আজকের আলোচ্য বিষয়, যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি? পুরো প্রবন্ধটি পড়লে বুঝতে পারবেন যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ। পুঝতে পারবেন আপনার উপর যাকাত ফরজ হয়েছে কি না? তাহলে চলুন শুরু করি।
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি
কোনো ব্যক্তির ওপর ইবাদত ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত থাকে। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্যও কিছু শর্ত আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু শর্ত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত; আর যাকাত আর্থিক ইবাদত হওয়ায় সম্পদের সাথে সম্পর্কিত কিছু শর্তও আছে। নি¤েœ উভয় প্রকারের শর্তগুলো উল্লেখ করা হলো-
ক. ব্যক্তির ক্ষেত্রে শর্ত
১. মুসলিম হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো মুসলিম হওয়া। রাসূল সা. তাঁর সাহাবী মুয়ায ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়ামেনে প্রেরণের সময় দাওয়াতি কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা রক্ষার যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তাতে অমুসলিমদের প্রথমে ঈমানের দাওয়াত পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঈমান আনার পর তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে সালাত ও যাকাতসহ অন্যান্য ইবাদত পালনের আহ্বান জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা ছাড়া যাকাত ইবাদত হওয়ায় তা অমুসলিমের জন্য ফরজ হওয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক।
২. বালিগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া : শাফেয়ি, মালিকী ও হাম্বলি মাযহাব মতে, সম্পদশালী শিশুর ওপর যাকাত ফরজ হবে। তার সম্পদ হতে তার ওয়ালী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক যাকাত আদায় করবেন। দলিল হিসেবে তারা উল্লেখ করেন যে, রাসূল সা. বলেছেন, “কেউ যদি এতিমের সম্পদ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পায়, সে যেন তা ফেলে না রেখে ব্যবসায় নিয়োজিত করে। যাতে সাদাকা (যাকাত) দিতে দিতে ঐ সম্পদ নিঃশেষ হয়ে না যায়।”-তিরমিযী
হানাফি মাযহাব মতে, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য বালিগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে শিশুর সম্পদে যাকাত নেই। তবে শিশুর মালিকানাধীন জমিতে উৎপন্ন ফসলে উশর ফরজ হবে।
শিশুর সম্পদে যাকাত ফরজ না হওয়ার পক্ষে দলিল হলো রাসূল সা. বলেছেন, “তিন প্রকারের মানুষের ওপর হতে তাকলিফের কলম তুলে নেওয়া হয়েছে : পাগল, যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে; ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু, যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়।” যেমনিভাবে শিশুর ওপর সালাত ও সাওম ফরজ হয় না, একইভাবে যাকাতও ফরজ হয় না। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, শিশুদের যাকাত পরিশোধ করাই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
আরও পড়ুন: ইসলামে যাকাতের অর্থ ও তাৎপর্য
৩. বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া : হানাফি মাযহাব মতে, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই পাগলের ওপর যাকাত ফরজ নয়। যুক্তি হিসেবে তাঁরা তিন প্রকারের ব্যক্তির ওপর হতে তাকলিফের কলম তুলে নেওয়ার হাদীসটি উল্লেখ করেন। অন্যান্য মাযহাব মতে, পাগলের ওপর যাকাত ফরজ হবে, তার পক্ষ হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক যাকাত আদায় করবেন।
তাকলিফের কলম মানে তার ওপর কোনো ইবাদত বা দায়িত্ব আবশ্যক হওয়ার কলম। যার মাধ্যমে তার ওপর কোনো ইবাদত বা দুনিয়াবি দায়িত্ব ফরজ বা আবশ্যক হয়। যার ওপর শরিয়ার বিধান আবশ্যক হয় তাকে মুকাল্লিফ বলে। আর শরিয়ার বিধান আবশ্যক হওয়া বা প্রযোজ্য হওয়াকে তাকলিফ বলে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া বিধান যেহেতু লিখিত হয়, তাই একে তাকলিফের কলম বলা হয়েছে।
