৮)
কতল : তাওবা ইসতেগফার ইত্যাদির মাধ্যমে অন্যান্য গোনাহের মাফ পাওয়া গেলেও হত্যার গোনাহ মাফ করা হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“প্রতিটি গোনাহের ব্যাপারে আশা করা যায় যে আল্লাহ তায়ালা তা ক্ষমা করে দেবেন। তবে দুটি গোনাহ এমন যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। আর তা হচ্ছে, ইচ্ছাকৃত কেউ কোনো মুমিনকে হত্যা করা ও কোনো মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করা।” সুনানে নাসায়ী ৩৯৮৪ সহিহ।
তাই মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যাকারী জাহান্নামে প্রবেশ করবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম। সেখানে সে সদা সর্বদা থাকবে এবং
আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রাগান্বিত হবেন ও তাকে অভিশাপ দিবেন। আর তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ভীষণ শাস্তি।” সূরা নিসা : ৯৩
এমনকি একটি হত্যাকান্ড যদি সারা বিশ্বের সকল মানুষও শরিক থাকে তাহলে এ কারণে আল্লাহ তায়ালা সকলকেই জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যদি আকাশ ও পৃথিবীর সকলে মিলেও কোন মু’মিন হত্যায় অংশ গ্রহণ করে তবুও আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন”। সুনানে তিরমিযী ১৩৯৮সহিহ
আরও পড়ুন: আহলে হাদিস বনাম হানাফী মাযহাব
বিদ্বেষ বা শত্রুতা : এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই। ইসলাম কোনভাবেই চায় না মুসলিম ভাই তার অপর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ,শত্রুতা বা হিংসা রাখুক। এটি একটি মন্দ প্রবণতা। আর সাহাবায়ে কেরাম, সালফে সালেহীন ও উলামায়ে কেরামের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করা আরো ভয়াবহ পাপ। তাই একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো অন্তরকে সর্বদা হিংসা,বিদ্বেষ ও শত্রুতামি থেকে পবিত্র রাখা। ইসলামে এসব অপরাধ কে হারাম করা হয়েছে। বরং ধমকিবাণি দেওয়া হয়েছে যে, এমন ব্যক্তিকে মাফ করা হবে না।
এ ব্যাপারে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
“প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না। তবে ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না যার ভাই ও তার মাঝে শত্রুতা রয়েছে। সহিহ মুসলিম ২৫৬৫।
তাই পরস্পর শত্রুতা ভুলে দীন-ইসলামের জন্য আমাদের এক ও নেক হয়ে যেতে হবে। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না। কেননা খারাপ ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।
একে অপরের দোষ-ত্রুটি খুঁজিও না, একে অন্যের ব্যাপারে মন্দ কথায় কান দিও না এবং একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না; বরং তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও। ” সহীহ বুখারি ৬০৬৫
যুলুম : কারো উপর যুলম করা মহাপাপ। এমনকি আল্লাহ তায়ালা নিজের জন্য এটি হারাম করে নিয়েছেন এবং যুলুম করতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“ হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর জুলুমকে হারাম করেছি। অতএব, তোমরা একে উপরের উপর জুলুম করোনা”। সহীহ মুসলিম ২৫৭৭
যুলুমের শাস্তি আখিরাতে ভয়াবহ হবে। আখিরাতে যালিমের মতো বড় অসহায় আর কেউ হবে না। হাদিস শরীফে এসেছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“তোমরা কি বলতে পারো! অভাবী লোক কে? তাঁরা বললেন, আমাদের মাঝে যাদের দিনার দিরহাম নাই তারাই তো অভাবী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মাঝে সেই প্রকৃতপক্ষে অভাবী যে কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম ও যাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে এ অবস্থায় আসবে যে (সে মানুষের উপর জুলুম করেছে) কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের সম্পদ ভোগ করেছে, অমুককে হত্যা করেছে, অন্য জনকে প্রহার করেছে।
এরপর তার নেক আমল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, অমুককে নেক আমল থেকে দেওয়া হবে, অমুককে দেওয়া হবে। এরপরও যদি তার নেক আমল থেকে পাওনাদারের হক আদায় করা না যায়, এর পরিবর্তে তাদের পাপের বোঝা তাকে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সহীহ মুসলিম ২৫৮১
