Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

ইসকন কি? বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম

আমাদের অনেকে উপর যাকাত ফরজ হলেও আমরা জানি না যে, কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ? এবং যাকাতের নিসাবই বা কী? তাই আজ আলোচনা করব,

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ?

নিসাব কী?

নিসাব মানে পরিমাণ বা সংখ্যা। ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত  ফরজ হয় তাকে নিসাব বলা হয়। কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদের  পরিমাণের ভিত্তিতেই তার ওপর যাকাত ফরজ হয়। ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত একটি  ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর  যাকাত ওয়াজিব হয় না।

যে সকল সম্পদের যাকাত দিতে হবে

যাকাত প্রযোজ্য হয় এমন প্রধান প্রধান সম্পদগুলো হলো-ক. সোন-রুপা,  খ. গবাদি পশু গ. নগদ টাকা, ঘ. ব্যবসায়িক পণ্য, ঙ. ফল ও ফসল চ. খনিজ  সম্পদ। নিম্নে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো :

১) সোনা-রুপা : সোনার নিসাব ২০ দিনার বা পরিমাপের হিসাবে ৮৫ গ্রাম বা ৭.২৯ তোলা। আর রুপার নিসাব নিসাব ২০০ দিরহাম বা ৫৯৫ গ্রাম  বা ৫১.০২ তোলা। গয়নার যাকাতের ব্যাপারে উলামাগণ বিভিন্ন মত  পোষণ করেন। তারা বলেন, দেখতে হবে সোনা-রুপার গয়না ব্যবহারের  জন্য, নাকি সঞ্চয় করে রাখার জন্য, নাকি ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজের  জন্য।

অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে-নিসাব পরিমাণ সোনা-রুপার ওপর  হিজরি এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত ওয়াজিব হবে, যে উদ্দেশ্যেই তা সংগ্রহ  করা হোক না কেন। সোনা-রুপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু যেমন হীরা,  মুক্তা, ইয়াকুত, মোতি, মুক্তাদানা, গোমেদ-পীতবর্ণ মণিবিশেষ ইত্যাদির  গয়নার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয় না; তার মূল্য যা-ই হোক না কেন। তবে ব্যবসার জন্য হলে ব্যবসায় পণ্য হিসেবে তার ওপর যাকাত  ওয়াজিব হবে। এ বিষয়ে পরের অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

২) ব্যাংক নোট : ব্যাংক নোট তথা ডলার, পাউন্ড, ইউরো, রিয়াল টাকা  ইত্যাদি মুদ্রা, যা নগদ অর্থ হিসেবে পরিচিত তার ওপর যাকাত আসবে। একইভাবে অর্থের অন্যান্য ইন্সট্রুমেন্ট যেমন : চেক, বিল, বিনিয়োগ  সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র যার বৈষয়িক মূল্য রয়েছে, তার ওপরও যাকাত ফরজ হবে। সোনা বা রুপার নিসাবের মূল্যের হিসাবে  তার যাকাত আদায় করতে হবে।

৩) ব্যবসায় পণ্য : যেসব পণ্য বা বস্তু দিয়ে ব্যবসা করা হয়, যেমন : ব্যবসার  নানা পণ্য, জমি, গাড়ি ও ব্যবসার অন্যান্য সামগ্রী, যা কেনাবেচা করা  হয়। অধিকাংশ আলেম মনে করেন, ব্যবসায় পণ্যে যাকাত ওয়াজিব।

৪) গবাদি পশু : উট, গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া-দুম্বার ওপর যাকাত ফরজ।  গৃহপালিত পাখি, মুরগি, ঘোড়া, গাধা, খরগোশ ও অন্যান্য প্রাণীতে  যাকাত নেই, তার সংখ্যা যত বেশি হোক। তবে এসবের কোনো প্রাণী  ব্যবসার জন্য নির্ধারিত হলে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে তাতে যাকাত  ওয়াজিব হবে। উটের নিসাব ৫টি, গরু-মহিষের নিসাব ৩০টি, ছাগল- ভেড়া-দুম্বার নিসাব ৪০টি।

৫) ফল ও ফসল : হাদীসে গম, যব, খেজুর ও কিশমিশের নাম উল্লেখ করে  যাকাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ চার প্রকার ব্যতীত যেসব ফল ও ফসল  খাদ্য ও সঞ্চয় করার উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করলে নষ্ট হয়  না, যেমন : ভুট্টা, ধান-চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য, তাতেও যাকাত  ওয়াজিব হবে। তবে শাকসবজি ও পচনশীল শস্যের ওপর যাকাত নেই।  ফল ও ফসলের যাকাতকে ওশর বলা হয়। ফসল সংগ্রহের দিন প্রাকৃতিক  রিসোর্স ব্যবহার করা হলে এক-দশমাংশ এবং সেচ বা কৃত্রিম পদ্ধতি  ব্যবহার করা হলে তার অর্ধেক যাকাত আদায় করতে হয়। ফল ও  ফসলের নিসাব ৫ ওয়াসাক বা ২৫ মণ মতান্তরে ১৭ মণ।