৪. স্বাধীন ব্যক্তি হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকের স্বাধীন হওয়া শর্ত। দাসের ওপর যাকাত ফরজ নয়। বস্তুতপক্ষে দাস কোনো সম্পদের মালিক নয়, তার সব সম্পদের মালিক তার মনিব। তাই তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার কোন প্রশ্ন নেই।

৫. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা : শরিয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে। যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয় তাই নিসাব। নিসাবের বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তীতে দেওয়া হবে। এখানে সংক্ষেপে এটুকু বলা যায় যে, স্বর্ণের নিসাব ২০ দিনার, রুপার নিসাব ২০০ দিরহাম, শস্যের নিসাব পাঁচ ওয়াসাক, ছাগল বা ভেড়ার নিসাব ৪০টি, গরু ৩০টি এবং উট ৫টি।
৬. সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা ও পূর্ণাঙ্গ দখল থাকতে হবে এবং সম্পদ ব্যবহারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। অন্যথায় যাকাত ফরজ হবে না। যেমন, জনকল্যাণে ওয়াকফকৃত সম্পদে যাকাত নেই। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ওয়াকফ করা হলে তার যাকাত দিতে হবে।
কোনো মহিলার নামে মোহরানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে এখনো আদায় করা হয়নি, তাহলে ঐ মহিলাকে ধার্য মোহরানার ওপর যাকাত দিতে হবে না। কারণ ঐ সম্পদ তার দখলে আসেনি। এ শর্তের প্রয়োগ সরল নয় এবং যাকাত হতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ঢালাওভাবে এটির প্রয়োগ কাম্য নয়। তাই কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ উদ্রেক হলে ঐ সম্পদের যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৭. যৌথ মালিকানাভুক্ত সম্পত্তির যাকাত : কোনো সম্পদের মালিক দুই বা ততোধিক হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের যাকাত দেবেন। যদি প্রত্যেক মালিকের অংশ আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না হয়, তাহলে কাউকে যাকাত দিতে হবে না। আবার কারো অংশ নিসাব পরিমাণ, কারো অংশ নিসাব পরিমাণ নয়, এমন অবস্থা হলে যার অংশ নিসাব পরিমাণ সে যাকাত দেবে।
সব মালিকের সম্পদ একত্র করে নিসাব হিসাব করা হবে না। যদি সবার ওপর বা একাধিক অংশীদারের ওপর যাকাত ফরজ হয়, তারা চাইলে একত্রে যাকাত আদায় করতে পারেন, আবার আলাদাভাবেও আদায় করতে পারেন।
আরও পড়ুন: নিজের ভাই-বোন কে জাকাত দেয়া যাবে কি?
৮. হারাম সম্পদের যাকাত : এটি সম্পদের মালিকানাসংক্রান্ত বিষয়ের প্রশ্ন। হারাম সম্পদ বলতে বোঝায় অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ। চুরি, ডাকাতি, সুদ, ঘুষ, ছিনতাই, রাহাজানি, অবৈধ ব্যবসা ইত্যাদি নানাবিধ অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ হারাম বা অবৈধ সম্পদ বলে গণ্য। হারাম পন্থায় উপার্জনকারী ব্যক্তি ঐ সম্পদের মালিক নয়।
অতএব, তা খরচের অধিকারো তার নেই। যাকাত প্রদানও একধরনের খরচ। তাই ফকিহগণ বলেন, হারাম সম্পদ হতে যাকাত দেওয়া যাবে না। অবৈধ পন্থায় উপার্জিত সমুদয় সম্পদ প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে হবে। যদি প্রকৃত মালিক চিহ্নিত করা সম্ভব না হয় তাহলে সাওয়াবের নিয়ত ব্যতিরেকে পুরো সম্পদ গরিব-মিসকিনকে দিয়ে দিতে হবে।
খ. সম্পদের ক্ষেত্রে শর্ত
১. সম্পদ বর্ধনযোগ্য হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ বর্ধনযোগ্য হওয়া শর্ত। এটি বাস্তবেও হতে পারে, আবার ধারণাগতভাবেও হতে পারে। সম্পদ বর্ধনশীল না হলে তার ওপর যাকাত ফরজ নয়। যাকাত ফরজ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রকে সহযোগিতা এবং তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা। কিন্তু নিশ্চয়ই আল্লাহ চান না যে, যাকাত আদায় করে ধনী ব্যক্তি দরিদ্র হয়ে যাক। সম্পদ যদি বর্ধনশীল না হয় এবং তা হতে বছরের পর বছর যাকাত আদায় করা হতে থাকে, তাহলে ধনী ব্যক্তি একসময় দরিদ্র হয়ে যাবে। তাই যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া অপরিহার্য।