গণক : গণকের কথা বিশ্বাস করলে ঈমানই থাকবে না। এমনকি কৌতুহল বশতও তাদের কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা যাবে না। এ ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সাল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘যদি কেউ গণকের কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করে, তাহলে চল্লিশ দিন-রাত পর্যন্ত তার নামায গৃহীত হবে না।’ (মুসলিম:
২২৩০)
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী : আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকরা মহাপাপ। নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে ধমকিবাণি দিয়ে বলেন, “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অনুরূপভাবে পিতা-মাতার অবাধ্যতা করাও অনেক বড় গোনাহ। হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
সব চেয়ে বড় গুনাহ হলো, আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরীক করা, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা। সহিহ বুখারি ৬৮৭১
মুহতারাম হাযিরীন! একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলের জন্য জরুরী হলো, এখনই এসব গোনাহ থেকে তওবা করে ফেলা। অন্যথায় আফসোসের শেষ থাকবে না। ফযিলতপূর্ণ শবে বারাতে সবাই মাফ পেয়ে গেলেও আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা থেকে মাহরুম থাকতে হবে। নাউযুবিল্লাহ।

শবে বরাতের আমল
তাওবা ইসতেগফার ও ইবাদতে লিপ্ত থাকা : এই রাতের ফযিলত যেহেতু প্রমাণিত, পাশাপাশি এ রাত্রিতে যেহেতু আল্লাহ তায়ালা অগণিত বান্দাদের ক্ষমা করে দিবেন এবং যারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে তাদেরকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তাই, একজন মুমিনের কর্তব্য হলো এ রাত্রি ইবাদত, রুনাজারী আর ইসতেগফারের মাঝে কাটিয়ে দেওয়া। হাসিদ শরীফে এসেছে,
“হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়ালেন, এতো লম্বা সিজদা দিলেন, আমি মনে করেছি হয়তো তিনি মৃত্যৃবরণ করেছেন। তখন আমি উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন, আমাকে লক্ষ করে বললেন হে আয়েশা অথবা হে হুমাইরা! তুমি কি এই আশঙ্কা করছো যে, আল্লাহর রাসূল তোমার কোন হক নষ্ট করবেন ?
উত্তরে আমি বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল। আপনার দীর্ঘ সেজদা দেখে আমার এই আশঙ্কা হলো যে, আপনি ইন্তেকাল করেছেন কি না। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো, এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করেন, এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত্র আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেন। শুয়াবুল ঈমান ৩৫৫৪ হাসান
২. দীর্ঘ সময় নিয়ে নামায পড়া : এ রাতে বেশী বেশী নফল নামায পড়া। লম্ব লম্বা কেরাত ও দীর্ঘ সময় নিয়ে রুকু-সেজদা দিয়ে নফল নামায পড়া। শবে বরাতে নবীজির নামাযের বিবরণ দিয়ে আয়েশা রাযি. নবীজিকে লক্ষ করে বলেন,
“আপনার দীর্ঘ সেজদা দেখে আমার এই আশঙ্কা হলো যে, আপনি ইন্তেকাল করেছেন কি না”। শুয়াবুল ঈমান ৩৫৫৪ হাসান
তবে অবশ্যই এ বিষয়টি লক্ষ রাখেতে হবে দীর্ঘ রাত ইবাদত করতে গিয়ে যেন ফজরের নামায বা জামাত ফওত না হয়ে যায়। কারণ পূর্ণ রাত ইবাদতে কাটাতে না পারলেও যদি কমúক্ষে ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়া যায় তাহলেও পূর্ণ রাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে। হযরত উসমান রা. থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন,
“আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ইশার নামায আদায় করলো সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করলো সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করলো। মুসলিম ৬৫৬

৩. সম্ভব হলে একাকী কবর যিয়ারত করা : এ রাতে সম্ভব হলে কোন ধরনের রুসুম রেওয়াজ ছাড়া একাকী কবর যিয়ারত করা। হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,
“এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না) আমি তাঁর সন্ধানে বের হলাম। এসে দেখলাম তিনি বাকী কবরস্তানে আছেন। তিনি বললেন, তুমি কি ভয় করছো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি কোন অবিচার করবেন?