আরও পড়ুন: ইসলামে যাকাতের অর্থ ও তাৎপর্য

সোনা ও রুপার যাকাত

যাকাতের নিসাবের আলোচনায় ফিকহের গ্রন্থগুলোতে সোনা ও রুপার নিসাবের আলোচনার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং এ দুই  ধাতুর নিসাব প্রায়শ মানদ- হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সেকালে যখন  যাকাতের নিসাব নির্ধারিত হতো তখন কাগজি মুদ্রার প্রচলন ছিল না, বরং  স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন ছিল।

ধনী ব্যক্তি ছাড়া সাধারণত গরিবদের  কাছে কোনো মুদ্রাই থাকত না। তারা সাধারণত পণ্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে  লেনদেন করতেন। তাই সে সময় প্রাণীসম্পদ তথা চতুষ্পদ জন্তু ও কৃষিজ  সম্পদ তথা উৎপন্ন ফসলের নিসাব পৃথকভাবে এবং মুদ্রা হিসেবে সোনা ও  রুপার নিসাব নির্ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে কাগজি মুদ্রার প্রচলনের পর  ফকিহগণ সোনা ও রুপার বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে নগদ অর্থের নিসাব  নির্ধারণ করেন। তা ছাড়া যেসব পণ্যের নিসাব নির্ধারিত নেই, সেগুলোর  নিসাবও সোনা বা রুপার নিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাই সোনা ও  রুপার নিসাবের আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ
ঘড়িটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন

সোনা ও রুপা প্রধানতম সম্পদের অন্তর্ভুক্ত এবং অর্থনীতির মেরুদ- হিসেবে  বিবেচিত। সোনা-রুপার অপ্রতুলতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই  বহু জাতি এ দুটি ধাতুদ্বারা মুদ্রা তৈরি করেছে ও দ্রব্যমূল্যের মান হিসাবে গ্রহণ  করেছে। আল্লাহ বলেন-

“যারা সোনা ও রুপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না,  তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা  উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া  হবে আর বলা হবে, এটাই তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং  যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তা আস্বাদন করো।” সূরা তাওবা, ৯ : ৩৪-৩৫

রাসূল সা. বলেছেন, “প্রত্যেক সোনা ও রুপার মালিক, যে তার যাকাত আদায়  করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের বহু পাত তৈরি করা হবে এবং  তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে  দাগ দেওয়া হবে। তা ঠান্ডা হয়ে গেলে পুনরায় তাকে গরম করা হবে এবং  দাগ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। সেদিনের পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বছরের  সমান। তাদের বিচার নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত এ শাস্তি চলতে থাকবে। অতঃপর সে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের পথ ধরবে।”-সংক্ষেপিত, সহিহ মুসলিম

সোনার নিসাব

রাসূল সা. বলেছেন, “২০ দিনারের কম পরিমাণ সোনায় যাকাত ফরজ নয়।  যদি কোনো ব্যক্তির নিকট ২০ দিনার পরিমাণ সোনা এক বছর যাবৎ থাকে,  তবে এর জন্য অর্ধ দিনার যাকাত দিতে হবে…।”-সুনানে আবু দাউদ

উল্লেখ্য, হাদীসে বর্ণিত ১ দিনার সমান ৪.২৫ গ্রাম সোনা। অতএব, ২০ দিনার সমান ২০দ্ধ৪.২৫=৮৫ গ্রাম স্বর্ণ। এক ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম হলে ৮৫ গ্রাম  স্বর্ণে (৮৫স্ট১১.৬৬) ৭.২৯ ভরি স্বর্ণ। অর্থাৎ কারো নিকটে উল্লিখিত পরিমাণ  স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকলে তার ওপর বর্তমান বাজার মূল্যের হিসাবে মোট  সম্পদের ২.৫০% যাকাত দেওয়া ফরজ।

সোনার যাকাত দেওয়ার নিয়ম

ব্যক্তির মালিকানায় যে ক্যারেটের সোনা রয়েছে, সে ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার বাজারদর জানতে হবে। যদি একাধিক ক্যারেটের সোনা থাকে, তবে  অধিক পরিমাণ সোনা থাকলে প্রত্যেক ক্যারেটের মূল্য আলাদা করে জানতে  হবে; আর পরিমাণ কম হলে যে ক্যারেটের বেশি আছে তার বাজারদর জানতে  হবে; অতঃপর এক গ্রাম স্বর্ণের মূল্যকে তার নিকট যে কয় গ্রাম সোনা আছে,

