Responsive Menu with Logo & Banner
Banner

২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বক্তব্য ও করণীয়

Picture of মুফতি রেজাউল করিম

মুফতি রেজাউল করিম

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার

বেগম রোকেয়ার জীবনী
সূচিপত্র

আপনারা অনেকেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বক্তব্য লিখে গুগলে সার্চ করেন। তাই আপনাদের জন্য আমার আজকের প্রবন্ধ, ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বক্তব্য। এ বক্তব্যটি সচারাচার বক্তব্যের মত নয়। একটু ব্যতিক্রম ধর্মী। আশা করছি পড়লে ভালো লাগবে। বক্তব্যের শিরোনাম,

একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষাচর্চায় আমাদের উদাসীনতা

আমাদের স্কুলের মাস্টার সাহেবও “মাষ্টার” লেখেন৷ যারা ফটোস্ট্যাট করেন তাদের কথা বাদই দিলাম৷ তারা লেখেন “ফটোষ্ট্যাট”৷

রেলস্টেশনে দেখবেন বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে “রেলষ্টেশন”৷

(অথচ বাংলা একাডেমির নিয়ম হলো, বিদেশি শব্দে ‘শ’ বা ‘স’ বসে। চ-বর্গীয় শব্দে ‘শ’ বসে। ট-বর্গীয় (ট, ঠ, ড) বিদেশি শব্দে স বসে। যেমন: তামাশা, খুশি, মসজিদ, সালাম, আশ্চর্য, নিশ্চয়, পশ্চিম, আগস্ট, মাস্টার, স্টোর, পোস্টার, স্কুল।

ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা কেবল ভাষার প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করি। বাকি এগারোটি মাস ভাষাচর্চায় আমাদের উদাস ও লাগামহীন হয়ে পড়ি।

ভাষার এই মাসের প্রতি ফ্যাশনেবল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে ‘অ, আ, ক, খ, ঙ,’ খচিত পোশাক পরিধান করি। মোবাইলে ভাষা বিষয়ক ওয়েলকাম টিউন ও রিংটোন লাগাই। সুযোগ পেলে বক্তব্য-সেমিনার করে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করি। আর যুগ-যুগ ধরে নিজেরাই বাংলা বানান, উচ্চারণ, শব্দ চয়ন, প্রক্ষেপণ ও প্রয়োগ ভুল করি।

OEDAGAR Stylish Stainless Steel Watch
এই ঘড়িটি ক্রয় করতে এখানে ক্লিক করুন

কিছু উদাহরণ দেখি৷  সাধারণের চলাচলের পথের ধারে কিছু বানান প্রমাদ আমাদের অহরহ চোখে পড়ে। এসবের মধ্যে ধরা যাক- যদি একটি গাড়ি হয় বিদ্যুৎ বিভাগের বা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তবে সেই গাড়িতে লেখা থাকবে ‘জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহ’, ওষুধ কোম্পানির গাড়ি হলেও অনুরূপ ভুল বানানে লেখা থাকবে ‘জরুরী ঔষধ সরবরাহ’, কিংবা ‘জরুরী রপ্তানী কাজে নিয়োজিত’ ইত্যাদি।

ভাবখানা এমন যে, ‘ঈ-কার’ ব্যবহারপূর্বক সরকারী, জরুরী, কোম্পানী, রপ্তানী, ফার্মেসী, তৈরী, বেশী, কাশী, গরীব, চাকরী, পদবী, ইত্যাদি লিখলে তা শক্তিশালী ও শুদ্ধ হয়। অনেকে তো একুশে ফেব্রুয়ারি কে ” ফেব্রুয়ারী” লেখেন৷

আরও পড়ুন: শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতি

(অথচ বাংলা একাডেমির নিযম  সকল প্রাদেশিক ও বিদেশি শব্দে ঈ-কার না বসে ই-কার বসে। যেমন: শুমারি, আমদানি, খানদানি, খুশকি, খুশি, বন্দি, জংগি, জমি, জরি, জামদানি, জিনজির, জিন্দাবাদ, জিন্দেগি, দরজি, দাগি, বিরিয়ানি, মুরগি, আবির, আমিন, আসামি, গরিব, কেরানি, দাদি, নানি, চাচি, ফুপি, মাসি, ভাবি, কাহিনি, কোম্পানি, জানুয়ারি, সেনচুরি, চৌধুরি, লুংগি।)

শতাব্দীর বিরলপ্রজ ইসলামী গবেষক ও বরেণ্য স্কলার আল্লামা সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সফরকালে কওমি আলেমদের সমাবেশে যে কথা বলেন তা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য, ‘বাংলা ভাষার সাধারণ চর্চা এখন আর যথেষ্ট নয়। এ কাজ সবাই করবেন। এখন কিছু মানুষকে বাংলা ভাষার কর্তৃত্ব হাতে নেয়ার জন্য প্রাণপণ সাধনায় আত্মনিয়োগ করত করতে হবে।