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনুমান করলাম আপনি আপনার অন্য কোন বিবির নিকটে গিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানে দুনিয়ার কাছের আকাশে অবতরণ করেন। তারপর কালব গোত্রের বকরী পালের লোমের চেয়েও বেশী সংখ্যক লোককে তিনি মাফ করে দেন।” সুনানে তিরমিযী ৭৩৯ যয়িফ।
আরও পড়ুন: যেভাবে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন
৪. দিনের বেলায় রোযা রাখা : পনেরো শাবান রোযা রাখা। সুনানে ইবনে মাযায় দুর্বল সনদে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে নবীজি বলেন,
“ যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড় এবং এর দিনে সওম রাখ। ” সুনানে ইবনে মাযাহ ১৩৭৭। যয়িফ।
(এ হাদিসটিকে শায়েখ আলবানি যয়িফ যিদ্দান বা মওযু বলেছেন।
শায়েখের বক্তব্য হলো, এ বর্ণনার সনদে ‘ইবনে আবি সাবরাহ’ নামক একজন রাবী রয়েছেন। তার সম্পর্কে হাদিস জাল করার অভিযোগ রয়েছে। অতএব এই বর্ণনা ‘মওজু’ হওয়া উচিত। ইবনে আবী সাবরাহ সম্পর্কে উপরোক্ত এই অভিযোগ সঠিক নয়।
তার সম্পর্কে খুব বেশি হলে এটুকু বলা যায়, যয়িফ রাবীদের মতো তার স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা ছিল। রিজাল শাস্ত্রের ইমাম আল্লামা যাহাবী রাহ. পরিষ্কার লিখেছেন যে, حفظه قبل من الحديث ضعيف وهو‘স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণেই তাকে যয়িফ বলা হয়েছ।’ সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৩৩০। সারকথা এই বর্ণনা মওযু নয় বরং যয়িফ।)
এ হাদিস ছাড়াও বিশুদ্ধ বর্ণনায় যেহেতু শাবান মাসের শেষের দিকে কয়েকদিন বাদ দিয়ে পুরো মাসেই রোযা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এ হিসেবেও এদিন রোযা রাখতে কোন সমস্যা নেই।
তাছাড়া এই দিনটি যেহেতু আইয়ামে বীযের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভব হলে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোযা রাখা। আইয়ামে বীয হিসেবেও এদিনে রোযা রাখা সুন্নত বা মুসতাহাব। তাই, আমরা ইচ্ছা করলে এই তিন দিন রোযা রাখতে পারি বা শুধু ১৫ তারিখের রোযাও রাখতে পারি। কারণ প্রতি মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ রোযা রাখা সুন্নত বা মুসতাহাব।
এ ব্যাপারে হাদিস শরীফে এসেছে ,
“হযরত আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: আমাদেরকে প্রতি মাসের আইয়ামে বীয তথা ১৩,১৪,১৫ তারিখ রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনানে নাসাঈ ২৪২২ হাসান।
এসব বিবেচনায় আমরা আইয়ামে বীযের রোযা রেখে দিলে সব হাদিসের উপরই আমল হয়ে যাবে, ইন-শা-আল্লাহ।
৫. সর্বোপরি গোনাহ মুক্ত জীবন গড়ার দৃঢ় সংকল্প করা : গোনাহ মাফের এ রাতে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে সামনের যিন্দেগীতে আমরা আর গোনাহ করবো না। সবধরনের গোনাহ ও গোনাহের পরিবেশকে আমরা বর্জন করবো। আজকে আমাদেরকে এই দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে ।
সমাজে প্রচলিত বর্জনীয় কিছু কাজ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ কয়েকটি হাদিস ও সলফ,খলফদের আমল দ্বারা শবে বরাতের ফযিলত প্রমাণিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও বাস্তব সত্য যে, এই রাতকে নিয়ে আমাদের সমাজে যথেষ্ট ভ্রান্তি ও প্রান্তিকতা রয়েছে। কিছু মানুষ এটি নিয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। আবার কেউ কেউ বলতে চায়, লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানের আলাদা কোন ফযিলত নেই।