তার সংখ্যা দিয়ে গুণ দিতে হবে। এভাবে সোনার গ্রামকে মুদ্রায় পরিণত করে  মূল্যের ২.৫% যাকাত হিসেবে বের করতে হবে। এটিই সোনার যাকাত।

যেমন : কেউ ২১ ক্যারেট ১০০ গ্রাম সোনার মালিক, সে তার যাকাত বের  করার জন্য প্রথম ২১ ক্যারেট সোনার বাজার দর জানবে। যদি এক গ্রামের দাম হয় ১০,০০০ টাকা হয়, তবে যাকাতের হিসাব নিম্নরূপ হবে : ১০০ (গ্রাম  স্বর্ণ)* ১০,০০০ (টাকা, যা এক গ্রাম স্বর্ণের মূল্য)* ২.৫% (যাকাত) অর্থাৎ  ১০০*১০,০০০* ২.৫%=২৫০০০ টাকা।

আরও পড়ুন:  যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি

রুপার নিসাব

রুপার নিসাব উল্লেখ করে রাসূল সা. বলেছেন, “পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ  রৌপ্যে যাকাত নেই।”-সহিহ বুখারী

উল্লেখ্য, ১ উকিয়া সমান ৪০ দিরহাম, আর ৫ উকিয়া হলো ৪০দ্ধ৫=২০০ দিরহাম।  অন্যত্র রাসূল সা. বলেছেন,

“তোমরা প্রতি ৪০ দিরহামে ১ দিরহাম যাকাত আদায়  করবে। ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের ওপর কিছুই ফরজ নয়।  ২০০ দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে ৫ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার  যাকাত উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী প্রদান করতে হবে।”-সুনানে আবু দাউদ

হাদীসে বর্ণিত ২০০ দিরহাম সমান ৫৯৫ গ্রাম রুপা। ১১.৬৬ গ্রাম সমান ১  ভরি হলে ৫৯৫ গ্রাম রুপা হবে ৫৯৫স্ট১১.৬৬=৫১.০২ ভরি। উক্ত পরিমাণ  রুপা কারো নিকট এক বছর যাবৎ থাকলে তার ওপর বর্তমান বাজার মূল্যের  হিসাবে মোট সম্পদের ২.৫% যাকাত আদায় করা ফরজ।

রুপার যাকাত নির্ণয় করার নিয়ম

যে ক্যারেট রুপা তার কাছে রয়েছে, প্রথম তার বাজারদর জানতে হবে। আর  যদি একাধিক ক্যারেটের রুপা থাকে, তবে যে ক্যারেট বেশি রয়েছে তার  বাজারদর জানতে হবে। অতঃপর যত গ্রাম রুপা তার মালিকানায় রয়েছে, তার সংখ্যা দিয়ে এক গ্রাম রুপার বাজারদরকে গুণ দিতে হবে। আর তার  ২.৫% হবে সে রুপার যাকাত।

যেমন : কেউ ৬০০ গ্রাম ৮০ ক্যারেট রুপার মালিক। সে যখন তার যাকাত  বের করার ইচ্ছা করবে, তখন প্রথমে এক গ্রাম ৮০ ক্যারেট রুপার বাজারদর  জানবে। ধরুন, এক গ্রাম রুপার মূল্য ১০০ টাকা হলে নিম্নের নিয়মে যাকাত  বের করতে হবে : ৬০০ (গ্রাম-রুপা)* ১০০ (টাকা, যা এক গ্রাম রুপার মূল্য)* ২.৫% = ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক গ্রাম রুপার মূল্য যদি হয় ১০০  টাকা, ৬০০ গ্রাম রুপার যাকাত আসবে ১৫০০ টাকা।

সোনা ও রুপা একত্রিত করে যাকাত প্রদান

সোনা ও রুপা উভয়টি মিলে নিসাব পরিমাণ হলে তার যাকাতযোগ্যতা

কারো নিকটে সোনা ও রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ নেই। কিন্তু উভয়টি  মিলে নিসাব পরিমাণ হয়। এক্ষেত্রে তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে  উলামাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রণিধানযোগ্য মত হলো, সোনা ও  রুপা ভিন্ন দুটি বস্তু। একটি অপরটির নিসাব পূর্ণ করতে সক্ষম নয়। সুতরাং  এ দুটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলে যাকাত ফরজ নয়।

অপর একদল আলেম মনে করেন, যেহেতু যাকাত গরিবের হক এবং সোনা ও রুপার মূল্যের ব্যবধানও এখন অনেক বেশি। ফলে দেখা যাবে, কারো কাছে  সঞ্চিত সোনা ও রুপা উভয়টির দাম অপর কারো নিকট শুধু সঞ্চিত সোনা বা  রুপার চেয়ে বেশি হওয়ার পরেও তার ওপর যাকাত ধার্য হচ্ছে না। আর সোনা