কিছু সম্পদে বর্ধনশীলতার বিষয়টি দৃশ্যমান; যেমন, প্রজননের মাধ্যমে চতুষ্পদ জন্তু বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত ফসল তো বর্ধন ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নগদ অর্থ বেড়ে যায়। স্বর্ণ-রুপা বাহ্যিকভাবে না বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে এগুলো বর্ধনশীলতা প্রকাশ পায়।
এ শর্তের কারণে পরিধেয় পোশাক, ঘরের আসবাবপত্র, দোকানপাট, জমিজমা ও বইপত্রের ওপর যাকাত ফরজ হয় না। একইভাবে চাষাবাদ ও আরোহণের জন্তুর ওপরও যাকাত ফরজ হয় না। বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবসা-পরিবহন ছাড়া ব্যক্তিগত চলাচলের গাড়ির (যত দামিই হোক না কেন) ওপর যাকাত বর্তাবে না।
২. সম্পদ এক বছর অধিকারে থাকা : যাকাত ফরজ হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, মালিকের অধিকারে সম্পদ এক চন্দ্রবছর থাকা। কোনো সম্পদ যদি এক বছরের কম সময়ে হাতে থাকে, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। এ শর্তটি নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রুপা, চতুষ্পদ জন্তু ও ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূল সা. বলেছেন, “এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোনো সম্পদে যাকাত নেই।”-সুনানে আবু দাউদ
জমিতে ফসল উৎপন্ন হওয়াটাই একধরনের প্রবৃদ্ধি। তা ছাড়া ফসল জমা করে রাখলে দিনে দিনে তা কমে যায়, তাই বৃদ্ধি লাভের জন্য বছর অতিক্রান্ত করা নিরর্থক।
উৎপাদিত ফসলে একবারই যাকাত ফরজ হয়। উশর আদায়ের পর কেউ যদি অবশিষ্ট শস্য গোলায় পাঁচ বছরও রাখে তার দ্বিতীয়বার যাকাত দিতে হবে না।-মাওসুআ ২৩ : ২৪২; কারযাভী
অনুরূপভাবে চতুষ্পদ প্রাণীর বাচ্চার যাকাত বিধান হলো, হিজরি বছরের মধ্যবর্তী সময়ে যদি কোনো পশু বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই বাচ্চা নিসাবের সাথে যোগ হবে। পরবর্তী অধ্যায়ে তার বিস্তারিত আলোচনা আছে। অপরদিকে, বছরের মাঝখানে অর্জিত ব্যবসার মুনাফা মূলধনের সাথে যোগ হবে, যদিও মুনাফার ওপর এক বছর পূর্ণ না হয়।
উল্লেখ্য, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য যেসব সম্পদে হিজরি এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি নয় তার বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী অধ্যায়ে আছে।
৩. সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া : হানাফি মাযহাবের আলেমগণ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত একটি শর্তারোপ করেন, সেটি হলো-যাকাতযোগ্য সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয় না। যে ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ নেই, তাকে ধনী বলা যায় না। আর যাকাত ফরজ করা হয়েছে ধনীদের ওপর।
রাসূল সা. যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে মুয়ায রা.- কে বলেছিলেন, “এটি ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।”
মৌলিক প্রয়োজনের শর্তের সুযোগসন্ধানী প্রয়োগ কাম্য নয়। বর্তমান যুগে বিলাসিতার অনেক উপকরণকে কেউ কেউ মৌলিক প্রয়োজন বানিয়ে নিয়েছে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মৌলিক প্রয়োজন বলতে এমন কিছু বোঝায়, যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য, যেমন : খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা ইত্যাদি।
৪. ঋণমুক্ত হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ ঋণমুক্ত হওয়া শর্ত। ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে কারো যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তাহলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কর্তব্য হলো সর্বাগ্রে ঋণ পরিশোধ করা। যাকাতকে দরিদ্রের হক বলা হয়।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পদের প্রথম হকদার হলো পাওনাদার। তাই প্রথমে ঋণ আদায় করতে হবে। অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে। রাসূল সা. বলেছেন, “কারো ওপর ঋণ থাকলে সে যেন প্রথমে তা শোধ করে, তারপর বাকি সম্পদের যাকাত আদায় করবে।”-মালেক মুয়াত্তা
আরও পড়ুন: স্বপ্নদোষ হলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?