আরও পড়ুন: তারাবির নামাজের দোয়া পড়া কি বিদআত

এটা আলেমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জরুরি, তেমনি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান ও খোদ বাংলা ভাষার জন্যও অপরিহার্য। বাংলা ভাষার শোধন, সংস্কার ও সমৃদ্ধির জন্য এ কাজ খুবই জরুরি। কেননা দীর্ঘ দিন ধরে বাংলা ভাষার কর্তৃত্ব ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীর হাতে; যাদের চিন্তা ও চেতনা এবং জীবন ও চরিত্র কলুষমুক্ত নয়; বরং তারা আকিদা ও চিন্তাগত ভ্রান্তিতে আক্রান্ত। তাদের মাধ্যমে এ ভাষাতেও প্রবেশ করেছে কলুষ ও চিন্তার বিষবাষ্প।

এ জন্য বাংলা ভাষায় রূহ ও রূহানিয়াত এবং প্রাণ ও প্রাণময়তা সৃষ্টি ও সঠিক পরিচর্যার জন্য এমন কিছু মানুষকে প্রাণপণ সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে, যারা সমুন্নত চিন্তাচেতনা এবং পবিত্র রুচি ও আদর্শের অধিকারী। “বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় কোনো পুণ্য নেই, যত পুণ্য সব আরবি আর উর্দুতে”, এ ধারণা বর্জন করুন। এ ধারণা নিছক মূর্খতা। তিনি আরো বলেছিলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে ইসলাম বিরোধীদের দয়া-করুণার ওপর ছেড়ে দেবেন না।

‘ওরা লিখবে আর আপনারা পড়বেন’- এ অবস্থা কিছুতেই বরদাশত করা উচিত নয়’ (১৯৮৪ সালের ১৪ মার্চ জামিয়া ইমদাদিয়া, কিশোরগঞ্জ-এর প্রাঙ্গণে বিশিষ্ট আলেম-উলামা, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ)।

এবারের ফেব্রুয়ারি আমাদের অন্তত এভাবে প্রাণিত করুক যে, আমরা সচেতনভাবে বাংলা বানান ও বাক্য গঠনের ব্যক্তিক আন্দোলনের তরঙ্গে নিজেদের শাণিত করব। পৃথিবীর সব জাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরাও এই তরঙ্গে আন্দোলিত হয়ে উঠুক- তারাও শুদ্ধভাবে স্ব-স্ব মাতৃভাষা চর্চার মাধ্যমে তাদের তার শ্রীবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি সাধনে মগ্ন হবে।

ভাষার শুদ্ধ চর্চায় শুধু নির্দিষ্ট একটি মাস নয়- সব সময়ের নিরন্তর প্রেরণা হোক ফেব্রুয়ারি-একুশে ফেব্রুয়ারি। তাহলেই রফিক জব্বার সালাম বরকতের আত্মোৎসর্গ সার্থক হবে।

শেষ কথা: ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বক্তব্যটি কেমন লাগল? আশা করছি কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন: নিজের ভাই-বোন কে জাকাত দেয়া যাবে কি?

👁️ পড়া হয়েছে: ২ বার

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Print
WhatsApp
LinkedIn
Telegram

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত পোস্ট

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আরাফাহ দিবস কী? আরাফার দিনের রোজার ফজিলত: মুফতি রেজাউল করিম আমরা কেন আরাফাহ দিবসে রোজা রাখি?

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম

সূচিপত্র লুকান কোরবানির পশুর জবেহ করার সময়ের দোয়া: মুফতি রেজাউল করিম মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার সময় বলা যায়: কোরবানি করার আদবসমূহ কোরবানি করার

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম

কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম: Mufti Rejaul Karim

সূচিপত্র লুকান কুরবানির গোস্ত বন্টনের নিয়ম কুরবানীর গোস্ত তিন ভাগ করে বন্টন করা কী জরুরী? প্রশ্ন: আমার স্বামী বিদেশে আছেন এবং তাঁর মা আমার সাথেই

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও মুফতি রেজাউল করিম: একটি রক্তঝরা অধ্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শী

সূচিপত্র লুকান বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে ৫ই মে ২০১৩ একটি অবিস্মরণীয় এবং একইসাথে বেদনাবিধুর দিন। শাপলা চত্বরের ইতিহাস বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার

সূচিপত্র লুকান মুফতি রেজাউল করিম – প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেলার এবার আসুন মুফতি রেজাউল করিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। মুফতি রেজাউল করিম

Digital Product Selling Website | Mufti Rejaul Karim

পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র

সূচিপত্র লুকান পুঁজি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ছোট ব্যবসার আইডিয়া এবং সফল হওয়ার ৩টি মূলমন্ত্র কেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করবেন? পুঁজি ছাড়া ব্যবসার ৩টি মূলমন্ত্র

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ভালোবাসা  দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে

আমার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? চলুন শুরু করা যাক!

50+ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি।  ৪ বছরের অভিজ্ঞতা। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির হার 100% এবং পুনরাবৃত্ত গ্রাহকের হার 70 % । আপনার ব্যবসার জন্য সেরা ওয়েবসাইট  পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।