ও রুপা এখন বিনিময় মুদ্রা হিসেবেও নেই; বরং তা ব্যবহার বা সঞ্চয়ের  জন্যেই রাখা হয়। তাই তারা মনে করেন, যদি সোনা ও রুপা উভয়টির  মূল্যমান নগদ অর্থে হিসাব করলে এককভাবে সোনা বা রুপার যাকাতের  নিসাব সমান হয়ে যায়, তবে তার ওপর যাকাত আবশ্যক হবে।

সোনা ও রুপা উভয়টির মিলিত যাকাতের হিসাব

যেমন, কারো নিকট ৩৪০ গ্রাম রুপা ও ৫৭ গ্রাম সোনা রয়েছে। সোনা বা  রুপার কোনোটিই এককভাবে নিসাব পরিমাণ নয়। তার নিকট থাকা রুপা নিসাব পরিমাণ ৫৯৫ গ্রাম হতে ২৫৫ গ্রাম কম। আবার সোনা আছে ৫৭ গ্রাম;  যা নিসাব পরিমাণ ৮৫ গ্রাম হতে ২৮ গ্রাম কম। এখন তার কাছে থাকা ৫৭  গ্রাম সোনার দামে যদি ২৫৫ গ্রাম রুপা ক্রয় করা যায়; অথবা ৩৪০ গ্রাম  রুপার দামে যদি ২৮ গ্রাম সোনা ক্রয় করা যায়, তবে তার সম্পদ নিসাব  পরিমাণ বলে গণ্য হবে এবং তার ওপর বছরান্তে যাকাত ফরজ হবে।

সোনা ও রুপার সাথে নগদ অর্থের যাকাত

কেউ যদি নগদ অর্থের মালিক হয়, আর তার সোনা-রুপা ও ব্যবসায় পণ্য  মিলে নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ। কারণ, এগুলোর একটি অপরটির প্রতিনিধিত্ব করে। এমন হলে সোনাকে টাকার অঙ্কে নিয়ে  আসবে, অতঃপর নগদ অর্থ ও সোনার মূল্য হিসাব করবে, যদি নিসাব পরিমাণ  হয় উভয়ের যাকাত আদায় করবে। অর্থাৎ হিজরি এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত  আদায় করবে।

একাধিক মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

কোনো পরিবারে একাধিক ব্যক্তির মালিকানায় কিছু সোনা-রুপা রয়েছে।  পৃথকভাবে কারো নিসাবই পূর্ণ হয় না। কিন্তু তাদের সকলের সোনা-রুপা একত্র করলে নিসাব পরিমাণ হয়। যেমন : মায়ের ৫ ভরি ও মেয়ের ৪ ভরি সোনা রয়েছে; যা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ নয়। কিন্তু একত্রে নিসাব  পরিমাণ হয়। এমতাবস্থায় তাদের ওপর যাকাত ফরজ হবে না। কেননা, যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত হলো-ব্যক্তিকে নিসাব পরিমাণ সম্পদের পূর্ণ  মালিক হতে হবে। রাসূল সা. বলেছেন, “সোনা ও রুপার মালিকরা যারা  তদের হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের বহু  পাত তৈরি করা হবে।”-সহিহ মুসলিম

এখানে মালিক বলতে ব্যক্তিমালিকানাকে বোঝানো হয়েছে। অতএব,  ব্যক্তিমালিকানায় নিসাব পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলেই কেবল যাকাত ফরজ;  অন্যথায় ফরজ নয়।

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ
ঘড়িটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন
👁️ পড়া হয়েছে: ১৭ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আরাফাহ দিবস কী? আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আমরা কেন আরাফাহ দিবসে রোজা রাখি?

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার সময় বলা যায়: কোরবানি করার আদবসমূহ কোরবানি করার

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম: Mufti Rejaul Karim

সূচিপত্র লুকান কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম কুরবানীর গোস্ত তিন ভাগ করে বন্টন করা কী জরুরী? প্রশ্ন: আমার স্বামী বিদেশে আছেন এবং তাঁর মা আমার সাথেই

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম: একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

সূচিপত্র লুকান বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে ৫ই মে ২০১৩ একটি অবিস্মরণীয় এবং একইসাথে বেদনাবিধুর দিন। শাপলা চত্বরের ইতিহাস বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার

সূচিপত্র লুকান মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার এবার আসুন মুফতি রেজাউল করিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। মুফতি রেজাউল করিম

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

সূচিপত্র লুকান পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র কেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করবেন? পুঁজি ছাড়া ব্যবসার ৩টি মূলমন্ত্র

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।