যারা মাসিক/বার্ষিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য চুক্তিবদ্ধ তারা কেবল এক বছরের কিস্তির সমপরিমাণ সম্পদ বাদ দিয়ে বাকি সম্পদের ওপর যাকাত হিসাব করবেন। এক্ষেত্রে ঋণের সম্পূর্ণ পরিমাণ ধর্তব্য হবে না।
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তের সাথে সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয়
মৃত ব্যক্তির যাকাত : বিষয়টি মালিকানার শর্তের সাথে সম্পর্কিত। কোনো ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ হতে ওয়ারিশগণ বা সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক যাকাত আদায় করবে। এখানে প্রশ্ন করা যেতে পারে-ব্যক্তি মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার সম্পদের মালিকানা ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হয়, তবুও কেন তার ওপর যাকাত ফরজ হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, মৃত ব্যক্তির সম্পদ বণ্টনের পূর্বে তার ঋণ আদায় করতে হয়। যাকাত হলো আল্লাহর প্রাপ্য ঋণ; মানুষের ঋণ আদায়ের চেয়ে আল্লাহর ঋণ আদায় করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাকাত ও ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
বহির্বিশ্বে রক্ষিত সম্পদের যাকাত : কারো সম্পদ যদি বিদেশের ব্যাংকে থাকে কিংবা কেউ যদি বিদেশে ব্যবসা করেন এবং ঐ সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয়, তাহলে তাকে যাকাত আদায় করতে হবে। বিদেশে শরিয়াহ নির্ধারিত খাতে যাকাত বণ্টন করার সুযোগ থাকলে তিনি সেখানে বণ্টন করতে পারবেন, অন্যথায় নিজ দেশে যাকাত আদায় করবেন।
তবে বিদেশে যাকাত আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ দেশে যাকাত আদায় করতে পারবেন, যদি সেখানে যাকাতের হকদার মানুষ বেশি থাকে। আবার সম্পদ দেশে, সম্পদের মালিক বিদেশে-এমন ক্ষেত্রেও তার সম্পদের যাকাত দিতে হবে। দেশে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজন বা প্রতিনিধি তার পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করবেন।
কয়েদি বা সাজাপ্রাপ্ত আসামীর যাকাত : কারাদ- বা বন্দিদশা যাকাত রহিত করে না। কারাবন্দি হাজতি হোক বা সাজাপ্রাপ্ত, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে যাকাত দিতে হবে। তার পক্ষ হতে তার পরিবারের সদস্য বা তার সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক যাকাত আদায় করবেন। যদি তা না করা হয় কারাবন্দির ওপর থেকে যাকাত রহিত হবে না। মুক্তিলাভের পর পূর্বের বছরগুলোর যাকাত তাকে হিসাব করে আদায় করতে হবে।
মুসাফিরের যাকাত : সফরের কারণেও যাকাতের বিধান রহিত হয় না। মুসাফির ব্যক্তি যদি নিজ দেশে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে ঐ সম্পদের যাকাত দিতে হবে। ঐ ব্যক্তির দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে তার পক্ষ থেকে তার আত্মীয় স্বজন বা প্রতিনিধি যাকাত আদায় করবেন। এটা সত্য যে, সম্পদশালী মুসাফিরও যদি বিদেশে বিপদগ্রস্ত হন, তাহলে তিনি যাকাত গ্রহণ করতে পারেন। তাই বলে এ বিধানের ফলে দেশে রক্ষিত সম্পদের ওপর যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হয় না।
প্রিয় পাঠক, যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি? প্রবন্ধটি পড়ে কেমন লাগল? আশা করছি কমেন্ট করে জানাবেন।