এক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতামত হলো,
এটি নিয়ে যেমন বাড়াবাড়ি করা যাবে না তেমন এর ফযিলতকেও অস্বীকার করা যাবে না।
মুহতারাম হাযিরীন : এই রাতকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে অনেক বাড়াবাড়ি ও কুসংস্কার চালু আছে। এগুলো থেকে নিজে বিরত থাকতে হবে, অন্যদেরকেও বিরত রাখতে হবে।
নিম্নে আমরা এমন কিছু খোরাফাত ও কুসংস্কারের কথা উল্লেখ করছি,
১.হালুয়া রুটির আয়োজন : এই রাতে মসজিদে মসজিদে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হালুয়া-রুটির আয়োজন করা হয়। এতে করে একদিকে মূল্যবান ইবাদতের সময় নষ্ট হয়। অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম এটাকে এ রাতের বিশেষ ইবাদত মনে করতে শুরু করে। অথচ এ রাতের সাথে হালুয়া-রুটির কোন সম্পর্ক নেই।এজন্য এই কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. বিশেষ ধরনের নামায : প্রায় প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে ‘মকসুদুল মুমিনীন’ বইটি আছে। এটি জাল আর বানোয়াট হাদিসের খাযানা। এতে শবে বরাতের বিভিন্ন আইটেমের নামায দেওয়া আছে। এই সবগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। শবে বরাত উপলক্ষে আলাদা নিয়মের কোন নামায নেই।
৩. কয়েকটি কুসংস্কার : সমাজের কিছু মানুষ মনে করে এ রাতে মৃত ব্যক্তিদের রূহ বাড়িতে আসে। এজন্য ভালভাবে সেজেগুজে থাকতে হবে। অনেকেই আবার সন্ধ্যায় গোসল করে। রাতের বেলায় দরজার বাহিরে পানি ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকে। এ সবগুলোই কুসংস্কার। এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। ৪. আতশবাজি, পটকা ফোটানো : অন্যদিকে গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে বিশেষ করে শহরে এই রাতে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, মসজিদ, মাজার ইত্যাদিকে আলোক সজ্জিত করা হয়।
এতে যেমনভাবে অনেক অর্থের অপচয় হয় তেমনি মানুষ অনেক ভোগান্তিতে পড়ে। মানুষের কষ্ট হয়, বিশেষ করে অসুস্থ ও বাচ্চাদের জন্য এগুলো বড় কষ্টের কারণ হয়। এজন্য আমরা আমাদের সন্তানদের এধরনের হারাম কাজ থেকে বিরত রাখবো। ইন শা আল্লাহ।
৫. জামাতবদ্ধ ইবাদত : এ রাতে জামাতবদ্ধ কোন পৃথক ইবাদত নেই। অনুরূপ জামাতবদ্ধ হয়ে কবর যিয়ারত, মসজিদে মসজিদে এ উপলক্ষ্যে ওয়াজ নসীহতের বিশেষ আয়োজন করাও সুন্নাহ সম্মত নয়। এগুলোও পরিহার করা উচিত।
প্রিয় পাঠক, দ্বীন প্রচারের লক্ষে
শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়
প্রবন্ধটি মানুষের মাঝে শেয়ার করে দিন। ইনশাআল্লাহ প্রবন্ধটি কেমন হল একটি কমেন্ট করে যাবেন।
শেষ কথা : শবে বরাতের ফযিলত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই এই রাতে কিভাবে আমি মাফ পেতে পারি এখন থেকেই সেই চেষ্টায় লেগে যেতে হবে। বিশেষভাবে ওই সাত প্রকার গোনাহ পরিহার করতে হবে। এই রাতে ইবাদত ও দিনে রোযা রাখার ইহতেমাম করতে হবে। পাশাপাশি বাড়াবাড়ি থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এই মহিমান্বিত রাতের করণীয় কাজগুলো করার আর বর্জনীয় কাজগুলো বর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।



